ঢাকা, বৃহস্পতিবার 12 April 2018, ২৯ চৈত্র ১৪২৪, ২৪ রজব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

ফেসবুকে মৃত্যুর গুজব ॥ ইমরানেরসহ ২০টি অ্যাকাউন্ট শনাক্ত

স্টাফ রিপোর্টার : সরকারি চাকরিতে বিদ্যমান  কোটা ব্যবস্থার সংস্কার দাবিতে গড়ে ওঠা আন্দোলনের প্রথম দিনে ‘পুলিশের গুলীতে আহত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থী কিছুক্ষণ আগে মারা  গেছেন’- এমন স্ট্যাটাস দিয়ে মৃত্যুর গুজব ছড়ানোর জন্য গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ইমরান এইচ সরকারের অ্যাকাউন্ট শনাক্ত করেছে পুলিশের সাইবার ক্রাইম টিম। ইমরানের অ্যাকাউন্টের সঙ্গে আরো ২০-২৫টি অ্যাকাউন্ট ও  পেজও শনাক্ত করা হয়েছে; যেগুলো থেকে ফেসবুকে মৃত্যুর গুজব ছড়ানো ও আন্দোলনে উসকানি দেয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ করা হচ্ছে।
আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সূত্রে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।
সূত্রটি বলছে, ইমরানের অ্যাকাউন্ট থেকে একাধিক স্ট্যাটাস দেয়া হয়েছে। এক শিক্ষার্থীকে পুলিশ হত্যা করেছে বলেও ইমরানের অ্যাকাউন্ট থেকে দাবি করা হয়। পরে ওই শিক্ষার্থীই জানান, তিনি বেঁচে আছেন।
পুলিশ বলছে, আবু বক্কর সিদ্দিকি নামে আহত এক শিক্ষার্থীর অজ্ঞান অবস্থার ছবি তুলে তার মৃত্যু হয়েছে বলে গুজব ছড়ানো হয়।
সূত্র বলছে, মৃত্যুর গুজব সবচেয়ে বেশি ছড়ানো হয়েছে ইমরান এইচ সরকারের ভেরিফায়েড পেজ থেকে। পেজটিতে সাড়ে ১৪ লাখের বেশি লাইকার রয়েছেন। ইমরান এইচের বিরুদ্ধে মামলা হলে তিনি গ্রেফতার হতে পারেন বলেও জানিয়েছে সূত্রটি।
পুলিশের সাইবার ক্রাইম বিভাগের অতিরিক্ত উপ কমিশনার (এডিসি) নাজমুল ইসলাম বলেন, ‘মৃত্যুর গুজব ও উসকানিমূলক পোস্ট দেয়া ২০-২৫টি অ্যাকাউন্ট সাসপেক্ট করা হয়েছে।’
 কোটা সংস্কার আন্দোলনের প্রথম দিনেই পুলিশের গুলীতে একজনের মৃত্যুর কথা জানিয়ে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছিলেন ইমরান এইচ সরকার। ওই খবরটি সত্য ছিল না। পরে অবশ্য আরেকটি স্ট্যাটাসে তিনি লেখেন- ‘একটা ভালো খবর হলো, একজন মারা যাবার যে গুজবটা ছড়িয়ে পড়েছিল এখনো সেটার সত্যতা পাওয়া যায়নি। তবে অনেকের অবস্থা বেশ খারাপ। সবাই দোয়া করবেন আল্লাহ যেনো সবাইকে বাঁচিয়ে রাখেন।’
আগের পোস্টটি ডিলিট করা হয়েছে বলেও ওই স্ট্যাটাসের একটি কমেন্টে জানান ইমরান।
ছাত্রমৃত্যুর গুজব রটনাকারীদের বিরুদ্ধে মামলা হবে :  কোটা সংস্কারের দাবিতে গত রোববার রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির বাসায় আগুন দেওয়ার ঘটনায় মামলা করা হবে। ঘটনার সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তবে যারা নিরপরাধ, তাদের ছেড়ে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে সচিবালয়ে তাঁর কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন তিনি।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ঘটনার দিন ফেসবুকে একজন ছাত্র মারা গেছে এমন গুজব উঠেছিল। আমি খোঁজ নিয়ে দেখেছি, তিনি বেঁচে আছেন। তারপর ওই শিক্ষার্থী একটি ভিডিও প্রকাশ করেন যে তিনি জীবিত। যারা তাঁর মৃত্যুর গুজব রটিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে মামলা হবে।
এ সময় সাংবাদিকেরা বলেন, গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ইমরান এইচ সরকারও ফেসবুকে এমন বিষয় তুলেছিলেন। তখন মন্ত্রী বলেন, ‘অনেকেই ছড়িয়েছেন, যারা ছড়িয়েছেন, সবার বিরুদ্ধে মামলা হবে।’
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, ‘ভিসির বাড়িতে হামলার এ ঘটনাটা নিন্দনীয় ও জঘন্য। তাঁর পরিবারের লোকজন বাসা থেকে বের হয়ে বাগানে আশ্রয় নিয়েছিলেন। তাঁর সিসি ক্যামেরা, মনিটর ভাঙচুর করা হয়েছে। এসব বিষয়েও ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কারা জড়িত, তদন্তে গোয়েন্দা সংস্থা কাজ করছে। অনেক জিনিস ওই বাসা থেকে খোয়া গেছে। মুখোশ পরে আগে নারী ও পরে পুরুষেরা প্রবেশ করে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সব ইউনিটকে নির্দেশ দিয়েছি ভিসির বাড়িতে ঢোকার। তারা এসব তথ্য দিয়েছেন।’
 কোনো রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মী এ কাজে জড়িত আছে কি না, তা–ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘নীলক্ষেতের রাস্তা দিয়ে অনেক সন্ত্রাসী ঢুকেছে। আমাদের জানামতে হাজার খানেক মানুষ ওখান দিয়ে ঢুকেছে। এর সঙ্গে কোনো রাজনৈতিক দলের সম্পৃক্ততা থাকতে পারে, তা না হলে ছাত্ররা মুখোশ পরেছে কেন?’
ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা নাশকতার সঙ্গে জড়িত নয় জানিয়ে আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, ‘আমি খোঁজখবর নিয়ে জানতে পেরেছি, ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা নাশকতার সঙ্গে জড়িত নয়। ফেসবুকে ছাত্রলীগের নামে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।’

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ