ঢাকা, বৃহস্পতিবার 12 April 2018, ২৯ চৈত্র ১৪২৪, ২৪ রজব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

প্রতারক কন্যা!

সিদ্দিকুর রহমান মাসুম, হবিগঞ্জ: ‘ভিটে-মাটিসহ পিতার ৫ কোটি টাকার সম্পত্তি গ্রাস করেছে প্রতারক এক কন্যা ও তার স্বামী’; হবিগঞ্জ প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে এমন অভিযোগই করেছেন শহরের শায়েস্তানগর এলাকার বাসিন্দা হাজী শেখ মোঃ সিদ্দিক আলী নামে শতবর্ষী এক বৃদ্ধ।
সম্প্রতি হবিগঞ্জ প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি তার লিখিত বক্তব্যে বলেন, ‘ বার্ধক্যজনিত কারণে আমি দীর্ঘদিন ধরে শয্যাশায়ী। আমি এক পুত্র ও দুই কন্যা সন্তানের জনক। আমার একমাত্র পুত্র শেখ সিরাজুল ইসলাম বন বিভাগের একজন অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী।
সে দীর্ঘদিন চাকুরীর কারণে বাড়িতে না থাকার সুযোগে আমার কনিষ্ঠ কন্যা হাজেরা খাতুন রুনু, তার স্বামী আব্দুর রউফ ছানু ও একটি চক্রের প্ররোচনায় বিগত ১৫ বছরে নগদ টাকা ও বসত-ভিটাসহ আমার প্রায় ৫ কোটি টাকার সম্পত্তি কৌশলে আত্মসাৎ করেছে’।
রুনু কিভাবে তার সাথে প্রতারণা করেছে লিখিত বক্তেব্যে তিনি এর একটি সংক্ষিপ্ত চিত্র তুলে ধরে বলেন, ‘আমার একমাত্র পুত্র শেখ সিরাজুল ইসলামের চাকুরী জীবনের ২৫ বছরে আমার কাছে সঞ্চিত প্রায় ২০ লাখ ও বাহুবলের পুটিজুরীস্থ আমার পুত্রের নিজ মালিকানাধীন ‘করাত কল’-এর ব্যবসার ১২ বছরের আয়ের প্রায় ৩০ লাখসহ মোট ৫০ লাখ টাকা বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন কৌশলে আমার কাছ থেকে হাতিয়ে নিয়েছে। বিগত ২০১০ সালে শহরের আনন্দপুর মৌজায় আমার বসত-ভিটার প্রায় সাড়ে ৫ শতক ভূমি আমার কাছ থেকে কৌশলে হেবা দলিল করে নেয়। যার বর্তমান বাজার মূল্য ১ কোটি ৫০ লাখ টাকা। প্রায় ৫ বছর পূর্বে একই মৌজায় আমার মালিকানাধীন ৩৮ শতক ধানী জমি কৌশলে আমাকে ভূল বুঝিয়ে অন্যত্র বিক্রি করে নগদ ৯৬ লাখ টাকা আত্মসাৎ করে।
ওই ভূমির বর্তমান বাজার মূল্য ও প্রায় দেড় কোটি টাকা। প্রায় ৪ বছর পূর্বে একই মৌজায় আমার মালিকানাধীণ ডুবারকম ৩ শতক ভূমি কৌশলে আমার ‘পাওয়ার অব এটর্নি’ নিয়ে অন্য এক ব্যক্তির কাছে নগদ ৫ লাখ টাকার বিনিময়ে বায়না দলিল মূলে বন্ধক দেয়।
প্রায় এক বছর পূর্বে একই মৌজায় আমার মালিকানাধীন ৪৪ শতক ধানী জমি একই ভাবে নগদ ৪২ লাখ টাকার বিনিময়ে দুই ব্যক্তির নিকট পৃথক দুটি বায়না দলিল মূলে বন্ধক দেয়। ২০১৭ সালে আমার কনিষ্ঠ কন্যা হাজেরা খাতুন রুনু’র স্বামী আব্দুর রউফ ছানু আমার জাল টিপসই নিয়ে একই মৌজায় ২৮ শতক ধানী জমি নগত ১৮ লাখ টাকায় বিক্রি করে। যার প্রকৃত বাজার মূল্য ৪০ লাখ টাকা।
এছাড়াও বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন কৌশলে আমার কাছ থেকে ১৮টি অলিখিত ব্যাংক চেক ও ১২টি অলিখিত স্টাম্পে স্বাক্ষর নেয়। এর মধ্যে বর্তমানে ৫ লাখ টাকার একটি ‘চেক ডিজঅনার’ মামলা আমি আইনি মোকাবেলা করে হয়রানীর শিকার হচ্ছি’।
তিনি তার লিখিত বক্তব্যে আরও বলেন, ‘আমার বার্ধক্যজনিত অসুস্থতা এবং আমার একমাত্র পুত্র কর্মস্থলে থাকার সুযোগে আমাকে কৌশলে নেশা জাতীয় দ্রব্য সেবন করিয়ে অর্ধ-অচেতন অবস্থায় কখনোবা জোরপূর্বক, কখনও শারীরিক-মানসিক নির্যাতন চালিয়ে উপরোক্ত সকল প্রতারণা মূলক কর্মকান্ড সম্পাদন করেছে। সর্বশেষ প্রায় ৪ মাস পূর্বে আমার কন্যা ও তার স্বামী মিলে আমাকে এবং আমার পুত্রকে জোরপূর্বক আমার বসত-ভিটা থেকে তাড়িয়ে দেয়। বর্তমানে আমি অসহায় অবস্থায় আমার পুত্রের সাথে আমানবিক ভাবে দিনযাপন করছি’।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি সংবাদপত্রকে জাতির আয়না, আর সাংবাদিককে জাতির বিবেক উল্লেখ করে বলেন, ‘আমি আপনাদের বিবেকের আদালতে সুবিচার চাই। আমি আশা করি আপনাদের বলিষ্ঠ লিখনির মাধ্যমে একজন অসহায় হতভাগ্য পিতা জুলুমের কবল থেকে রক্ষা পাবে’।
এ সময় তার সাথে উপস্থিত ছিলেন, স্ত্রী নিহার চান বিবি, একমাত্র পুত্র শেখ মোঃ সিরাজুল ইসলাম ও জাতীয়-স্থানীয় প্রিন্ট এবং ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ