ঢাকা, বুধবার 11 April 2018, ২৮ চৈত্র ১৪২৪, ২৩ রজব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

খুলনাসহ চার জেলায় বোরো ধান  এবারও ‘ব্লাস্ট’ রোগে আক্রান্ত

 

খুলনা অফিস : খুলনা, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট ও নড়াইল জেলার ২৬২ হেক্টর জমিই এখন ‘ব্লাস্ট’ রোগে আক্রান্ত হয়েছে। এতে উৎপাদন কিছুটা ব্যাহত হবে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এদিকে, ব্লাস্টের উৎস হিসেবে দশ জাতের ধানের বীজকে শনাক্ত করেছে কৃষি বিভাগ। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের স্থানীয় কার্যালয় থেকে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সরেজমিন উইং পরিচালকের কার্যালয়ে পাঠানো এক প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।

অধিদপ্তরের খুলনার অতিরিক্ত পরিচালক নিত্য রঞ্জন বিশ্বাসের পাঠানো প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, খুলনায় ২৩৭ হেক্টর, বাগেরহাটে ২৫ হেক্টর জমিতে ব্লাস্ট আক্রমণ করেছে। এ আক্রমনের পেছনে উৎস হিসেবে বলা হয়েছে, বিএডিসি’র ব্রি ধান-২৮, ব্রি ধান-১০, ব্রি ধান-৫৮, ব্রি ধান-৬৭, বেসরকারি কোম্পানির হীরা-৪, তেজগোল্ড, সিনজেনটা-১২০১, সিনজেনটা-১২০৩ ও ময়না জাতের ধান।

স্থানীয় অপর একটি সূত্র উল্লেখ করেছে, সাতক্ষীরার তালা, কলারোয়া, নড়াইলের কালিয়া ও লোহগড়ায় ৩৪ হেক্টর জমিও ‘ব্লাস্ট’ আক্রান্ত। 

এদিকে চলতি বোরো মওসুমে সমগ্র ডুমুরিয়া উপজেলার অধিকাংশ বিলে ব্লাস্ট রোগের প্রাদুর্ভাব ছড়িয়ে পড়েছে। মহামারি আকার ধারণ না করলেও অসংখ্য চাষির মাথায় হাত উঠেছে। প্রধানত ব্রি-২৮ জাতের ধানেই ব্লাস্ট’র আক্রমন ঘটেছে। তবে উপজেলা কৃষি অফিস সামান্য ক্ষতির কথা বললেও ক্ষতি ছোট নয়।

উপজেলার বিভিন্ন বিলে সরেজমিনে ধান চাষিদের সঙ্গে ও কৃষি অফিসে কথা বলে জানা গেছে, চলতি মওসুমে উপজেলার ২১ হাজার ৪৫০ হেক্টর জমিতে কৃষকরা বিভিন্ন জাতের বোরো ধানের চাষ করেছেন। যেখানে এক লক্ষাধিক মেট্রিক টন ধান উৎপন্ন হওয়া কথা। কিন্তু ফলনের মুখে ব্লাস্ট রোগের আক্রমনে অসংখ্য ধান ক্ষেতে কাঁচা ধানের বাইল’র মধ্যে হঠাৎ করে কিছু জমির ধানের বাইল সুকিয়ে মরে যাচ্ছে। ফলে কৃষকরা বিপুল পরিমাণ টাকা ও শ্রম দিয়ে যে ধান চাষ করেছে তা থেকে প্রত্যাশিত ফলন পাবেন না। 

উপজেল কৃষি অফিস সূত্রে আরও জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে ডুমুরিয়া অঞ্চলের চাষিরা ব্লাস্ট রোগ সহিষ্ণু, দেখতে ও খেতে ভালো ব্রি-২৮ জাতের ধান চাষ করে আসছিলো। কিন্তু গত বছর সমগ্র ডুমুরিয়ায় ব্লাস্ট মহামারি আকার ধারণ করায় চাষিরা মারাত্মক ক্ষতির শিকার হন। আর সে কারণেই ডুমুরিয়া তথা দক্ষিনাঞ্চলের চাষিরা চলতি বছর ২৮ জাতের পরিবর্তে বিভিন্ন জাতের হাই-ব্রিড ধান বেশি-বেশি চাষ করেছেন। আর যারা ব্রি-২৮ চাষ করেছে তাদের ৯০ শতাংশই ব্লাস্টে আক্রান্ত হয়েছে। তাছাড়া অন্য জাতের কিছু কিছু ধানও আক্রান্ত হয়েছে। ফলে ব্লাস্টের ভয়ে সমগ্র দক্ষিণাঞ্চল জুড়ে বোরো ধান চাষ হুমকির মুখে পড়তে পারে। 

উপজেলা কৃষি অফিস স্বীকার করেছে, সমগ্র উপজেলার বিভিন্ন বিলের ধানে অল্প-অল্প ব্লাস্ট রোগের আক্রমন হয়েছে। তারমধ্যে উপজেলার ধামালিয়া ইউনিয়নের চেচুড়ি বিল, রঘুনাথপুর ইউনিয়নের বিল পাটিয়ালা, রুদাঘরা ইউনিয়নের মাঝেরপাড়া বিল, খর্ণিয়া ইউনিয়নের টিপনা বিল, আটলিয়া ইউনিয়নের মালতিয়া-চুকনগর বিল, মাগুরাঘোনা ইউনিয়নের বাদুড়িয়া-ঘোষড়া বিল, শোভনা ইউনিয়নের বলাবুনিয়া, শরাফপুর ইউনিয়নের কেয়াখালি-ঝালতলা বিল, সাহস ইউনিয়নের নোয়াকাঠি বিল, ভান্ডারপাড়া ইউনিয়নের চাত্রা বিল, ডুমুরিয়া সদর ইইনয়নের মিরেখালি, খলশী বিল, রংপুর ইউনিয়নে রামকৃষ্ণপুর বিল, গুটুদিয়া ইউনিয়নে ধাইগ্রাম-বিলপাবলা বিলসহ অসংখ্য বিলে অল্প-বিস্তার আকারে ব্লাস্ট রোগের আক্রমন ছড়িয়ে পড়েছে।

নড়াইল জেলার উপ-পরিচালক চিন্ময় রায় ও সাতক্ষীরা জেলার উপ-পরিচালক আব্দুল মান্নান জানান, ব্লাস্টে আক্রান্ত জমির মালিকদের নাটিভো, এডিফেন নামক ছত্রাক নাশক ব্যবহারের পরামর্শ দেয়া হয়েছে। 

কৃষি কর্মকর্তা জাকিয়া সুলতানা বলেন, ‘আমরা কৃষকদেরকে ট্রপার, দিপা সালফাইটার দেয়ার পরামর্শ দিচ্ছি। আর যে সব জমিতে এখনো দেখা দেয়নি সেসব জমিতে নাটিভো, সেলটিমা, ফিলিয়া স্প্রে করার পরামর্শ দিচ্ছি।’

খুলনার অতিরিক্ত পরিচালক জানান, খুলনার ডুমুরিয়া ও অন্যান্য স্থানে আক্রান্ত হওয়ার পর নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে।

বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনিস্টিটিউটের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মামুনুর রহমান বলেন, আমি ব্লাস্ট রোগের প্রাদুর্ভাব দেখতে ডুমুরিয়া উপজেলার বিভিন্ন অঞ্চলে ঘরে সামান্য পরিমাণে ব্লাস্টের আক্রমন দেখেছি। তাছাড়া কয়েকটি এলাকায় লবণাক্ততার প্রভাবে ধান মরতে দেখেছি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ