ঢাকা, বুধবার 11 April 2018, ২৮ চৈত্র ১৪২৪, ২৩ রজব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

বিদ্যুৎ সঞ্চালনের উন্নয়নে ১০ হাজার ৯৮২  কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদন

স্টাফ রিপোর্টার: জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) আজ রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ সঞ্চালনের জন্য অবকাঠামোর উন্নয়নে ১০ হাজার ৯৮২ কোটি টাকার একটি প্রকল্প অনুমোদন করেছে।

একনেক চেয়ারপার্সন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে শেরেবাংলানগরে এনইসি’র চলতি অর্থবছরের ২২তম সভায় এ অনুমোদন দেয়া হয়।

 বৈঠক শেষে পরিকল্পনামন্ত্রী আ ন হ মুস্তফা কামাল সাংবাদিকদের ব্রিফকালে বলেন, বৈঠকে ১৫,৬৮৩ দশমিক ২৪ কোটি টাকায় মোট ১৬টি প্রকল্পের অনুমোদন দেয়া হয়।

 মোট প্রকল্প ব্যয়ের ৫,৭০৭ দশমিক ৯৭ কোটি সরকারি তহবিল, ১,২৩৫ দশমিক শূন্য ৭ কোটি টাকা প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব তহবিল এবং অবশিষ্ট অর্থ প্রকল্প সহায়তা খাত থেকে জোগান দেয়া হবে।

পরিকল্পনমন্ত্রী বলেন, বিদ্যুৎ বিভাগের পাওয়ার গ্রিড লিমিটেড (পিজিসিবি) ২০২২ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে ১০,৯৮১ দশমিক ৭৫ কোটি টাকার প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে।

২০১৫ সালের ২৫ ডিসেম্বর রূপপুরে দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনে বাংলাদেশের আণবিক শক্তি কমিশন এবং রাশিয়ার রোসাটম’র মধ্যে ১২ দশমিক ৬৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের চুক্তি হয়। এ কেন্দ্রের দুই ইউনিটের মধ্যে ১২শ’ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন প্রথম ইউনিটের উৎপাদন ২০২২ সালের অক্টোবর এবং অপর ১২শ’ মেগাওয়াটের ইউনিটের উৎপাদন ২০২৩ সালের মধ্যে শুরু হবে।

এই প্রকল্পে সরকর ১,৫২৭ দশমিক ৬৪ কোটি, পিজিসিবি ১,২৩৫ দশমিক ৭৫ কোটি এবং ভারত থেকে ঋণ হিসেবে ৪,২১৯ দশমিক শূন্য ৪ কোটি টাকা দেয়া হবে।

বিদ্যুৎ বিভাগের একজন কর্মকর্তা বলেন, এই বিদ্যুৎ সঞ্চালন অবকাঠামো প্রকল্প ৩ বিভাগের ১৩ জেলার ৩৭ উপজেলায় বাস্তবায়িত হবে।

প্রকল্পে ৬০৯ কিলোমিটার ৪০০ কেভি ডাবল সার্কিট ট্রান্সমিশন লাইন, রূপপুর-বাঘাবাড়ী ডাবল সার্কিট ট্রান্সমিশন লাইন ও প্রায় ১২টি বে-এক্সটেনশন নির্মাণ করা হবে। প্রকল্পের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে।

পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, রূপপুর বিদ্যুৎ কেন্দ্রের নির্মাণ শেষ হলে দীর্ঘমেয়াদে বিদ্যুৎ উৎপাদন সাশ্রয়ী হবে। এই কেন্দ্রে বিদ্যুৎ উৎপাদনের কোনো জটিলতা হবে না। কারণ, রাশিয়া এ দেশ থেকে পারমাণবিক বর্জ্য ফেরত নেবে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়সহ শিক্ষার ওপর মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) আরোপের কোন পরিকল্পনা সরকারের নেই।

একনেক বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে পরিকল্পনা মন্ত্রী এ এইচ এম মুস্তফা কামাল বলেন, এ বিষয়টি সুস্পষ্ট করে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন যে, শিক্ষা খাতের আরো বিকাশ ও জোরদারের এ ধরনের (বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ওপর ভ্যাট আরোপ) পদক্ষেপের কোন প্রয়োজন নেই। এ ধরণের কোন পদক্ষেপ নেয়া হবে না।

তিনি বলেন, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর ভ্যাট আরোপে পদক্ষেপ নেয়ার ব্যাপারে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিতের মন্তব্যের প্রেক্ষিতে একনেক বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রী একথা বলেন।

এর আগে সোমবার রাতে অর্থমন্ত্রী প্রাকবাজেট বৈঠকের পরে সাংবাদিকদের বলেন, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় মালিকদের কাছ থেকে সরকার ভ্যাট আদায় করবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ