ঢাকা, বৃহস্পতিবার 12 April 2018, ২৯ চৈত্র ১৪২৪, ২৪ রজব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

মুরাদনগরে কোটি টাকার সরকারি খাস পুকুর দখলের পাঁয়তারা

মুরাদনগর (কুমিল্লা) সংবাদদাতা: কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার ধামঘর ইউনিয়নের পরমতলা গ্রামের কোটি টাকা মূল্যের একটি সরকারি খাস পুকুর প্রভাবশালী চক্র একা জবর দখলের পাঁয়তারা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ব্যাপারে উচ্চ আদালতে দায়ের করা হয়রানিমূলক মামলাটি দ্রুত নিষ্পত্তি না হওয়ায় স্থানীয় প্রশাসন বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে।
জানা যায়, পরমতলা মৌজার ১নং খাস খতিয়ানের ১৪৬৩ দাগের এক একর ২৯ শতক আকারের পুকুরটি উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয় থেকে কয়েক যুগ ধরে ইজারা দেয়া হচ্ছিল। ২০১০ সালে ইজারা চলাকালীন ওই গ্রামের মৃত আব্দুর রহিমের ছেলে আহাম্মদ আলী ১৯৪০ সালের নিলাম খরিদের মাধ্যমে মালিকানার কাগজপত্র দেখিয়ে বিগত ২৮/০২/১০ইং কুমিল্লার সহকারী জজ আদালতে একটি দেওয়ানী মামলা করে (মামলা নং ১৯/১০)। ওই মামলা চলাকালীন সময়ে সরকারি ভাবে উক্ত পুকুর ইজারা বন্ধের জন্য মুরাদনগর সহকারী জজ আদালতে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা চাওয়া হয়। উক্ত নিষেধাজ্ঞার দু-তরফা শুনানীতে বাদীর কাগজপত্র সঠিকতা না পেয়ে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার আবেদনটি বিগত ১৬/০১/১১ইং না মঞ্জুর হয়। পরে বাদী কুমিল্লার অতিরিক্ত জজ আদালতে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আপিল করে (মোকদ্দমা নং ০৫/১১)। আপিলটিতে দু-তরফা শুনানী শেষে নি¤œ আদালতের রায় বহাল রেখে বিগত ১৪/০৯/১১ইং আপিল আবেদনটি খারিজ করে দেয়া হয়। পরবর্তীতে বাদী উক্ত আদেশের বিরুদ্ধে মহামান্য সুপ্রিম কোর্টে সিভিল রিভিশন মামলা করে (যার নং ৩৮৭২/১১)। এখানেও পুকুরের ইজারা বন্ধের জন্য অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা চাইলে সুপ্রিম কোর্টের মহামান্য বিচারপতি বিগত ০৯/১০/২০১১ তারিখে স্থিতাবস্থা বজায় রাখার আদেশ দেন এবং রুলনিশী জারি করেন। পরবর্তীতে সরকারের পক্ষ থেকে উক্ত রুলনিশির জবাব প্রদান করা হয়। বর্তমানে রিভিশন মামলাটি মহামান্য সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন রয়েছে।
মামলার বাদী আহাম্মদ আলী সম্প্রতি মারা গেলে বর্তমানে তার পুত্র সিরাজুল ইসলাম মামলাটি পরিচালনা করছে। পুকুরটি ১নং খাস খতিয়ানের হওয়া সত্বেও তার মালিকানা মামলার কোন ফয়সালা না করে তিনি দলবল নিয়ে পুকুরটি জবর দখলের পাঁয়তারা করছে। দীর্ঘদিন যাবত মামলাটি নিষ্পত্তি না হওয়ায় সরকারের পক্ষে পুকুরটি দখল ও নিয়ন্ত্রণ রাখা কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে। শুধু তাই নয়, উক্ত খাস পুকুরের পক্ষ নিয়ে কথা বললেই সিরাজুল ইসলাম বিভিন্ন মামলায় জড়িয়ে হয়রানি করারও ভয়ভীতি দেখাচ্ছে বলে জানা গেছে।
ধামঘর ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম ভুইয়া জানান, সরকারি খাস পুকুরটি আমাদের দখলে ও নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তবে সিরাজুল ইসলাম নামে জনৈক ব্যক্তি পুকুরটি জবর দখল করার পায়তারা করছে। সিভিল রিভিশন মামলাটি দ্রুত নিষ্পত্তি হলে পুকুরটি সরকারের পক্ষে টিকিয়ে রাখা সম্ভব হবে নতুবা সরকারের কোটি টাকা মূল্যের এ সম্পত্তি বেহাত হওয়ার আশংকা রয়েছে।
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মিতু মরিয়ম জানান, বিষয়টি আমার নজরে এসেছে। এ সংক্রান্ত রিভিশন মামলাটি নিষ্পত্তির চেষ্টা চলছে। পুকুরটি যেন বেহাত না হয় সে বিষয়ে আমরা সচেষ্ট আছি। সহকারী কমিশনার (ভূমি) রায়হান মেহেবুব জানান, সরকারি স্বার্থ রক্ষার্থে আমরা কর্মতৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছি।
বিষয়টির ব্যাপারে ওই গ্রামের মৃত আহাম্মদ আলীর পুত্র অভিযুক্ত সিরাজুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি নিলামের মাধ্যমে ওয়ারিশ সূত্রে উক্ত পুকুরটির মালিক বলে জানান। বর্তমানে পুকুরটি তার দখলেই রয়েছে এবং পুকুরে মাছ চাষ করে যাচ্ছেন বলে তিনি দাবি করেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ