ঢাকা, বুধবার 11 April 2018, ২৮ চৈত্র ১৪২৪, ২৩ রজব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

তানিয়া ও তার স্বামীর জবানবন্দী

সিলেট ব্যুরো : সিলেটের বহুল আলোচিত মা-ছেলে খুনের ঘটনায় গ্রেফতারকৃত তানিয়া ও তার স্বামী মামুন গত সোমবার রাতে ১৬৪ ধারায় আদালতে জবানবন্দী দিয়েছে। আদালত সূত্রে জানা যায়, রাতের খাবারের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে অচেতন করা হয় রোকেয়া ও তার ছেলে রোকনকে। এরপর রাত আনুমানিক ২টার দিকে রোকেয়ার গলায় ছুড়ি চালায় মামুন। এরপর রোকেয়ার ছেলে রোকনকে ছুরিকাঘাত করে তানিয়া ও মামুন। পাঁচ বছর বয়সী মেয়ে রাইসাকে মুখে চাপা দিয়ে মৃত ভেবে মনে করে বাসা ত্যাগ করে তানিয়া ও তার স্বামী মামুন। আর এসবের পেছনে রয়েছে নারী ও মাদক নিয়ে বিরোধ।

সিলেট নগরীর মিরাবাজারের খারপাড়ায় মা-ছেলে খুনের ঘটায় নিজেদের জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে এভাবেই জবানবন্দী দিয়েছেন তানিয়া দম্পতি। তাদের জবানবন্দীতে উঠে এসেছে এই জোড়া খুনের নেপথ্যে অনেক চাঞ্চল্যকর তথ্য। সোমবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে তানিয়া ও মামুন মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট হরিদাস কুমারের আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দী দেয় বলে জানিয়েছেন এসএমপি পুলিশের সহকারী কমিশনার (প্রসিকিউশন) অমূল্য কুমার চৌধুরী। গত সোমবার সন্ধ্যায় আসামীদের কোতোয়ালী থানায় হস্তান্তর করে পিবিআই। পরে পুলিশ রাতে তাদেরকে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দী গ্রহণের জন্য আদালতে নিয়ে যায়। জবানবন্দীতে তারা জানায়, রোকেয়া বেগম ও তার ছেলে রবিউল ইসলাম রোকনকে অচেতন করে হত্যা করে তারা। এ সময় তারা স্বামী-স্ত্রী মিলে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করে হত্যা করে মা ও ছেলেকে। তাদের হত্যার পরিকল্পনায় ছিলো রোকেয়ার পরিবারের সবাইকে মেরে ফেলা। ভাগ্যবশত বেঁচে যায় শিশু রাইসা। পরিকল্পনা অনুযায়ী গত ৩০ মার্চ বিকেলে ঝড়ের সময় তার স্বামী মামুনকে নিয়ে রোকেয়ার বাসায় যায় তানিয়া। রাতের খাবারের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে অচেতন করে। রাত আনুমানিক ২টার দিকে মামুন ছোরা মারে রোকেয়ার গলায়। মৃত্যু নিশ্চিত করতে রোকেয়ার শরীরে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করে। এরপর তারা রোকেয়ার ছেলে রোকনকে ছুরিকাঘাত করে।

আসামীদের স্বীকারোক্তির বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, তানিয়া আক্তার দুই বছর আগে সিলেটে হজরত শাহজালাল (র.)-এর মাজারে আসেন। এখানেই পরিচয় হয় রোকেয়া বেগমের সাথে। পাশাপাশি দেখা হয় মামুনের সাথেও। পরে রোকেয়া বেগম কুমিল্লা থেকে আসা তানিয়াকে বোন বানিয়ে সিলেটে রেখে দেন। এদিকে, মামুনের সাথেও তার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। এর কয়েক দিন পরই মামুনের সাথে তানিয়ার বিয়ে হয়। বিয়ের পর স্বামী-স্ত্রী আলাদা আলাদা বসবাস করতেন। এদিকে রোকেয়া তানিয়াকে নিষিদ্ধ পথে নামান। আর একথা স্বামী মামুনকে জানালে রোকেয়া বেগমকে হত্যার পরিকল্পনা করেন তারা। এর অংশ হিসেবে গত ৩০ এপ্রিল রাত ৮টার দিকে তানিয়া ও মামুন রোকেয়ার বাসায় যান। পরে রাতের খাবারের সাথে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে পরিবারের সবাইকে অচেতন করা হয়।

উল্লেখ্য, গত ১ এপ্রিল নগরীর মিরাবাজারের খারপাড়া মিতালী আবাসিক এলাকার ১৫/জে নম্বর বাসায় রোকেয়া বেগম (৪০), তার ছেলে রবিউল ইসলাম রোকনের (১৭) গলাকাটা লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ সময় রোকেয়ার সাড়ে ৩ বছর বয়সী মেয়ে রাইসাকে উদ্ধার করা হয়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ