ঢাকা, বৃহস্পতিবার 12 April 2018, ২৯ চৈত্র ১৪২৪, ২৪ রজব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

কমনওয়েলথ গেমসে ৫০ মিটার পিস্তলে রৌপ্য জিতেছেন শাকিল

কামরুজ্জামান হিরু, গোল্ড কোস্ট, অস্ট্রেলিয়া থেকে : গোল্ড কোস্ট কমনওয়েলথ গেমসে আরেকটি সাফল্য পেল বাংলাদেশ। সেটিও শ্যুটিংয়ের কল্যাণে। এবার দেশের মুখ উজ্জ্বল করলেন এসএ গেমসে স্বর্ণ জয়ী শাকিল আহমেদ। তিনি অবশ্য স্বর্ণ জিতেননি, ৫০ মিটার পিস্তলে জিতেছেন রৌপ্য। এ নিয়ে দুটি পদক জমা পড়লো বাংলাদেশের ঝুলিতে। আবদুল্লাহ হেল বাকীর পর এবার সাফল্য দেখান বাংলাদেশের ২২ বছরের তরুণ শ্যুটার শাকিল। গোল্ড কোস্ট কমনওয়েলথ গেমসে ঠিক এরকম একটি মুহূর্তের জন্যই অপেক্ষা করছিলো পুরো বাংলাদেশ দল। এর আগে ১০ মিটার এয়ার সাইকেলে বাকী অল্পের জন্য স্বর্ণ জিততে পারেননি। তবে তার জেতা রৌপ্য পদকের পর আরেকটি সাফল্য আশা করেছিল বাংলাদেশ। সেই প্রত্যাশা পুরণ করলেন শাকিল। তার পিস্তলের গুলীতে এসেছে রৌপ্য। এসএ গেমসে স্বর্ণজয়ী শাকিলের কমনওয়েলথ গেমসে এটাই প্রথম পদক জেতা। আর তাই তিনি দারুণ আনন্দিত ও গর্বিত বলে জানালেন রেঞ্জ থেকে বেরোনোর পর প্রথম প্রতিক্রিয়ায়। গতকাল বুধবার বেশ প্রত্যয়ের সঙ্গে পিস্তল হাতে বেলমন্ট শুটিং সেন্টারের রেঞ্জে ঢোকেন শাকিল। একের পর এক বাধার দেওয়াল টপকে যান নিখুঁত নিশানায়। ২২০.৫ পয়েন্ট স্কোর করে জিতে নেন রৌপ্যপদক। অস্ট্রেলিয়ার আকাশে আবার ওড়ান দেশের পতাকা। ২২৭.২ পয়েন্টে নতুন গেমস রেকর্ড গড়ে এই ইভেন্টে স্বর্ণপদক জিতেছেন স্বাগতিক দলের ড্যানিয়েল রেপাচোলি। অনেকটাই পিছিয়ে থেকে মাত্র ২০১.১ পয়েন্ট নিয়ে ব্রোঞ্জ জেতেন ভারতের ওম মিথারভাল। বাংলাদেশের আরেক শ্যুটার আনোয়ার হোসেন দশম হয়ে ইভেন্ট শেষ করেন। শাকিলের রৌপ্যজয়ী নৈপুণ্যে গতকাল গেমস ভিলেজে যেন উৎসবের ঢেউ বয়ে যায়। সতীর্থরা আলিঙ্গনে ও শুভেচ্ছায় ভরিয়ে দেন তাকে। জাতীয় পতাকা নিয়ে উল্লাসের মুহূর্তে তাদের সঙ্গে যোগ দেন কর্মকর্তারাও। দীর্ঘ ২৮ বছর পর কমনওয়েলথ গেমসের শুটিংয়ে পিস্তলের ইভেন্ট থেকে কোনো পদক জয়ের স্বাদ পেল বাংলাদেশ। এটি বাংলাদেশের নবম আসর। ১৯৯০ সালে নিউজিল্যান্ডের অকল্যান্ডে এয়ার পিস্তল পেয়ারসে স্বর্ণপদক জিতে দেশকে আনন্দের বন্যায় ভাসান আতিকুর রহমান ও আবদুস সাত্তার নিনি। সেটি ছিলো বাংলাদেশের ইতিহাসে কমনওয়েলথ গেমসে প্রথম অংশগ্রহণ। সেবার ৫০ মিটার ফ্রি পিস্তলে ব্রোঞ্জপদকও জয় করেন এই জুটি। এক যুগ বাদে ২০০২ সালে ম্যাঞ্চেস্টারে কমনওয়েলথ গেমস থেকে দেশকে আবার সোনালী সাফল্য এনে দেন আসিফ হোসেন খান। তবে এক গেমস থেকে দুটি পদক জয়ের ঘটনা অকল্যান্ডেই প্রথম এবং এবার গোল্ড কোস্টে এখন পর্যন্ত হিসেবে দ্বিতীয়বারের মতো ঘটলো। বাকী তিন দিনে রেঞ্জ থেকে আরও পদকের আশা ছেড়ে দেয়ার কোনো কারণ নেই। সে ক্ষেত্রে পদক সংখ্যাই এগিয়ে যাবে গোল্ড কোস্ট। সেই প্রত্যাশা পূরণে বাকী-শাকিলের সাফল্য বাড়তি প্রেরণা জোগাচ্ছে বাংলাদেশ শিবিরে। অস্ট্রেলিয়ার শ্যুটার ড্যানিয়েলের ৩৬তম জন্মদিন ছিলো গতকাল। এমন দিনে স্বর্ণপদক জয়ের আনন্দ তাই বাড়তি উদযাপনে মেতে খোরাক জোগায় তার সতীর্থদের। এবারের গেমসেই তিনি এর আগে ১০ মিটার এয়ার পিস্তলে চতুর্থ হয়ে হতাশায় ভেঙে পড়েন। সেখান থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে ৫০ মিটারে স্বর্ণ জেতাটা সত্যিই তাকে আবেগাপ্লুত করে তোলে। গ্লাসগোতে গত আসরেও ড্যানিয়েল এই ইভেন্টে স্বর্ণ জিতেছিলেন। তবে গতকাল গোল্ড কোস্টে নাটকীয় পতন ঘটে এই ইভেন্টের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ভারতের জিতু রায়ের। প্রথম প্রতিযোগী হিসেবে ইভেন্টের চূড়ান্ত পর্ব থেকে ছিটকে পড়েন তিনি। স্কোর মাত্র ১০৫। চলতি আসরে জিতু অবশ্য গত সোমবার ১০ মিটার এয়ার পিস্তলে স্বর্ণ জেতেন। এদিকে ব্রিসবেনে অবস্থিত বেলমন্ট শ্যুটিং রেঞ্জে আজ বাংলাদেশের হয়ে মেয়েদের ৫০ মিটার রাইফেল প্রোনে নিশানাভেদের লড়াইয়ে নামবেন সুরাইয়া আকতার ও শারমিন শিল্পা। অন্যদিকে কারারা স্পোর্টস অ্যান্ড লেইজার সেন্টারে আজ পুরুষদের ৭৪ কেজি ওজন শ্রেণির ফ্রিস্টাইল রেসলিংয়ে আলী আমজাদ প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নামবেন। এছাড়া আগামীকাল শিরিন সুলতানা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন মহিলাদের ৬৮ কেজি ওজন শ্রেণির ফ্রিস্টাইল রেসলিংয়ে। পদক জিতে শাকিল আহমেদ বলেন, অবশ্যই ভালো লাগছে। বাংলাদেশ থেকে ভালো প্রস্তুতি নিয়ে এখানে এসেছিলাম। আমার লক্ষ্য ছিল মেডেল না হোক, আমার যে স্কোরটা ছিল, সেটা করবো। আমাদের টিমের প্রত্যেকেই তাদের বেস্ট স্কোর করেছে। কারণ এবার আমাদের প্রস্তুতি খুব ভালো ছিল। আমার ১০ মিটার এয়ার পিস্তলেও ভালো পারফরমেন্স ছিল। কিন্তু ফাইনালের কথা আগে ভাগে কিছুই বলা যায় না। তারপরও আমি চেষ্টা করেছিলাম। ৫০মিটার পিস্তল আমার মেইন ইভেন্ট ছিল, আশা করেছিলাম এখানে ভালো কিছু করবো। এখানে যেটা চেয়েছি সেটাই করতে পেরেছি বাছাইপর্বেও, ফাইনালেও। প্র্যাকটিসে সবসময় যেটা মারি সেটাই মেরেছি। তিনি আরও বলেন, অনেক দিনই আমাদের এসএ গেমসেও মেডেল ছিল না। আমি ২০১৬ সালে প্রথম স্বর্ণপদক জিতি। তখন থেকেই লক্ষ্য নির্ধারণ করেছিলাম কমনওয়েলথ গেমসকে। সেভাবেই প্রস্তুতি শুরু করি ভালো কিছু করার জন্য। ফেডারেশন থেকে সব ধরনের সাহায্য সহযোগিতা পেয়েছি। যা চেয়েছি তাই দিয়েছে। বাংলাদেশ আর্মিও আমাকে সহায়তা দিয়েছে। তবে বিশেষভাবে বলবো অপু (শ্যুটিং ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক) ভাইয়ের কথা। সব সময় তিনি আমাদের পাশে থেকেছেন। কম্পিটিশনের সময় আমার অন্য সতীর্থরাও আমাকে সমর্থন দিয়েছে। তাদের কাছেও আমি কৃতজ্ঞ।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ