ঢাকা, বুধবার 11 April 2018, ২৮ চৈত্র ১৪২৪, ২৩ রজব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

বিজেএমসির অনুমোদন ছাড়াই প্লাটিনাম মিলের মূল্যবান গাছ কর্তন

 

খুলনা অফিস : বিজেএমসির অনুমোদন ছাড়াই খুলনার খালিশপুরে রাষ্ট্রায়ত্ত প্লাটিনাম জুবিলি জুট মিলের আবাসিক এলাকার একটি মূল্যবান মেহগনি গাছ কর্তনের অভিযোগ উঠেছে। মিলের জিএমসহ কয়েকজন কর্মকর্তার যোগসাজসে গাছটি কর্তন করা হয়। গাছের গুড়িগুলো মিল অভ্যন্তরে রাখা হয়েছে, তবে বিষয়টি প্রকাশ হওয়ায় গাছটি বিক্রি করতে পারছেন না তারা।

বিজেএমসির প্রশাসনিক কর্মকর্তা শামীম রেজা খান বলেন, কোন কারণে মিলের গাছ কাটতে হলে মিল কর্তৃপক্ষ অভ্যন্তরীণ কমিটি গঠন করে সিদ্ধান্ত নেবেন। কিন্তু বিষয়টি বিজেএমসি কর্তৃপক্ষকে অবহিত করতে হবে। যেহেতু এ ক্ষেত্রে কোনো ধরনের অনুমোদন বা অবহিত করা হয়নি, সেহেতু ভবিষ্যতে এ সংক্রান্ত কোনো ঘটনার দায়ভার বিজেএমসি নেবে না, কোনো ধরনের অভিযোগ হলে মিল কর্তৃপক্ষকেই বহন করতে হবে।

তবে মিলের প্রকল্প প্রধান মো. মুজিবর মল্লিক দাবি করেন, গাছটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছিল। যে কারণে তারা সবকিছু বুঝে শুনেই গাছটি কেটেছেন। এ ক্ষেত্রে মিল কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। এখানে বিজেএমসির কোনো অনুমোদন অথবা অবহিত করারও প্রয়োজন নেই। তবে, গাছটি কোনো অসৎ উদ্দেশে কাটা হয়নি-দাবি করে তিনি বলেন, গাছটি মিলের কাজেই ব্যবহার করা হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য এবং সরেজমিনে দেখা গেছে, প্লাটিনাম জুবিলি জুট মিলের আবাসিক ভবন (সোনালী বিল্ডিং) সংলগ্ন বড় সাইজের একটি পুরাতন মেহগনি গাছ কোনো ধরনের টেন্ডার ছাড়াই ৫ এপ্রিল কেটে ফেলা হয়। কিন্তু যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে গাছটি কাটার পর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মধ্যেই দেখা দেয় মতবিরোধ। যে কারণে কোন কোন কর্মকর্তা বিষয়টি ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করেন। ফলে গাছের ছোট ছোট টুকরোগুলো সরিয়ে ফেললেও বড় গুড়িগুলো সেখানেই ফেলে রাখা হয়। কিন্তু আবাসিক এলাকাটি মিল অভ্যন্তরে নিরাপত্তা বেষ্টনীর মধ্যে থাকায় সেখানে সাধারণ শ্রমিক বা গণমাধ্যম কর্মীদের প্রবেশের সুযোগও কম। ফলে কর্তৃপক্ষ বিষয়টি ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

এদিকে মিলের একটি সূত্র জানান, গাছটি কাটার সিদ্ধান্ত নিয়ে মিলের প্রকল্প প্রধান মো. মুজিবর মল্লিক মিল কর্মকর্তা নাজমুল কবিরকে আহবায়ক করে চার সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেন। কমিটির অপর সদস্যরা হচ্ছে প্রকৌশলী আলতাফ হোসেন, আহমেদ বজলুল করিম ও দীপক চন্দ্র রায়। পরবর্তীতে কমিটির সদস্যরাই গাছটি কেটে ফেলেন।

গাছকাটা কমিটির আহবায়ক নাজমুল কবির বলেন, নিয়মনীতি অনুসরণ করেই গাছটি কাটা হয়েছে। তবে কোনো ধরনের টেন্ডার দেয়া হয়নি। গাছটি বিক্রির কোনো সুযোগ নেই বলেও দাবি করেন তিনি। এছাড়া এ ক্ষেত্রে বিজেএমসির কোনো অনুমোদনের প্রয়োজন হয় না বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

উল্লেখ্য, খুলনার রাষ্ট্রায়ত্ত জুট মিলগুলোর অভ্যন্তরে গাছ-পালাসহ নানা মূল্যবান সম্পদ রয়েছে। যার অধিকাংশই অসাধু কর্মকর্তারা লুটেপুটে খাচ্ছেন। কোনো ধরনের জবাবদিহিতা না থাকায় এর হিসাবও দিতে হয় না কাউকে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ