ঢাকা, শুক্রবার 13 April 2018, ৩০ চৈত্র ১৪২৪, ২৫ রজব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

আসছে অর্থবছরে কর ব্যবস্থাপনায় বড় পরিবর্তন আনা হবে ---অর্থমন্ত্রী

 

স্টাফ রিপোর্টার: নতুন অর্থবছরে কর ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হবে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। তিনি বলেন,গুগল-ফেসবুক এবং ইউটিউবকে করের আওতায় আনা হবে।

 গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর একটি হোটেলে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের পরামর্শক কমিটির ৩৯তম সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ তথ্য জানান। পরামর্শক কমিটির সভায় জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া সভাপতিত্ব করেন। সভায় এফবিসিসিআই সভাপতি শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন ছাড়াও এফবিসিসিআইর সাবেক ও বর্তমান নেতারা বক্তব্য রাখেন। 

এনবিআর ও এফবিসিসিআই আয়োজিত সভায় অর্থমন্ত্রী বলেন, ১০ বছর আগে কর দেওয়ার ক্ষেত্রে যে ভীতি ছিল সেটা এখন দূর হয়েছে। দেড় বছর আগেই টিআইএনধারীর সংখ্যা ৩০ লাখ ছাড়িয়েছে। এই টিআইএনধারীরদের নিয়ে বড় ধরনের পরিবর্তনের কথা ভাবছি।

তিনি বলেন, নির্বাচনের বছর হওয়াতে এবার বাজেট প্রণয়নের কাজ আমরা একটু আগেই শুরু করেছি। অন্যান্য বছর ফেব্রুয়ারি-মার্চে শুরু হলেও এবার আমরা জানুয়ারিতেই কাজ শুরু করে দিয়েছি। কারণ, আমি নিজেই চাই, এবারের নির্বাচনি বছরে নতুন কিছু উদ্যোগ যাতে নেওয়া যায়।  অর্থমন্ত্রী  বলেন, পুরনো যেসব উদ্যোগ নিয়েছি, সেগুলো যাতে পারফেক্ট করা যায়। ভালো করা যায়। সেটাও আমার উদ্দেশ্য।

আবুল মাল আবদুল মুহিত আরও বলেন, দেশের রাস্তাগুলো নষ্ট হওয়ায় এখন মানুষের কষ্ট সবচেয়ে বেশি। রাস্তা ধ্বংস হওয়ায় মানুষের কষ্ট, এটা সবচেয়ে বেশি প্রকট। সারাদেশের রাস্তার অবস্থাই খারাপ। দেশের বদনামও এই জন্যই। আমি ব্যক্তিগতভাবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বসে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা ভাবছি।

তিনি আরও বলেন, অধিকাংশ রাস্তা একই মাপের হওয়ায় ব্যবসায়ীরা কন্টেইনার আনতে অসুবিধায় পড়েন। সারাদেশেই এটা একটা বড় সমস্যা। এ কারণে রাস্তাগুলো দ্রুত নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। আমরা এর থেকে উত্তরণের চেষ্টা করছি। এজন্য রাস্তার গ্রেডিং আন্তর্জাতিক মানের করা হচ্ছে। গাড়ি চলাচলে যাতে দেশে একটি সিস্টেম প্রবর্তিত হয় সেজন্য রাস্তায় বড় গাড়ি চলাচলে নিয়ন্ত্রণ আনারও উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

অর্থমন্ত্রী  ই-কমার্স ব্যবসাকে আইটিএস খাতে অন্তর্ভুক্ত করারও ঘোষণা দেন। পাশাপাশি পণ্য সরাসরি রফতানির ক্ষেত্রে প্রণোদনার বিষয়টি নিশ্চিত করা হবে বলে ব্যবসায়ীদের আশ্বস্ত করেন। একই সঙ্গে বেকারি ও কৃষিজাত পণ্যে ভ্যাট প্রত্যাহার করা হতে পারে বলেও আভাস দিয়েছেন তিনি। তবে, পোল্ট্রিতে কোনও প্রণোদনা দেওয়া সম্ভব হবে না বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী।

এর আগে আসন্ন নতুন বাজেটে ব্যক্তির করমুক্ত আয়সীমা সাড়ে তিন লাখ টাকা করার প্রস্তাব দেয় ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই। এফবিসিসিআই সভাপতি শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন একইসঙ্গে সব কোম্পানির ক্ষেত্রে করপোরেট কর হার ২৫ ও ৩৫ শতাংশ করার প্রস্তাব দেন। 

এছাড়া, তৈরি পোশাক শিল্পের নানা খাতে ভ্যাট প্রত্যাহার ও রিটার্ন দাখিল করা থেকে অব্যাহতি চেয়েছেন এই ব্যবসায়ী নেতা। প্রস্তাবনায় আসছে বাজেটে ব্যাংক ঋণের সুদের হার কমানো, শিল্পখাতে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস, বিদ্যুৎ সরবরাহ দেওয়াসহ শিল্পবান্ধব পরিবেশ তৈরির প্রস্তাব দেন। এছাড়া, সভায় বিভিন্ন ব্যবসায়ীরা কাঁচামাল আমদানির ক্ষেত্রে ট্যাক্স কমানোসহ নানা প্রস্তাবনা দেন।

এনবিআর চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া বলেন, বাংলাদেশের ট্যাক্স জিডিপি রেশিও ১০ শতাংশের ওপরে যাচ্ছে না। তাই, করের আওতা বাড়িয়েই রাজস্ব আদায় বাড়াতে হবে বলে মনে করেন তিনি। রাজস্ব না কমিয়ে কীভাবে করপোরেট ট্যাক্স সুষম করা যায়, সেদিকে সরকার লক্ষ্য রাখছে বলে মনে করেন এনবিআর চেয়ারম্যান।

এনবিআর চেয়ারম্যান আশ্বাস দেন, রাজস্ব আদায় বাড়াতে ব্যবসায়ীরা নানা সময় হয়রানির কথা বলেন। এসব সমস্যা থেকে বের হতে রাজস্ব বোর্ড কাজ করছে বলেও জানান মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ