ঢাকা, বুধবার 11 April 2018, ২৮ চৈত্র ১৪২৪, ২৩ রজব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

বিএনপিকে নির্বাচন থেকে দূরে রাখতে  বেগম জিয়াকে জেলে দেয়া হয়েছে

 

কবির আহমদ, সিলেট : বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য, সাবেক মন্ত্রী ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন আওয়ামী লীগ সরকারকে অবৈধ, অগণতান্ত্রিক এবং স্বৈরাচার আখ্যা দিয়ে বলেছেন, এবার বিএনপিকে বাইরে রেখে দেশে কোনো নির্বাচন হবে না। দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় দল বিএনপিকে নির্বাচন থেকে দূরে রাখতে বেগম জিয়াকে জেলে ঢুকানো হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে সিলেটের ঐতিহাসিক রেজিস্টার মাঠে বিএনপির সিলেট বিভাগীয় সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

দলের চেয়ারপার্সন তিন বারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে এ সমাবেশের আয়োজন করে সিলেট জেলা ও মহানগর বিএনপি। সমাবেশ উপলক্ষে সকাল থেকেই খন্ড খন্ড মিছিল নিয়ে রেজিস্টার মাঠে আসেন দলীয় নেতাকর্মীরা। বিভাগীয় নগরী ছিল যেন গতকাল মিছিলের নগরী। গণতন্ত্রের মা বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে বিভিন্ন পাড়া-মহল্লা থেকে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের সাথে সাধারণ মানুষও যোগ দেয় সমাবেশে। তিনটার মধ্যে সমাবেশ স্থল কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে উঠে। ‘আমার নেত্রী আমার মা জেলে থাকতে দেব না, শেখ হাসিনা সৈরাচার এই মুহূর্তে বাংলা ছাড়, খালেদা জিয়ার সরকার এই মুহূর্তে দরবার,  স্লোগানে স্লোগানে মুখরিত হয় সমাবেশ স্থলের আশপাশ এলাকা। 

সিলেট মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসাইনের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মীর্জা আব্বাস, গয়েশ^র চন্দ্র রায়, ড. মঈন খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, কেন্দ্রীয় যুগ্ম সম্পাদক শাহজাহান খান, বিএনপির চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা ইনাম আহমদ চৌধুরী, ড. এনামুল হক চৌধুরী, খন্দকার মুক্তাদির, বিএনপির উপদেষ্টামন্ডলীর সদস্য জয়নাল আবেদীন ফারুক, প্রচার সম্পাদক শহিদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যনি, সাংগঠনিক সম্পাদক শাখাওয়াত হোসেন জীবন, স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর শরাফত আলী সফু, সমবায় বিষয়ক সম্পাদক ও হবিগঞ্জের পৌর মেয়র জিকে গৌছ, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক দিলদার হোসেন সেলিম, সাবেক এমপি কলিম উদ্দিন আহমদ মিলন, শফিকুল ইসলাম বাবুল, সহ-ক্ষুদ্রঋণ বিষয়ক সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক, সাবেক এমপি শাম্মী আখতার, সিলেট সিটি মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী, সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি আবুল কাহের শামীম, মৌলভীবাজার জেলা বিএনপির সভাপতি নাসের রহমান, কেন্দ্রীয় সদস্য শফি আহমদ চৌধুরী, মহানগর বিএনপির সাবেক সভাপতি শাহরিয়ার আহমদ চৌধুরী, কেন্দ্রীয় সদস্য নাসের রহমান, মিজানুর রহমান মিজান, হাদিয়া চৌধুরী মুন্নি, চিত্রনায়ক হেলাল খান, জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি নুরুল হক প্রমুখ।

জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলী আহমদ ও নগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বদরুজ্জামান সেলিমের যৌথ পরিচালনায় সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. মোশাররফ বলেন, সরকার জনগণকে ভয় পায়। তাই রাষ্ট্রের তিনটি স্তম্ভ আইন, বিচার ও নির্বাহী বিভাগকে ধ্বংস করে দিয়েছে। সরকারের ভয়ে প্রধান বিচারপতি দেশত্যাগে বাধ্য হয়েছেন। এই সরকারকে ইতোমধ্যে স্বৈরাচারী সরকার হিসেবে অভিহিত করেছে আন্তর্জাতিক গোষ্ঠী। তিনি বলেন, বেগম জিয়া কারাগারে থেকে তিনি এখন শুধু দেশনেত্রী নয়, বিশ্বনেত্রী হয়েছেন। তার প্রেপ্তারের পর জাতিসংঘসহ বিশ্বনেতারা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। 

সাবেক এ মন্ত্রী আরো বলেন, ইতিহাস বলে স্বৈরাচার বেশিদিন টিকে থাকতে পারে না। একসময় স্বৈরাচারের পতন হয়। এই সরকারের পতন হবেই। চলমান কোটা সংস্কার আন্দোলকে যৌক্তিক মন্তব্য করে খন্দকার মোশাররফ বলেন, এই আন্দোলনে সরকার পুলিশ লেলিয়ে দিয়েছে। বিএনপির ভিশন ২০২০-৩০ এ মুক্তিযোদ্ধা ও নৃতাত্বিকদের কোটা ছাড়া অন্য কোটাগুলো বাদ দেওয়া হয়েছে। রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ থাকা বিএনপির সাবেক কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও সিলেট জেলা সভাপতি এম. ইলিয়াস আলীকে স্মরণ করে তাঁর অভাব অনুভবের কথা নিজের বক্তৃতায় উল্লেখ করেন মোশাররফ। তিনি আগামী সংসদ নির্বাচনে সেনা মোতায়েনের দাবি জানান। সমাবেশে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর যোগ দেয়ার কথা থাকলেও মায়ের অসুস্থতার কারণে তিনি আসতে পারেননি বলে জানানো হয়।

র‌্যাব-পুলিশকে ব্যারাকে রেখে আসুন রাজপথে : পুলিশ- র‌্যাবকে ব্যারাকে রেখে আওয়ামী লীগকে রাজপথে আসার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান। তিনি বলেন, রাজপথে লড়াইয়ে আসুন। পুলিশ-র‌্যাবকে ব্যারাকে রেখে। তাহলেই বোঝা যাবে কার শক্তি বেশি, জনগণ কার সঙ্গে আছে? এসময় তিনি প্রশাসনের সহযোগিতা ছাড়া বিএনপির বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ রাজপথে এক মিনিটও দাঁড়াতে পারবে না বলেও মন্তব্য করেন। গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে সিলেট নগরীর রেজিস্ট্রারি মাঠে বিভাগীয় মহাসমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। দলের চেয়ারপার্সনের মুক্তির দাবিতে ‘শান্তিপূর্ণ’ আন্দোলন কর্মসূচির অংশ হিসেবে সিলেটে এ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।

ড. আব্দুল মঈন খান বলেন, আজকের পার্লামেন্ট জনপ্রতিনিধিত্ববিহীন। এই সরকারের কোনো ভিত্তি নেই। তাই তারা ক্ষমতাকে কুক্ষিগত করতে দেশনেত্রী খালেদা জিয়াকে মিথ্যা মামলায় গ্রেফতার করে সাজা দিয়েছে। সরকার ক্ষমতাকে দীর্ঘস্থায়ী করতে মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষ-বিপক্ষের কথা বলে বিভক্তি সৃষ্টি করছে। ‘আপনাদের মনে রাখতে হবে স্বাধীনতা যুদ্ধের পক্ষের শক্তি জাতীয়তাবাদ ছিল। খুঁজতে গেলে আওয়ামী লীগে মুক্তিযুদ্ধের শক্তি পাওয়া যাবে না। সুতরাং এসবের দোহাই দিয়ে ক্ষমতাকে দীর্ঘস্থায়ী করা যাবে না। এদেশের জনগণ খালেদা জিয়াকে মুক্ত করে তার নেতৃত্বে গণতন্ত্রকে পুনরুদ্ধার করবে।’

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ