ঢাকা, বুধবার 11 April 2018, ২৮ চৈত্র ১৪২৪, ২৩ রজব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

চৌদ্দগ্রামে কোয়েল পালন করে স্বাবলম্বী

কামাল পাটোয়ারী, চৌদ্দগ্রাম (কুমিল্লা) : কোয়েল ও টারকি পালন করে স্বাবলম্বী হয়েছেন কামাল উদ্দিন পাটোয়ারী নামের এক যুবক। তিনি কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম পৌর এলাকার চান্দিশকরা গ্রামের মরহুম হাজী রইছুর রহমানের পুত্র। কামাল পার্শ্ববর্তী পূর্ব ধনমুড়ি এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে ‘সিলভার এগ্রো এন্ড পোল্ট্রি হ্যাচারী’ নামের কোয়েল খামার করেছেন। কোয়েল পাখির খামার দিয়ে ডিম ও পাখি বিক্রি করে তিনি এলাকাবাসীর মধ্যে সাড়া জাগিয়েছেন। নিজেও হয়েছেন স্বাবলম্বী।

গতকাল মঙ্গলবার সরেজমিন পরিদর্শনকালে কামাল উদ্দিন পাটোয়ারী জানান, নিজের প্রতি আত্মবিশ্বাস, ইচ্ছা, ধৈর্য আর চেষ্টা থাকলে অনেকভাবেই আয় করা যায়। এজন্য মাছ, মোরগের খামার না করে এক বছর আগে ভিন্নরকমভাবে কোয়েল পাখি ও টারকি খামার শুরু করেন। প্রথমদিকে অনেকে অনুৎসাহীত করেছেন। কিন্তু বিচলিত হইনি। বর্তমানে খামারে সাড়ে সাত হাজার কোয়েল ও ত্রিশটি টারকি রয়েছে। এগুলোর ডিম ও বাচ্চা বিক্রি করে ব্যাপক সাড়া পাওয়া গেছে। প্রথম দিকে ১ দিনের ১৫০০ কোয়েলের বাচ্চা দিয়ে শুরু করেন। ১ মাস পালনের পর প্রতি বাচ্চা ২৭-৩০ টাকা দরে স্থানীয় বাজারে বিক্রি করেন। এভাবে আস্তে আস্তে তাঁর খামারের বিস্তার বাড়তে থাকে। কোয়েলের ডিমের পাশাপাশি তিনি কোয়েলের বাচ্চাও বিক্রি করেন। একটি স্ত্রী কোয়েল ৪৫ থেকে ৫০ দিনের মধ্যে ডিম পাড়া শুরু করে। এরা ১৩-১৪ মাস পর্যন্ত ডিম পাড়ে।

তিনি আরও জানান, প্রতিদিন গড়ে ৩৫০০ ডিম পাওয়া যায়। শীতের সময় ডিমের চাহিদা বেশি থাকে। এসব ডিম প্রতিদিনই স্থানীয় বাজারের ব্যবসায়ীরা কিনে নিয়ে যায়। প্রতি হালি ডিমের দাম রাখা হয় ৮-১০ টাকা। এছাড়া নিজস্ব মেশিনে প্রতি মাসে ৮-১০ হাজার কোয়েলের বাচ্চা ফুটানো হয়। ২০-২৫ দিন বয়সে বাচ্চাগুলো বিক্রি করা হয়।

 ভবিষ্যতে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে খামার প্রসারে আরও কিছু পদক্ষেপ নেয়ার কথাও বললেন কামাল পাটোয়ারী। কোয়েল পাখি ও টারকির পরিচর্যা করে ভালো লাগছে বলেও দাবি করেছে খামারের শ্রমিক খামারের শ্রমিক আতিক হাসান ও মোঃ হানিফ।

এ ব্যাপারে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ আজহারুল বলেন, সিলভার এগ্রো এন্ড পোল্ট্রি হ্যাচারী নামের খামারটি পরিদর্শন করে ভালো লেগেছে। চৌদ্দগ্রামে এ মানের আর খামার নেই। খামারটির বিকাশে আমরা পর্যাপ্ত পরামর্শ অব্যাহত রাখবো।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ