ঢাকা, বুধবার 11 April 2018, ২৮ চৈত্র ১৪২৪, ২৩ রজব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

চুয়াডাঙ্গায় খাল খননের নামে টাকা আত্মসাত ॥ খনন বন্ধ

চুয়াডাঙ্গা সংবাদদাতা: চুয়াডাঙ্গায় শর্ত ভেঙ্গে ইচ্ছামতো নামকাওয়াস্তে খাল খনন করে লাখ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার খাল খননের কাজ বন্ধ করে দিয়েছেন। 

অভিযোগে জানা গেছে, চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার তিতুদহ ইউনিয়নের গহেরপুর গ্রামের কামরিয়া-পাকশিয়া পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতি খাল খনন করে বর্ষা মওসুমে কামরিয়া বিলের পানি নিষ্কাশন করতে বিভিন্ন শর্তে ২ কি.মি. খাল খননের জন্য ৬৫ লাখ ৭৬ হাজার ৬শত ১১ টাকা বরাদ্ধ পায়। যেখানে ২নং শর্তে ১৫টি এলসিএস দল গঠন পূর্বক চুক্তি স¤পাদন করা, ৫নং শর্তে কাজটি পরিবেক্ষণের জন্য পর্যবেক্ষণ কমিটি গঠন করা, ৬নং শর্তে কাজ শুরুর পূর্বে কাজের স্থলে সাইনবোর্ড টাঙানো এবং সাইড অর্ডার বহি রাখা, ৭নং শর্তে ৩০ এপ্রিলের মধ্যে কাজ শেষ করে যথাযথ দফতরকে জানানো। শর্ত পূরণের ধার না ধেরে ঢাকা থেকে ড্রেজার মেশিন ভাড়া করে এনে গত ২৯ মার্চ খাল কাটার কাজ শুরু করে সমিতির সভাপতি। কামরির বিলে যাদের জমি আছে তাদের অনেকেই অভিযোগ করে বলেন, মালিকানা জমিতে বর্তমানে অনেক পুকুর হয়ে গেছে। যেখানে মাছ চাষ হয়। যে খাল কাটা হচ্ছে সে খালের ওপর ৬টি ব্রিজ এবং ১টি সুইজ গেট আছে। তিন থেকে সাড়ে তিন ফিট খাল খনন করা হচ্ছে। ব্রিজের নিচে খনন হবে কীভাবে ? তাহলে কি ৬টি ব্রিজ ভেঙে নতুন করে কি ব্রিজ তৈরি হবে ? সব চেয়ে বড় কথা বর্ষা মওসুমে বিলের পানি যে খাল দিয়ে চিত্রা নদীতে যাবে সে চিত্রা নদী এখন মৃত প্রায়। চিত্রা নদী খনন না করে খাল খনন করা আর বরাদ্দের টাকা পানিতে ফেলা সমান। নিচের পানি তো আর ওপরে যাবে না বরং খাল খননের ফলে চিত্রার পানি খাল দিয়ে কামরির বিলে ঢোকার সম্ভাবনা রয়েছে। এ খাল খননের ফলে জনগণের কোনো উপকার না হলেও কতিপয় ব্যক্তি লাভবান হবে। 

উপজেলা নির্বাহী অফিসার ওয়াশীমুল বারী জানান, অভিযোগ পাবার পরই মোবাইলে খাল খনন বন্ধ রাখতে বলেছি। বিষয়টি সরেজমিনে দেখার জন্য মঙ্গলবার দুপুরের দিকে ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম। এসময় উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সাথে ছিলেন সদর উপজেলা প্রকৌশলী, এসিল্যান্ড ও তিতুদহ ইউপি চেয়ারম্যান আকতার হোসেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ