ঢাকা, বৃহস্পতিবার 12 April 2018, ২৯ চৈত্র ১৪২৪, ২৪ রজব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

বগুড়ায় সাদমানের পর মার্শালের সেঞ্চুরিতে মধ্যাঞ্চলের বিশাল সংগ্রহ

স্পোর্টস রিপোর্টার : বিসিএলের চতুর্থ পর্বের প্রথম দিন বগুড়ায় সেঞ্চুরি করেছিলেন সাদমান ইসলাম। গতকাল দ্বিতীয় দিনে সেঞ্চুরি পূরণ করলেন মার্শাল আইয়ুব। এই জোড়া শতকে ভর দিয়ে রানের পাহাড় গড়েছে ওয়ালটন মধ্যাঞ্চল। বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগের (বিসিএল) চতুর্থ রাউন্ডে বিসিবি উত্তরাঞ্চলের বিপক্ষে প্রথম ইনিংসে করেছে তারা ৫২৯ রান। মার্শাল প্রথম দিন শেষ করেছিলেন ২০ রানে অপরাজিত থেকে। দ্বিতীয় দিনে দলের সঙ্গে ব্যক্তিগত সংগ্রহ বাড়িয়ে পূরণ করেন প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটের ১৬তম সেঞ্চুরি। আরিফুল হকের বলে জুনায়েদ সিদ্দিকের হাতে ধরা পড়ার আগে খেলে যান ১৩২ রানের অসাধারণ এক ইনিংস। ২১০ বলের ইনিংসটি মার্শাল সাজিয়েছিলেন ১৪ চার ও ১ ছক্কায়। তার সঙ্গে দিন শুরু করা রিয়াদ অবশ্য সুবিধা করতে পারেননি। মধ্যাঞ্চলের অধিনায়ক আউট হয়ে যান ২৬ রান করে। ইরফান শুক্কুরও (০) ব্যর্থ। তবে দাঁড়িয়ে গিয়েছিলেন তানভীর হায়দার ও মোশাররফ হোসেন। তানভীর ৪৬ রান করে আউট হলেও মোশাররফকে আউটই করতে পারেননি উত্তরাঞ্চলের বোলাররা। বোলিংয়ের পাশাপাশি ব্যাট হাতেও যে তিনি কার্যকর, তার প্রমাণ আরেকবার দিলেন এই স্পিনার। হাফসেঞ্চুরি পূরণ করে অপরাজিত ছিলেন ৮৩ রানে। সঙ্গী পেলে হয়তো প্রথম শ্রেণির ক্যারিয়ারে তৃতীয় সেঞ্চুরিও পেয়ে যেতেন মোশাররফ। ১৩১ বলের ইনিংসে তিনি সাজান ১৩ বাউন্ডারিতে। মধ্যাঞ্চলের রান উৎসবে উত্তরাঞ্চলের সবচেয়ে সফল বোলার আরিফুল। ৭৯ রানে তিনি পেয়েছেন ৪ উইকেট। আর ২টি করে উইকেট পেয়েছেন শরিফুল ইসলাম ও সানজামুল ইসলাম। মধ্যাঞ্চলের অলআউটের পর ব্যাটিংয়ে নেমে মাত্র ১ ওভার খেলতে পেরেছে উত্তরাঞ্চল। দ্বিতীয় দিনের খেলা শেষ হওয়ার আগে স্কোরে কোনও রান যোগ করতে পারেননি দুই ওপেনার মিজানুর রহমান (০) ও জুনায়েদ সিদ্দিক (০)।

সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে প্রথম দিনের মতো দ্বিতীয় দিনেও ইসলামী ব্যাংক দক্ষিণাঞ্চলের কাছে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ। ব্যাটিংয়ে ৪০৩ রান করার পর বোলিংয়েও জ্বলে উঠেছে তারা। যাতে বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগের (বিসিএল) চতুর্থ রাউন্ডে দ্বিতীয় দিনে ৯৫ রান তুলতেই ৩ উইকেট হারিয়েছে প্রাইম ব্যাংক পূর্বাঞ্চল।৭ উইকেটে ২৯৯ রান নিয়ে দ্বিতীয় দিন শুরু করা দক্ষিণাঞ্চল দেলোয়ার হোসেনের ৬৩ ও নুরুল হাসানের ৪৪ রানের ওপর ভর অলআউট হওয়ার আগে করতে পারে ৪০৩ রান। ৩০৮ রানে পিছিয়ে থেকে আজ তৃতীয় দিন শুরু করবে পূর্বাঞ্চল। লিটন দাস-অলক কাপালিদের সামনে তাই অপেক্ষা করছে কঠিন পরীক্ষা। পূর্বাঞ্চলের ডানহাতি পেসার খালেদ আহমদে ৮৪ রান খরচায় ৪ উইকেট নিয়েছেন। এছাড়া আবু জায়েদ ও মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন প্রত্যেকে নিয়েছেন দুটি করে উইকেট। ব্যাটিংয়ে পূর্বাঞ্চল শুরুতেই চাপে পড়ে। ৩৭ রানে ২ উইকেট হারানো পূর্বাঞ্চলের হাল ধরেন লিটন দাস ও মোহাম্মদ আশরাফুল। তবে আশরাফুল বেশি দূর যেতে পারেননি, ৫৯ বলে ১২ রান করে আউট হয়ে যান এই ব্যাটসম্যান। তিনি ফিরে গেলেও লিটন অপরাজিত আছেন ৬০ রানে। পূর্বাঞ্চলকে কোণঠাসা করার নায়ক কামরুল ইসলাম রাব্বি। এই পেসার ৩৩ রানে নেন ২ উইকেট। বাকি উইকেটটি নিয়েছেন বাঁহাতি স্পিনার আব্দুর রাজ্জাক। এর আগে মঙ্গলবার টস হেরে ব্যাটিংয়ে নামা দক্ষিণাঞ্চলের শুরুটা ভালো ছিল না। দলীয় ৪৪ রানে দুই ওপেনার শাহরিয়ার নাফীস (১৭) ও এনামুল হক বিজয়কে (৬) হারায় তারা। তবে তুষার ইমরান ও ফজলে মাহমুদের ১৬৫ রানের জুটিতে ঘুরে দাঁড়ায় দক্ষিণাঞ্চল। প্রিমিয়ার লিগে ১৬ ম্যাচে ৭০৪ রান করা ফজলে মাহমুদ এগিয়ে যাচ্ছিলেন সেঞ্চুরির দিকে। কিন্তু সোহাগ গাজীর ঘূর্ণিতে কট বিহাইন্ড হয়ে ১১ রানের জন্য তিন অঙ্ক ছুঁতে পারেননি। তার ৮৯ রানের ইনিংসে ১১টি চার ও একটি ছক্কা। তুষারকে অবশ্য সেঞ্চুরি বঞ্চিত করতে পারেনি পূর্বাঞ্চল। একমাত্র বাংলাদেশি হিসেবে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ১০ হাজার রানের মাইলফলক ছোঁয়া এই ব্যাটসম্যান ফিরেছেন ১৩০ রান করে। ২২১ বলের দুর্দান্ত ইনিংসটি সাজান ১৫ চার ও এক ছক্কায়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ