ঢাকা, বৃহস্পতিবার 12 April 2018, ২৯ চৈত্র ১৪২৪, ২৪ রজব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

খালেদা জিয়া এবং দৈনিক আমার দেশ মুক্ত করতে তীব্র আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে

গতকাল বুধবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে বিএফইউজে, ডিইউজে ও শিক্ষক কর্মচারী ঐক্যজোটের উদ্যোগে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি ও দৈনিক আমার দেশ খুলে দেয়ার দাবিতে আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন বীর মুক্তিযোদ্ধা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী -সংগ্রাম

# কোটা নিয়ে আন্দোলন ৫২’র ভাষা আন্দোলনের চেয়ে কোন অংশে কম নয় -ডা. জাফরুল্লাহ
# সরকার ৯ বছর ধরে অবৈধভাবে দেশ চালাচ্ছে -মাহমুদুর রহমান
# দেশের ১৬ কোটি মানুষ কোটা প্রথা মানে না -গাজী 
স্টাফ রিপোর্টার : দৈনিক আমার দেশ পত্রিকা বন্ধের ৫ বছর এবং বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তারা বলেছেন, খালেদা জিয়ার মুক্তি আর দৈনিক আমার দেশ খুলে দেয়া হলে বর্তমান সরকার ৬ মাসও ক্ষমতায় থাকতে পারবে না। তারা বলেন, দেশের ১৬ কোটি মানুষ কোটা প্রথা চায় না।  শিক্ষার্থীদের কোটা প্রথার আন্দোলন সফল হলে দেশের অনেক কিছু পরিবর্তন হয়ে যাবে। পুলিশের অনুমনি নিয়ে সরকার পতনের আন্দোলন হয় না বলেও মন্তব্য করেন তারা।
গতকাল বুধবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি এবং দৈনিক আমার দেশ পত্রিকা বন্ধের ৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় তারা এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন বিএফইউজে এবং ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন ডিইউজে এই আলোচনা সভার আয়োজন করে।
বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন বিএফইউজের সভাপতি রুহুল আমিন গাজীর সভাপতিত্বে এবং ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন ডিইউজের সভাপতি কবি আবদুল হাই শিকদারের সঞ্চালনায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ, আমার দেশ পত্রিকার সম্পাদক মাহমুদুর রহমান, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন, বিএফইউজের মহাসচিব এম আবদুল্লাহ, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আবদাল আহমেদ, বিএফইউজের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক শহিদুল ইসলাম, বাংলাদেশ শিক্ষক কর্মচারী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়া, জাতীয় প্রেস ক্লাবের যুগ্ম সম্পাদক ইলিয়াস খান, সাবেক যুগ্ম সম্পাদক কাদের গণি চৌধুরী, ডিইউজের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গির আলম প্রধান, প্রকৌশলি রিয়াজুর ইসলাম রিজু, কৃষিবিদ শামীমুর রহমান শামীম প্রমুখ।
কোটা প্রথার বিরুদ্ধে আন্দোলনকারীদের সমর্থন জানিয়ে ডা. জাফরুল্লাহ বলেন, এই আন্দোলন ৫২’র ভাষা আন্দেলনের চেয়ে কোন অংশে কম নয়। এই আন্দোলন সফল হলে দেশের অনেক কিছু পাল্টে যাবে। নতুন যুগের সূচনা হবে। কোটা প্রথা বাতিলের দাবিতে আন্দোলনকারীদের কাছ থেকে বিএনপিকে শিক্ষা নেয়ার পরামর্শ দিয়ে চিকিৎসক এই মুক্তিযোদ্ধা বলেন, পুলিশের কাছ থেকে অনুমতি নিয়ে কোন আন্দোলনই সফল হবে না। কই সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনকারীদের তো পুলিশের ক ছে অনুমতি নিতে হয়নি।
মুক্তিযোদ্ধাদের কোন কোটা দরকার নেই উল্লেখ করে এই মুক্তিযুদ্ধের সংগঠন বলেন, মুক্তিযোদ্ধাদের ন্যায্য অধিকার দরকার।  মুক্তিযুদ্ধ করতে গিয়ে যারা আহত হয়েছেন তাদের প্রতিবন্ধীদের মত ভাতা দেয়া দরকার। মেধার ভিত্তিতে দেশ চলবে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন স্থানে হামলার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি আ আ ম স আরেফীন সিদ্দিককে দায়ী করে ডা. জাফরুল্লাহ বলেন, কারা এই ঘটনা ঘটিয়েছে তা বুঝতে খুব বেশি চিন্তা করতে হবে না।
জাতীয় সরকার গঠনের আহ্বান জানিয়ে জনগণের স্বার্থ নিয়ে কথা বলার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, মাদার অব ডেমোক্রেসির সমর্থকদের আমি বলবো আপনারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিস্থিতি দেখে আসুন। আমি দেখে এসেছি সেখানে ছাত্রের চেয়ে ছাত্রীর সংখ্যা বেশি। আগামিতে মামলাবাজদের বিচারের আওতায় আনার কথা বলেন মুক্তিযুদ্ধের এই সংগঠক।
বিএনপির সমালোচনা করে এই বুদ্ধিজীবী বলেন, বিএনপির ওপর এত নির্যাতনের পরও তারা বলছে না যে, ক্ষমতায় এলে বিচার বিভাগের সংস্কার করা হবে। বিচারকদের জনগণের আদালতে বিচার করা হবে। কারণ সিনহা বাবু বলেছিলেন বিচারকদের আয়ের হিসাব নেয়া হবে। কিন্তু তা করা হলো না। জনগণের কথা না বলে শুধু খালেদা জিয়ার মুক্তির কথা বলে কোন লাভ হবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি। ভারত বাংলাদেশে কোন পরিবর্তন চায়  না বলেও মন্তব্য করেন ডা. জাফরুল্লাহ।
জাতীয় সংসদে মতিয়া চৌধুরীর অশোভন বক্তব্য নিয়ে ডা. জাফরুল্লাহ বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় ভারতে থাকা অবস্থায় মতিয়া চৌধুরীকে নার্সদের দায়িত্ব নিতে বলা হয়েছিল। কিন্তু তা তিনি নেননি।
জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতির প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জামায়াতের কর্মকর্তাদের শাস্তি হয়েছে। দেশে অন্যান্য ইসলামী দলগুলো রাজনীতি করতে পারলে জামায়াতে ইসলামী কেন পারবে না। তবে জামায়াতে ইসলামীকে মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর আহ্বান জানান তিনি।
আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমান বলেন, সম্পূর্ণ ভুয়া মামলায় সাজা দিয়ে বেগম খালেদা জিয়াকে বর্তমান অবৈধ সরকার জেলের নামে একটি পরিত্যক্ত ভবনে রেখেছে। তিনি সংবিধানের ৪৯০ ধারা ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, তাতে বলা হয়েছে আসামী যদি অক্ষম, প্রবীণ, মহিলা কিংবা শিশু হয় সেক্ষেত্রে তাকে জামিন দিতে হবে যদিও সে ৩০২ ধারার অপরাধি হন। খালেদা জিয়ার ক্ষেত্রে সেই নিয়মের বত্যয় হয়েছে। তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার বর্তমানে বয়স ৭৩ বছর। সাজা হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তার জামিন হওয়ার কথা ছিল। এছাড়া তো খালেদা জিয়ার মাত্র ৫ বছরের সাজা হয়েছে। আর জামিনের শুনানি ৩ মাস পর হওয়ার ঘটনা খালেদা জিয়ার ওপর অবিচার বলেও আখ্যা দেন তিনি। এ প্রসঙ্গে তিনি ভারতের ফিল্ম স্টার সালমান খানের উদাহরণ টেনে বলেন, সালমান খানের জামিন হলো দুই দিনের মধ্যে। আওয়ামী লীগ যেহেতু দিল্লীকে প্রভু মানে তাদেরতো সেই আইন মেনে হলেও বেগম জিয়াকে জামিন দেয়া উচিত।
এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিএনপির নেতারা বলছেন আইনের মাধ্যমে খালেদা জিয়াকে বের করা হবে। এটা তামাশা ছাড়া আর কিছুই না। খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য আন্দোলন ছাড়া আর কোন পথ নাই বলেও মত দেন তিনি।
নিজের ওপর নির্যাতনের কথা উল্লেখ করে মাহমুদুর রহমান বলেন, ২০১২ সালে আমার বিরুদ্ধে মামলা হলো। মামলার চার্জশিট দেয়া হলো না  অথচ আমার ৪ বছর জেল খাটা হয়ে গেছে।
বাংলাদেশের নির্বাচনে ভারতের প্রভাবের প্রমাণ হিসেবে ভারতের সাবেক প্রেসিডেন্ট প্রণব মুখার্জী এবং সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী সালমান খুরশীদের লেখা দু’টি বইয়ের কয়েকটি লাইন অনুবাদ করেন মাহমুদুর রহমান।
ভারতের সহায়তায় বর্তমান সরকার ৯ বছর ধরে অবৈধভাবে দেশ চালাচ্ছে উল্লেখ করে আমার দেশ সম্পাদক বলেন, বিএনপির নেতারা আজ ভারতের বিরুদ্ধে কথা বললে বিব্রতবোধ করেন। আমি বলবো, দিল্লীর কোলে শেখ হাসিনা বসে আছেন। সেখানে বিএনপির ঠাঁই হবে না।
প্রধানমন্ত্রীর প্রতি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে এই পেশাজীবী নেতা বলেন, খালেদা জিয়ার মুক্তি আর দৈনিক আমার দেশ খুলে দেয়া হলে বর্তমান সরকার ৬ মাসও ক্ষমতায় থাকতে পারবে না।
বাংলাদেশকে ভারতের উপনিবেশ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, এই উপনিবেশ থেকে মুক্তি পেতে হলে গণআন্দোলন লাগবে। গণআন্দোলনের মাধ্যমেই খালেদা জিয়া এবং আমার দেশ পত্রিকা মুক্ত করতে হবে।
সভাপতির বক্তব্যে বিএফইউজের সভাপতি রুহুল আমিন গাজী কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরীর সমালোচনা করে বলেন, আপনি মন্ত্রী হয়ে আন্দোলনকারীদের রাজাকারের বাচ্চা বলেছেন। আপনি কোটা প্রথা মানলেও দেশের ১৬ কোটি মানুষ কোটা প্রথা মানে না। তারা কোটা প্রথার সংস্কার চায়।
বিচারপতিদের বিতর্কিত ভূমিকার সমালোচনা করে তিনি বলেন জনগণ একদিন জেগে উঠবে। তখন তারা বিচারপতিদেরও বিচার করবে। পুলিশের অনুমতি নিয়ে কোনদিন সরকার পতনের আন্দোলন হয় না জানিয়ে এই সাংবাদিক নেতা বলেন, সরকার পতনের জন্য দরকার ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন।
বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেন, নির্যাতন করে জনগণের মনে ভয় ঢুকিয়ে দেয়া হয়েছে। অবস্থা এমন হয়েছে যে, প্রধান বিচারপতি সিনহাকেও হাই কমিশনে গিয়ে পদত্যাগ করতে  হয়েছে। রাজনৈতিক আশ্রয় নিতে হয়েছে।
তিনি বলেন, সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু হয়ে গেছে। তাদের অপশাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলন দানা বাঁধবেই। সরকার জেনে গেছে তাদের পায়ের তলায় মাটি নেই। তাদের পা কাঁপছে। এজন্য দরকার ঐক্যকে সুদৃঢ় করা।
বিএফইউজের মহাসচিব এম আবদুল্লাহ বলেন, গণতন্ত্র, গণমাধ্যম এবং খালেদা জিয়া মুক্তির বিষয়টি একাকার। কারণ খালেদা জিয়া ক্ষমতায় থাকলে গণমাধ্যম সর্বোচ্চ স্বাধীনতা ভোগ করে। তাই বেগম জিয়াকে নাজিম উদ্দিন রোড থেকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে না নিতে পারলে গণমাধ্যম মুক্ত হবে না। এজন্য আমার দেশ এবং খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে লড়াই চালিয়ে যেতে হবে।
অধ্যক্ষ সেলিম ভূইয়া বলেন, মাহমুদুর রহমান সততার চ্যালেঞ্জ নিয়েছিলেন বলেই তাকে জেলে যেতে হয়েছে। তিনি ফ্যাসিস্ট সরকার পতনের জন্য হোমিওপ্যাথি বাদ দিয়ে এলোপ্যাথিক আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানান।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ