ঢাকা, বৃহস্পতিবার 12 April 2018, ২৯ চৈত্র ১৪২৪, ২৪ রজব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীদের প্রচারণায় তোড়জোড়

খুলনা অফিস : খুলনা সিটি করপোরেশন (কেসিসি) নির্বাচনকে ঘিরে মেয়র পদে ৮ জন প্রার্থীসহ ৩৩৮ জন প্রার্থীর প্রচারণার তোড়জোড় শুরু হয়েছে। মেয়রের একটি, সাধারণ কাউন্সিলরের ৩১টি ও সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলরের ১০টিসহ ৪২টি পদের জন্য ইতোমধ্যেই ৩৩৮ প্রার্থী নির্বাচন অফিস থেকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন। প্রার্থীরা বিভিন্ন স্থান থেকে মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা নিয়ে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ ও এলাকায় এলাকায় মোটরসাইকেল নিয়ে শোডাউন ও মিছিল-সমাবেশ করছেন। কিছু কাউন্সিলর প্রার্থীর পক্ষে লিফলেটও বিতরণ করা হচ্ছে। এ সব প্রচারণা নিয়ে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ করছেন। তবে এখন পর্যন্ত নির্বাচন কমিশনে এ অভিযোগ বিষয়ে লিখিত বা মৌখিক কোন ধরনের আবেদন হয়নি।

খুলনা মহানগর বিএনপির সহ দফতর সম্পাদক সামসুজ্জামান চঞ্চল বলেন, বিএনপি মনোনীত মেয়র প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণাসহ সার্বিক প্রস্তুতি নিতে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় পার্টি অফিসে বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের যৌথ সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভা থেকে নজরুল ইসলাম মঞ্জুকে বিজয়ী করতে প্রয়োজনীয় করণীয় নির্ধারণ ও সিদ্ধান্ত হয়। তিনি বলেন, কাউন্সিলর প্রার্থীরা যে যার মত করে আচরণবিধি মেনেই নির্বাচনের জন্য প্রয়োজনীয় প্রচার প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। দলীয় প্রার্থী চূড়ান্ত করার পর প্রচারণা সুশৃঙ্খল হবে বলে তিনি আশা করেন।

মহানগর আওয়ামী লীগের দফতর সম্পাদক মুন্সী মাহাবুব আলম সোহাগ বলেন, দলীয় মনোনীত মেয়র প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচনী কৌশল ও প্রচারণার ধরন নির্ধারণে বুধবার সন্ধ্যায় মহানগর আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ওই সভা থেকেই প্রয়োজনীয় পরিকল্পনা নিয়েই তালুকদার আব্দুল খালেকের পক্ষে প্রচারণা শুরু করা হয়েছে। এবার সকলেই নৌকার পক্ষে একজোট। পরিকল্পিতভাবে প্রচারণার মাধ্যমে খালেককে মেয়র নির্বাচিত করার জন্য সম্মিলিত প্রয়াস চালানো হবে। তিনি বলেন, কাউন্সিলরদের মনোনয়ন দলীয় প্রধান শেখ হাসিনা নিজেই দিয়েছেন। বড় দলে প্রত্যাশা পূরণ না হওয়ায় মনোকষ্ট থাকতেই পারে। তবে, তা ক্ষোভে রূপ দিয়ে জনমনে ছড়িয়ে দেয়া ঠিক হবে না। কোন প্রার্থী বা তার পক্ষে এ ধরনের আচরণের ঘটনা ঘটে থাকলে তা দুঃখজনক। ওই ওয়ার্ডে দলীয় মনোনয়ন পাওয়া ব্যক্তিরই উচিত বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করে সংশ্লিষ্টদের শান্ত রাখা। আমরা বর্ধিত সভায়ও এ বিষয়ে আলোচনা তুলব। সেখান থেকেই পরবর্তী দিক নির্দেশনা স্থানীয় শীর্ষ নেতারা দেবেন।

এদিকে নির্বাচন উপলক্ষে পোস্টার, ব্যানার, দেওয়াল লিখন, বিলবোর্ড, তোরণ প্যান্ডেল ও আলোকসজ্জাসহ প্রচার সামগ্রী এবং নির্বাচনী ক্যাম্প অপসারণ করার জন্য অনুরোধ করা হলেও তা মানছেন না কেউ। যত দিন যাচ্ছে ততই এ সব প্রচার সামগ্রীর ছড়াছড়ি বাড়ছে। মহানগর জুড়ে সম্ভাব্য কাউন্সিলর প্রার্থীদের ব্যানার, প্যানা, পোস্টারের ছড়াছড়ি শুরু হয়েছে। পাড়া-মহল্লায় হচ্ছে মিছিল সমাবেশ।

কেসিসি নির্বাচনের রিটার্নিং অফিসার ও আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মো. ইউনুস আলী বলেন, নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের কোন অভিযোগ তিনি এখনও পাননি। নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার পর মহানগরী এলাকায় সম্ভাব্য প্রার্থীদের পোস্টার, ব্যানার, দেওয়াল লিখন, বিলবোর্ড, তোরণ, প্যান্ডেল ও আলোকসজ্জাসহ প্রচার সামগ্রী ৮ এপ্রিল রোববার রাত ১২টার আগে ব্যক্তিগত উদ্যোগে অপসারণের জন্য বলা হয়েছিল। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তা অপসারণ না করার ফলে জেলা প্রশাসন ও সিটি কর্পোরেশন থেকে অভিযান চলছে। তিনি বলেন, এ পর্যন্ত মেয়র পদে ৮ জনসহ ৩ শতাধিক প্রার্থী মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন। ১২ এপ্রিল পর্যন্ত মনোনয়নপত্র দেয়া হবে এবং ওইদিনই মনোনয়নপত্র জমা নেয়ার শেষ সময় নির্ধারিত রয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ