ঢাকা, বুধবার 11 April 2018, ২৮ চৈত্র ১৪২৪, ২৩ রজব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

সংসদে সংরক্ষিত মহিলা আসন থাকছে আরও পঁচিশ বছর

সংসদ রিপোর্টার : জাতীয় সংসদে নারীদের জন্য সংরক্ষিত ৫০ টি আসন আগামী ২৫ বছরের জন্য সংরক্ষিত করার লক্ষ্যে এবং জাতীয় সংসদে নারী প্রতিনিধিত্ব বাড়াতে সংরক্ষিত আসনে নির্বাচনের বিধানে সংশোধনী এনে সংসদে বিল উত্থাপন করা হয়েছে। এ সংবিধান (সপ্তদশ সংশোধন)-২০১৮ বিলে আরও ২৫ বছর সংরক্ষিত আসন রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে।

গতকাল মঙ্গলবার দশম সংসদের ২০তম অধিবেশনে বিলটি উত্থাপন করেন আইন বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক। এরআগে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে দিনের কার্যসূচি শুরু হয়।

বিলে সংবিধানের ৬৫ অনুচ্ছেদের (৩) দফায় সংশোধনী এনে বলা হয়েছে- ‘সংবিধান (সপ্তদশ সংশোধন) আইন ২০১৮ প্রবর্তনকালে বিদ্যমান সংসদের অব্যবহিত পরবর্তী সংসদের প্রথম বৈঠকের তারিখ হইতে শুরু করিয়া পঁচিশ বৎসরকাল অতিবাহিত হইবার অব্যবহিত পরবর্তীকালে সংসদ ভাংগিয়া না যাওয়া পর্যন্ত পঞ্চাশটি আসন কেবল মহিলা সদস্যদের জন্য সংরক্ষিত থাকিবে এবং তাহারা আইনানুযায়ী পূর্বোক্ত সদস্যদের দ্বারা সংসদে আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব পদ্ধতির ভিত্তিতে একক হস্তান্তরযোগ্য ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত হইবেন। তবে শর্ত থাকে যে, এই দফার কোন কিছুই এই অনুচ্ছেদের (২) দফার অধীন কোন আসনে কোন মহিলার নির্বাচন নিবৃত্ত করিবে না।

বিলের উদ্দেশ্য ও কারণ সম্বলিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে- সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালী দেশের স্বাধীনতার স্থপতি ও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নির্দেশনায় বাংলাদেশে জাতীয় পর্যায়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও আইন প্রণয়নে মহিলাদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে তদানীন্তন গণপরিষদ কর্তৃক প্রণীত ১৯৭২ এর মূল সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৬৫ এর দফা (৩) এর বিধানে জাতীয় সংসদে মহিলা সদস্যদের জন্য সংবিধান প্রবর্তন হতে ১০ বছর সময় অতিবাহিত হওয়ার অব্যবহিত পরবর্তী সময়ে সংসদ ভেঙ্গে না যাওয়া পর্যন্ত ১৫টি আসন সংরক্ষণ করা হয়।

১৯৭৮ সালে সেকেন্ড প্রোক্লেমেশন ( পঞ্চদশ এমেনমেন্ট) ওর্ডার ১৯৭৮ (নং-৪) এর দ্বিতীয় সিডিউলের মাধ্যমে মহিলা সদস্যদের জন্য সংবিধান প্রবর্তন হতে ১৫ বছর সময় অতিবাহিত হওয়ার অব্যবহিত পরবর্তি সময়ে সংসদ ভেংগে না যাওয়া পর্যন্ত ৩০ টি আসন সংরক্ষণ করা হয়। পরবর্তিতে ১৯৯০ সালে ৩৮ নং আইনের দ্বারা মহিলা সদস্যদের জন্য উক্ত আইন প্রবর্তনকালে বিদ্যমান সংসদের অব্যবহিত পরবর্তি সংসদের প্রথম বৈঠকের তারিখ হতে শুরু করে ১০ বছর সময় অতিবাহিত হওয়ার পরবর্তি সময়ে সংসদ ভেংগে না যাওয়া পর্যন্ত ৩০ টি আসন সংরক্ষণ করা হয়। এর পরে সংবিধানের চতুর্দশ সংশোধনী আইন ২০০৪ (১৪নং) দ্বারা মহিলা সদস্যদের জন্য উক্ত আইন প্রবর্তনকালে বিদ্যমান সংসদের অব্যবহিত পরবর্তি সংসদের প্রথম বৈঠকের তারিখ হতে শুরু করে ১০ বছর সময় অতিবাহিত হওয়ার অব্যবহিত পরবর্তি সময়ে সংসদ ভেঙে না যাওয়া পর্যন্ত ৪৫ টি আসন সংরক্ষণ করা হয়। এবং সেই সাথে উক্ত মহিলা সদস্যগণ আইনানুযায়ী সংসদ সদস্যগণ কতৃক আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব পদ্ধতির ভিত্তিতে একক হস্তান্তরযোগ্য ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত হবেন মর্মে বিধান প্রবর্তন করা হয়। পরবর্তিতে ২০১১ সালে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে মহিলা সদস্যদের জন্য সংরক্ষিত আসন ৪৫ থেকে বাড়িয়ে ৫০ এ উন্নীত করা হয়। যা শেষ হবে আগামী ২০১৯ সালের ২৮ জানুয়ারি। যার কারণে এ সংসদেই এ সপ্তদশ সংশোধনীটি বিশেষ জরুরী ছিল। 

সংরক্ষিত মহিলা আসনের ধারাবাহিকতা বজায় থাকার কারণে সমাজে সকল ক্ষেত্রে মহিলাদের অধিকতর অংশগ্রহণ নিশ্চিত হয়েছে। সবশেষ সংশোধনী অনুযায়ী সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৬৫ এর দফা (৩) এর বিদ্যমান বিধান অনুযায়ী বর্তমানে সংরক্ষিত মহিলা আসনের ১০ (দশ) বছর মেয়াদ ২৮ জানুয়ারি ২০১৯ শেষ হবে। সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে মেয়াদ বৃদ্ধি করা না হলে উক্ত সময় অতিবাহিত হওয়ার পর জাতীয় সংসদে মহিলাদের জন্য কোন আসন সংরক্ষিত থাকবে না। অথচ সংরক্ষিত আসনের প্রয়োজনীয়তা এখনও বিদ্যমান রয়েছে। একাদশ জাতীয় সংসদ সংরক্ষিত আসনের মহিলা-সদস্যদেরকে নিয়ে গঠন করতে হলে দশম সংসদ বহাল থাকা অবস্থায় সংবিধানে এ সংক্রান্ত বিধান সংশোধন করা আবশ্যক।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ