ঢাকা, বৃহস্পতিবার 12 April 2018, ২৯ চৈত্র ১৪২৪, ২৪ রজব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

ফিলিস্তিনী হত্যাকারী সেনাকে পদক দেয়ার দাবি ইসরাইলী মন্ত্রীর

১১ এপ্রিল, আল-আরাবিয়া : নিরীহ একজন ইসরাইলী স্নাইপারের পক্ষ থেকে একজন নিরস্ত্র ফিলিস্তিনীকে লক্ষ্য করে গুলী ছোঁড়ার ভিডিও প্রকাশিত হওয়ার পর ইসরাইলী যুদ্ধমন্ত্রী অ্যাভিগডোর লিবারম্যান ওই স্নাইপারের প্রশংসা করেছেন। তিনি মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, “ওই স্নাইপারকে পদক দেয়া উচিত এবং ফটোগ্রাফারের সামরিক আদালতে বিচার হওয়া উচিত।” ইসরাইলী সেনাবাহিনীকে ‘বিশ্বের সবচেয়ে ন্যায়পরায়ণ সেনাবাহিনী’ হিসেবে দাবি করে তিনি বলেন, ফ্রন্টলাইনে মাঝেমধ্যে এ ধরনের ‘উত্তেজনা’ হতেই পারে। টুইটার এবং হোয়াটসঅ্যাপে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে ওই ফিলিস্তিনীকে গুলী করার সময় ইসরাইলী সেনারা যেসব কথা বলছিল তা স্পষ্ট শোনা যাচ্ছে। এ সময় ওই নিরস্ত্র ফিলিস্তিনী গাজার সীমান্ত বেড়ার কয়েক মিটার দূরে অবস্থান করছিলেন।

ভিডিও ফুটেজটিতে ইসরাইলী সেনা কমান্ডারকে বলতে শোনা যায়- ‘তোমার বন্দুকে কি গুলী আছে? তুমি কি তাকে নিশানা বানিয়েছ?” এর কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই ইসরাইলী সেনারা একসঙ্গে উল্লাস প্রকাশ করে। এ সময় একজন সেনাকে বলতে শোনা যায়, “দারুণ! সে তার মাথায় গুলী করেছে।”

 এ ঘটনার ভিডিও ধারণ করছিল সে তখন বলে ওঠে, “আমি কিন্তু এ দৃশ্য ভিডিও করেছি।” এ সময় বাকি ইসরাইলি সেনাদেরকে শূন্যে লাফিয়ে উঠে আনন্দ প্রকাশ করতে দেখা যায়।

লিবারম্যানের বক্তব্যের পর ইসরায়েলী সেনাবাহিনী জানায়, ২০১৭ সালের ২২ ডিসেম্বর গাজা উপত্যকার সীমান্তবর্তী কিসুফিম এলাকায় ওই ভিডিও ধারণ করা হয়েছে।

গুগুলীবিদ্ধ ফিলিস্তিনীকে এরপর কয়েকজন ফিলিস্তিনী মিলে তুলে নিয়ে যায়। এরপর ওই ব্যক্তি বেঁচেছিলেন নাকি মারা গেছেন তা জানা যায়নি। তবে ইসরাইলী বাহিনী দাবি করে, তারা তার পায়ে গুলী করেছে।

একাধিক ইসরাইলী সংসদ সদস্য ও মানবাধিকার গোষ্ঠী এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলেছে, এই ভিডিওতে যা দেখা গেছে ইসরাইলী সেনাবাহিনী তাকে অভ্যাসে পরিণত করেছে এবং এটি কোনো ‘ব্যতিক্রমি ঘটনা’ নয়। সম্প্রতি গাজা সীমান্ত অন্তত ৩০ ফিলিস্তিনীকে হত্যা করে ইসরাইল; তবে আলোচিত ভিডিওটি চার মাস আগের ঘটনার বলে তেল আবিব জানিয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ