ঢাকা, বৃহস্পতিবার 12 April 2018, ২৯ চৈত্র ১৪২৪, ২৪ রজব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

চলনবিলের ৩ জেলায় দেড় হাজার চাতাল বন্ধ ॥ শত শত শ্রমিক বেকার

তাড়াশ (সিরাজগঞ্জ) : লোকসানে পড়ে বন্ধ একটি চাতাল

শাহজাহান  তাড়াশ সিরাজগঞ্জ থেকে: চলনবিলে লোকসানের মুখে বন্ধ হয়ে গেছে  শত শত চাতাল  মিল।
সিরাজগঞ্জ,পাবনা নাটোরের মধ্যেবর্তী ধারাবাহিক লোকসানের কারণে বন্ধ হয়ে গেছে উত্তরাঞ্চলের ধান-চালের মোকাম চলনবিলের দেড়  হাজার’ চাতাল। একের পর এক অটোরাইস মিল স্থাপন, ধান ও চালের দামের গরমিলের পাশাপাশি সরকারের গুদামে চাল সরবরাহ না করায় মিল মালিকদের কালোতালিকাভুক্ত করায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্নিষ্টরা।
বার বার লোকসানে পড়ে  এসব চাতাল ব্যবসায়ী তাদের ব্যবসা পরিবর্তন করলেও চাতালে কর্মরত ২৫ হাজার শ্রমিক বেকার হয়ে পড়েছেন। শত শত চাতাল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সংকটে পড়েছেন মোকামের ধান-চাল ব্যবসায়ীরা। স্থবির হয়ে পড়েছে এই ধান-চালকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা ঈশ্বদী উপজেলা ধান-চাল ব্যবসায়ী সমিতি ও মালিক গ্রুপের কার্যক্রম। ঈশ্বরদীর জয়নগর আই.কে রোডের বৃহত্তম এই মোকাম ঘুরে এবং ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।
ব্যবসায়ীরা জানান, ঈশ্বরদী মোকামে একের পর এক বড় ব্যবসায়ী অটোরাইস মিল স্থাপন করায় এই মোকামের হাস্কিং মিল-চাতালের ব্যবসা এখন বন্ধ হওয়ার পথে। ঈশ্বরদী ধান-চাতালের পুরনো ও বড় মোকাম হলেও এখানে এখন তেমন ধান উৎপাদন হয় না। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ধান আমদানি করতে হয় মিল মালিকদের। সেই আমদানি করা ধান থেকে চাল উৎপাদন করলেও দামের ক্ষেত্রে বাজারে গরমিল হয়। এই কারণেই অনেক ব্যবসায়ী তার চাতাল বন্ধ করে দিয়েছেন। চাতাল ব্যবসায়ী মাহাবুবুর রহমান জানান, ঈশ্বরদীতে ৬শ' ধান-চাতাল রয়েছে। এর মধ্যে বর্তমানে চালু রয়েছে মাত্র ৪০-৫০টি চাতাল। বন্ধ হয়ে যাওয়া চাতাল মালিকদের কেউ কেউ অটো রিকশা বা অন্য কোনো পেশায় গিয়ে জীবিকা নির্বাহ করছেন। বন্ধ হয়ে যাওয়া বেশিরভাগ চাতাল অযতœ আর অবহেলায় পড়ে থেকে নষ্ট হচ্ছে। আবার কোনো কোনো চাতাল বিভিন্ন ফসল শুকানোর কাজে ব্যবহার হচ্ছে। বেশ কিছু চাতাল ভেঙে সেখানে বাড়ি বা স্থাপনা নির্মাণ করা হচ্ছে। সব কিছু মিলিয়ে উত্তরাঞ্চলের অন্যতম বৃহৎ এই মোকামে হাহাকার অবস্থা বিরাজ করছে।
ঈশ্বরদী উপজেলা ধান-চাল ব্যবসায়ী সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক সাদেক আলী বিশ্বাস জানান, অটো রাইচ মিলের কারণে ঈশ্বরদীর ধান-চাতালগুলো বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। তিনি জানান, অটো রাইচ মিলে উৎপাদিত চালের দাম কম, অন্যদিকে হাস্কিং মিলে উৎপাদিত চালের দাম কিছুটা বেশি। সেই কারণে এই মিলের উৎপাদিত চালের দাম বেশি হওয়ায় ক্রেতার সংখ্যা কম।
এ জন্যই ব্যাপক লোকসানের মুখে পড়ে ব্যবসায়ীরা তাদের ব্যবসা বন্ধ করতে বাধ্য হচ্ছেন। তিনি জানান, ব্যবসা বন্ধ হওয়ার কারণে তাদের সমিতির কার্যক্রমও মুখ থুবড়ে পড়েছে। বার বার নোটিশ করেও কোনো সভা করা যাচ্ছে না। ২০ বছরের ঐতিহ্যবাহী জাঁকজমকপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হওয়া 'বার্ষিক সাধারণ সভা' গত ৩ বছর ধরে করতে পারছেন না তারা।
ঈশ্বরদী উপজেলা চালকল মালিক গ্রুপের সভাপতি ফজলুর রহমান মালিথা জানান, উৎপাদন খরচ বেশি হওয়ায় সরকারি খাদ্য গুদামে সরকার নির্ধারিত মূল্যে চাল সরবরাহ না করায় ৫শ' মিল-চাতাল কালো তালিকাভুক্ত করা হয়। এ কারণে ব্যবসায়ীরা মিল বন্ধ করে দিয়েছেন। এ ছাড়াও অটো রাইচ মিলের দৌরাত্ম্যের কারণে হাস্কিং মিল বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। তবে নতুন ধান উঠলে কিছু মিল চালু হতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ