ঢাকা, বৃহস্পতিবার 12 April 2018, ২৯ চৈত্র ১৪২৪, ২৪ রজব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

সাধারণ শিক্ষার্থীর পায়ের রগ কাটলো ছাত্রলীগ নেত্রী

স্টাফ রিপোর্টার : মঙ্গলবার মধ্যরাতে হঠাৎ উত্তাল হয়ে উঠে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের হলে হলে ক্ষমতাসীন ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগের হামলার খবর আসে। এর মধ্যে  বেশ কয়েকটি ছাত্রী হলও রয়েছে। কবি সুফিয়া কামাল হলে মেয়েদের উপর নির্যাতনের খবর পাওয়া যায়। এর মধ্যে একছাত্রীর পায়ের রগ কেটে দেয়ার খবর ছড়িয়ে পড়ে সর্বত্র। মিছিলে মিছিলে উত্তল হয়ে উঠে ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়। এই অভিযোগে হল ছাত্রলীগের সভাপতি ইসরাত জাহান ইশাকে বিশ্ববিদ্যালয় ও ছাত্রলীগ থেকে তাৎক্ষণিক বহিষ্কার করা হয়েছে।
 ছেলেদের হলগুলোতেও এমন অভিযোগ পাওয়া গেছে। বেশ কিছু হল থেকে ছাত্রদের বের হতে দেয়া হচ্ছে না বলে জানিয়েছে হলগুলোতে অবস্থানকারী শিক্ষার্থীরা। তারা প্রত্যেকেই ভীত আছে এবং গণমাধ্যমের কাছে কিছু বলতে চাচ্ছে না।
 কোটা সংস্কার নিয়ে পোস্ট দেয়া, ছাত্রলীগের প্রোগ্রামে না যাওয়া ও নেতাদের কথা না শোনায় বেশ কিছু শিক্ষার্থীকে হল ছাড়ার হুমকিও দেয়া হয়েছে। স্যার এ এফ রহমান হল, হাজী মুহাম্মাদ মহসিন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল, জহুরুল হক হল, এসএম হল, ফজিলাতুন্নেসা মুজিব হলে হল থেকে বের করে দেয়ার হুমকি ও হেনস্তার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এরই মধ্যে নেতাদের নির্দেশ উপেক্ষা করে বেশ কিছু শিক্ষার্থী মধ্যরাতেই রাস্তায় নেমে আসে। হল ছেড়ে বাইরে বিক্ষোভ করে ছাত্রীরাও। নির্যাতন বন্ধ না হলে রোকেয়া হলের শিক্ষার্থীরা সবাই হল থেকে বের হয়ে যাওয়ার হুমকিও দেয়।
 রোকেয়া হলেও মেয়েদের টর্চার করা হয় বলে অভিযোগ পাওয়া যায়। রোকেয়া ও শামসুন্নাহার হলের মেয়েরা বাইরে বেরিয়ে আসে। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মধ্যে নির্যাতনের খবরে  মঙ্গলবার গভীর রাতে সুফিয়া কামাল হলে উত্তেজনা ছড়ায়। কয়েকশ ছাত্রী হল ছাত্রলীগের সভাপতি এশাকে তার কক্ষে অবরুদ্ধ করে স্লোগান দিতে থাকেন। খবর পেয়ে অন্যান্য হল থেকেও শিক্ষার্থীরা মিছিল নিয়ে সুফিয়া কামাল হলের সামনে জড়ো হন।
এই পরিস্থিতিতে রাত পৌনে ১টার দিকে প্রক্টর অধ্যাপক গোলাম রব্বানী হলে ঢোকেন। রাত আড়াইটার দিকে প্রক্টর বেরিয়ে এসে নির্যাতনের অভিযোগে ছাত্রলীগ নেত্রী এশাকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা জানান। ‘নির্যাতিত’ শিক্ষার্থীর চিকিৎসার ব্যবস্থাও তিনি করেন।
পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি মো. আখতারুজ্জামান রাতে সাংবাদিকদের বলেন, আমি অবহিত হলাম, ফিলসফি বিভাগের একজন শিক্ষার্থী, ওর নাম হল ইফফাত জাহান এশা, ও নাকি আরেকটি মেয়েকে মেরেছে। এবং বেশ ভালোভাবেই সোশাল মিডিয়াতে দেখলাম যে তার একটা ছবি এসেছে।  তিনি বলেন, একজন ছাত্রীর ওপর আরেকজন ছাত্রী নির্মামভাবে যে আচরণটা করেছে, তার নিন্দা জানানোর ভাষা আমাদের নেই। হল প্রশাসনকে বলেছি, তাকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার করা হল।
হলের শিক্ষার্থীরা সাংবাদিকদের বলেন, কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনরত তিন শিক্ষার্থীকে সোমবার রাতে ডেকে নিয়ে নির্যাতন চালান এশা। তবে ভয়ে তারা ঘটনাটি চেপে গিয়েছিলেন।
মঙ্গলবার রাত ১২টার দিকে মোর্শেদা আক্তার নামে উদ্ভিদ বিজ্ঞানের এক শিক্ষার্থীকে ডেকে নিয়ে আবারও নির্যাতন চালানোর পর ঘটনাটি প্রকাশ পেলে অন্য শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভে ফেটে পড়ে।
ছাত্রীরা তখন এশাকে তার কক্ষে অবরুদ্ধ করে ফেলেন। তাকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কারের দাবিতে স্লোগান দিতে থাকেন তারা। মোর্শেদার ব্যান্ডেজ বাঁধা রক্তাক্ত পায়ের ছবিও ফেইসবুকে তুলে দেন ওই হলের কয়েকজন ছাত্রী।
নির্যাতিত শিক্ষার্থীর এই ছবি ছড়িয়ে পড়েছে ফেইসবুকে।  কোটা সংস্কারের দাবিতে চলমান আন্দোলনে গত রোববার রাতে ফটক খুলে বাইরে বিক্ষোভে নেমে এসেছিলেন সুফিয়া কামাল হলের ছাত্রীরা। সেই হলে নির্যাতনের খবর শুনে বিভিন্ন  হল থেকে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা মিছিল নিয়ে সুফিয়া কামাল হলের সামনে জড়ো হয়ে স্লোগান শুরু করে। ছাত্রী হলগুলোর ভেতরেও শুরু হয় বিক্ষোভ।
সুফিয়া কামাল হল থেকে বেরিয়ে আসার সময় প্রক্টরও বিক্ষোবরত ছাত্রদের রোষের মুখে পড়েন। তিনি তখন বলেন, শিক্ষার্থী নির্যাতনের অভিযোগে ইফফাত জাহান এশাকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত হয়েছে। হলে চিকিৎসক এনে আহত শিক্ষার্থীর চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। তাকে হাসপাতালে নেওয়ার প্রয়োজন হচ্ছে না।
এ দিকে বিক্ষোভের এক পর্যায়ে এশাকে জুতার মালা পড়িয়ে দেয় সাধারণ শিক্ষার্থীরা। ওই নেত্রীর কুশপুত্তলিকাও দাহ করা হয়।
ছাত্রলীগও রাতে এশার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দেয়। সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ ও কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক এসএম জাকির হোসেন এক বিবৃতিতে এশাকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত জানান।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ