ঢাকা, বুধবার 11 April 2018, ২৮ চৈত্র ১৪২৪, ২৩ রজব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

ইচ্ছের প্রতিফলন ঘটাতে প্রাণান্তকর প্রচেষ্টা

 

জাফর ইকবাল : জীবনের প্রতি মায়া কার না থাকে! বেঁচে থাকার জন্য মানুষ প্রাণান্তকর চেষ্টা চালিয়ে যায়। তাই বলে কাচের ঘরে ১৩ বছর বসবাস! অপরাধ করলে তার বিচার হবে, সাজা হবে এটাই নিয়ম। কিন্তু তাই বলে বেগুন চুরির মামলা চলবে ৯ বছর ধরে? চাকরী থেকে অবসরের জন্য লিঙ্গ পরিবর্তন? রেস্তোরাকে ঝাকঝমকপূর্ণ রাখার পাশাপাশি ক্রেতা আকৃষ্ট করতে রাখা হয়েছে নানা উদ্যোগ। এবারের আয়োজনে থাকছে এসবই। 

কাঁচের ঘরে ৯ বছর: এক বছর দুই বছর নয়, দীর্ঘ তেরো বছর ধরে একটি জীবাণুমুক্ত কাচের ঘরে বাস করছেন জুয়ানা মুয়াজ। তবে এই স্প্যানিশ নারী স্বেচ্ছায় এই বন্দী জীবন বেছে নেননি। এর মূল কারণ ভয়ংকর রোগের হাত থেকে বেঁচে থাকার লড়াই, পৃথিবীতে বেঁচে থাকার এক প্রাণান্তকর প্রচেষ্টা। প্রায় ২৯ বছর আগে জুয়ানার স্বামী জমি থেকে কয়েকটি আলু তুলে এনে তার হাতে দেন। অন্য আর দশটা স্বাভাবিক দিনের মতো জুয়ানা আলুগুলো পরিষ্কার করছিলেন। কিন্তু হঠাৎ তিনি লক্ষ্য করলেন তার ঠোঁট ও চোখের পাতা ক্রমশ ফুলে যাচ্ছে। কিছুক্ষণের মধ্যে তার সমগ্র শরীর ফুলে যায়। হাসপাতালে ভর্তি করা হয় তাকে। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর ডাক্তার জানালেন মাল্টিপল কেমিক্যাল সেন্সিভিটি, ফিব্রোম্যালজিয়া ক্রনিক ফ্যাটিগ এবং ইলেক্ট্রোসেন্সিভিটির মতো ভয়ংকর রোগ বাসা বেঁধেছে তার শরীরে। সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে, এই সবকটি রোগ তার শরীরে এসেছে ওই আলুর সংস্পর্শে। কারণ ওই আলুতে বছর দুয়েক আগে নিষিদ্ধ কীটনাশক ছিটানো হয়েছিল। এরপর থেকেই জুয়ানার কষ্টের জীবনের শুরু। তার শরীর ক্রমশ দুর্বল হয়ে যেতে শুরু করে। সারা শরীরে হতে থাকে ভয়াবহ যন্ত্রণা এবং অ্যালার্জি। এছাড়া তার শরীরে রাসায়নিকের তীব্র প্রতিক্রিয়া শুরু হয়। যেকোনো রাসায়নিক, সেটা হোক সাবান কিংবা টুথপেস্টের সংস্পর্শ, তার শরীরে অসহ্য চুলকানি শুরু হতো। আর এভাবেই একটু একটু করে বাইরের পৃথিবী তার কাছে বিষাক্ত হয়ে উঠতে থাকে। বেঁচে থাকার তাগিদেই তাকে আশ্রয় নিতে হয় বিশেষভাবে তৈরি পঁচিশ মিটার দৈর্ঘ্যের ছোট কাচের ঘরে। গত ১৩ বছর জুয়ানা এই ঘরেই আছেন। বছরে একবার তিনি এই ঘর থেকে বের হন। হাসপাতালে যান শারীরিক পরীক্ষার জন্য। তবে কয়েক ঘণ্টার মধ্যে তাকে কাচের ঘরে ফিরে আসতে হয়। কারণ কাচের ঘরে তিনি যতটা ভালো থাকেন ততটাই খারাপ থাকেন বাইরে। স্বামী সন্তান কাউকে তিনি স্পর্শ করতে পারেন না। কারণ কাউকে যদি তার ঘরে ঢুকতে হয় তবে বেশ কয়েক সপ্তাহ ধরে প্রস্তুতি নিয়ে সম্পূর্ণ রাসায়নিকমুক্ত পানিতে গোসল করে রাসায়নিকমুক্ত কাপড় পরিধান করে নিতে হয়। ফলে একরকম সব কিছু থেকেও না থাকার মতো বিচ্ছিন্ন জীবন কাটাতে হয় তাকে। সারাদিন স্বচ্ছ কাচের ঘর থেকে জুয়ানা বাইরের অপূর্ব সুন্দর পৃথিবী দেখেন। দেখেন তার পরিবারের সদস্যদের হাসি আর আনন্দ। তবে তিনি কোনো কিছুতেই অংশ নিতে পারেন না। জুয়ানার বিশ্বাস কোনো একদিন তার শরীরের সব রোগ ভালো হয়ে যাবে এবং তিনি আবারো সুস্থ স্বাভাবিক মানুষের মতো সবার সঙ্গে মিশতে পারবেন, বুকে জড়িয়ে ধরতে পারবেন তার প্রিয় স্বামী ও সন্তানদের।

বেগুন চুরির মামলা: সমাজে ঘটে যাওয়া নানা অন্যায়ের বিচার করা হয় আদালতে। সাধারণত বড় বড় অপরাধের বিচারের জন্য মানুষ আদালতের দ্বারস্থ হয়ে থাকেন। কিন্তু ইতালির একটি আদালতে নয় বছর ধরে চলেছে বেগুন চুরির মামলা। বেগুন চুরির দায়ে অভিযুক্ত ব্যক্তির বসবাস ইতালির দক্ষিণাঞ্চালীয় লিস শহরের উপকণ্ঠে। স্ত্রী এবং এক সন্তান নিয়ে অত্যন্ত টানাটানির সংসার তার। একবেলা খাবার জোটে তো অন্য বেলা উপোস। ক্ষুধার তাড়নায় একদিন সাত পাঁচ না ভেবে একজনের বেগুনের জমিতে ঢুকে পড়েন। মালিকের অগোচরে কিছু বেগুন নিয়ে সটকেও পড়েন। তবে মালিকের কাছে ধরা না খেলেও পুলিশের কাছে ঠিকই ধরা খায় ওই ব্যক্তি। ঘটনাটি ঘটেছিল আজ থেকে প্রায় নয় বছর আগে। ঘটনার পর পুলিশ বাদি হয়ে ওই ব্যক্তির নামে নিম্ন আদালতে মামলা করে। আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে এই ব্যক্তি তার কষ্টের জীবনের কথা উল্লেখ করেছিলেন। পাশাপাশি জানিয়েছিলেন, কর্মহীন হওয়ায় ও তার ঘরে কোনো খাবার না থাকায় তিনি সবজি চুরি করতে গিয়েছিলেন। কিন্তু বেগুন চুরি করেননি। এই ব্যক্তির দুঃখের কথা শুনে মন গলে নিম্ন আদালতের বিচারকের। যদিও একশ বিশ ইউরো (১ইউরো=১০৫ টাকা) জরিমানা করা হয় তাকে সঙ্গে দেয়া হয় দুই মাসের জেল। তবে এই শাস্তিতে খুশি হয়নি স্থানীয় লিগ্যাল কাউন্সিল। তারা উচ্চ আদালতে এ বিষয়ে আপিল করে। এরপর নানা প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে মামলাটি গড়িয়েছে নয় বছর। অবশেষে মামলাটির নিষ্পত্তি হয়েছে। অভিযুক্ত ব্যক্তিটি চুরির কথা স্বীকার করে নেওয়ার ফলে উচ্চ আদালত তার সাজা মওকুফ করে দিয়েছে। এছাড়া তার মানবিক দিকের কথা বিবেচনা না করে জনগণের করের টাকায় দীর্ঘদিন ধরে মামলা পরিচালনা করার জন্য নিম্ন আদালতকে তীব্র ভৎর্সনা করেছে।

লিঙ্গ পরিবর্তন?: বর্তমান বিশ্বে লিঙ্গ পরিবর্তন নতুন কিছু নয়। এমন ঘটনা ঘটছে অহরহ। কিন্তু এবার আর্জেন্টিনায় ঘটেছে এক অদ্ভুত কা-। দক্ষিণ আমেরিকার দেশটিতে এক ব্যক্তি সরকারি চাকরি থেকে তাড়াতাড়ি অবসর নিতে লিঙ্গ পরিবর্তন করে নারীতে রূপান্তরিত হয়েছেন। ওই ব্যক্তির নাম সার্জিও লাজারোভিচ। লিঙ্গ পরিবর্তনের পর নাম রেখেছেন সার্জিয়া লাজারোভিচ। আর্জেন্টিনায় সরকারি অনুমোদন সাপেক্ষে লিঙ্গ পরিবর্তন আইনগতভাবে বৈধ।

জানা গেছে, আর্জেন্টিনায় চাকরিজীবী পুরুষদের অবসরের বয়সসীমা ৬৫ বছর। আর নারীদের জন্য তা ৬০ বছর। পাঁচ বছর আগে অবসর নিতেই লিঙ্গ পরিবর্তন করেছেন এই ব্যক্তি, যা দেশটিতে রীতিমতো হইচই ফেলে দিয়েছে। বিষয়টি গণমাধ্যমের নজরে এনেছেন সার্জিয়ার একজন আত্মীয়। নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় এক পত্রিকায় এই আত্মীয় বলেন, ‘লিঙ্গ পরিবর্তনের আগে কখনই সে (সার্জিয়া) পুরুষদের প্রতি আকৃষ্ট ছিল না। তার জীবনে অনেকের সঙ্গেই সম্পর্কে জড়িয়েছে সে। এগুলোর সবই ছিল নারী। এমন কি স্ত্রীর সঙ্গে ২৫ বছরের সংসার জীবনের ইতি টানার আগে তাদের কোলজুড়ে এসেছে দুটি কন্যা সন্তান। বিচ্ছেদের পরও সে অনেকের সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়েছে। এরাও সবাই নারী ছিল। তাছাড়া জীবনে সে বহুবার সমকামী ও তৃতীয় লিঙ্গের বিরুদ্ধে নানা ধরনের কটুক্তিও করেছে।’ তিনি বলেন, ‘সার্জিয়ার মতে নারীরা পুরুষদের চেয়ে ৫ বছর আগে অবসর পাবে, এটা অন্যায়। সে সব সময়ই বন্ধু ও আত্মীয়দের কাছে এমন অভিযোগ করে আসছিল। এটি এক ধরনের বৈষম্য। এর বিরুদ্ধে আইনজীবীর পরামর্শে আদালতে মামলাও করেছে। কিন্তু মামলায় জয়ী হবে কি না তার কোনো নিশ্চিয়তা নেই। ফলে এই সুবিধা নিতে সে নিজের লিঙ্গ পরিবর্তন করেছে।’ তবে অবসরে সুবিধার নেয়ার বিষয়টি নাকচ করে দিয়েছেন সার্জিয়া। তিনি বলেছেন, ‘চাকরি থেকে তাড়াতাড়ি অবসর নেয়ার জন্য তিনি লিঙ্গ পরিবর্তন করেননি। এটি করেছেন সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত কারণে, যা তিনি প্রকাশ্যে আনতে চাইছেন না।’

রেস্তোরাঁ মালিকের কান্ড: ক্রেতা আকৃষ্ট করতে ক্যাফে বা রেস্তোরাঁর মালিকরা নানা রকম পথ বেছে নেন। এ জন্য তারা ক্রেতাদের সামনে নিয়ে আসেন অভিনব বিষয়বস্তু। ‘ক্যাট ক্যাফে’, ‘টয়লেট ক্যাফে’সহ নানা রকম অদ্ভুত রেস্তোরাঁর কথা অনেকই শোনা যায়। তবে থাইল্যান্ডের একটি ক্যাফে তার নামে এবং বিষয়বস্তুতে অন্য সবগুলোকে ছাড়িয়ে গেছে। রাজধানী ব্যাংককের উপকণ্ঠে মৃত্যুর বিষয়বস্তুকে কেন্দ্র করে তৈরি এই ক্যাফে। নাম ডেথ ক্যাফে বা মৃত্যু ক্যাফে। 

মৃত্যুর সকল অনুসঙ্গ নিয়ে সাজানো এই ক্যাফের খাবারের নামগুলোও ভীতিকর। যন্ত্রণা, ব্যাথা, অসুখ, মৃত্যু এসব নামেই সাজানো হয়েছে খাবারের তালিকা। মৃত্যুর পর যেসব ফুল দিয়ে মৃত ব্যক্তিকে শ্রদ্ধা জানানো হয় সেই সব ফুল দিয়েই সাজানো হয়েছে ক্যাফের চারপাশ। শুধু তাই নয়, দেয়ালে লেখা রয়েছে, ‘মৃত্যুর পর কিছুই সঙ্গে নিতে পারবে না’ কিংবা ‘তুমি কি মৃত্যুর জন্য প্রস্তুত?’ ইত্যাদি বাণী।

এক প্রান্তে রাখা হয়েছে একটি কফিন। বিশ থাই বাথের বিনিময়ে যে কেউ চাইলে এই কফিনে শুয়ে মৃত ব্যক্তির অনুভূতি নিতে পারবে। এত কিছু থাকতে মৃত্যুকেই কেন বিষয়বস্তু হিসেবে নেয়া হয়েছে, এমন প্রশ্নের উত্তরে ক্যাফের উদ্যোক্তা কিড মেই স্থানীয় এক সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘এটি একটি মৃত্যু সচেতনতা ক্যাফে। এখানে এসে মানুষ সেই শিক্ষাই পাবে যার দ্বারা সে তার জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত উপভোগ করবে।’

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ