ঢাকা, সোমবার 16 April 2018, ৩ বৈশাখ ১৪২৫, ২৮ রজব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

খালেদা জিয়াকে ছাড়া দেশে কোন প্রহসনের নির্বাচন হতে দেয়া হবে না

রাজশাহী : গতকাল রোববার রাজশাহীতে বিএনপির সমাবেশে বক্তব্য দিচ্ছেন ড. খোন্দকার মোশাররফ হোসেন -সংগ্রাম

রাজশাহী অফিস : বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির অন্যতম সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেছেন, সংসদ ভেঙ্গে দিয়ে নির্দলীয় ও নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন অনুষ্ঠানের ব্যবস্থা করতে হবে। নির্বাচন হতে হবে অংশগ্রহণমূলক। সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করতে সেনাবাহিনী মোতায়েন করতে হবে। তিনি বলেন, এর মাধ্যমে বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করা হবে ইনশাআল্লাহ। 

গতকাল রোববার বিকেলে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে কারাগারে বন্দী রাখার প্রতিবাদে রাজশাহী বিভাগীয় সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন, বিএনপি’র রাজশাহী মহানগর সভাপতি ও রাজশাহী সিটি মেয়র মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল। সমাবেশে অন্যদের মধ্যে বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, গয়েশ^র চন্দ্র রায়, ড. আব্দুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ভাইস চেয়ারম্যান ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, বরকত উল্লাহ বুলু, ব্যারিস্টার আমিনুল হক, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও সাবেক মেয়র মিজানুর রহমান মিনু, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জয়নাল আবদিন ফারুক, হেলালুজ্জামান তালুকদার লালু, কর্ণেল (অব:) আব্দুল লতিফ, যুগ্ম মহাসচিব হারুন অর রশিদ, বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ শাহীন শওকত, কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য নাদিম মোস্তফা, আমিরুল ইসলাম খান আলীম, কাজী গোলাম মোর্শেদ, কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও উপজেলা চেয়ারম্যান আবু সাঈদ চাঁদ, রাজশাহী জেলা বিএনপির সভাপতি তোফাজ্জল হোসেন তপু, মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শফিকুল হক মিলন প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। খন্দকার মোশাররফ বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে বিএনপি শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে যাচ্ছে। আমরা আশা করছি, এতে সরকারের বোধোদয় হবে এবং খালেদা জিয়াকে মুক্তি দেবে। অন্যথায় বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে আমরা কঠিন কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবো। তিনি হুসিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, এদেশে কোনো পাতানো নির্বাচন হবে না। আর খালেদা জিয়াকে বাদ রেখে নির্বাচন করতে দেওয়া হবে না। ২০১৪ এর ৫ জানুয়ারি ভোটারবিহীন নির্বাচনের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই নির্বাচনে ভোটাররা ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেনি। তাই সুদে-আসলে আগামী নির্বাচনে জনগণ আ’লীগকে আস্তাকুঁড়ে নিক্ষেপ করবে। তিনি আরো বলেন, খালেদা জিয়াকে বাদ রেখে, বিএনপিকে বাদ রেখে, ২০ দলীয় জোটকে বাদ রেখে এবং জনগণকে বাদ রেখে দেশে প্রহসনের নির্বাচন করতে দেয়া হবে না। তিনি বলেন, সরকার বিএনপিকে ভয় পায়। খালেদা জিয়াকে ভয় পায়। তাই মিথ্যা মামলায় তাকে অন্যায়ভাবে নির্জন কারাগারে বন্দী করে রাখা হয়েছে। তিনি বলেন, খালেদা জিয়া মুক্তি পেলেই গণতন্ত্র মুক্তি পাবে। মোশাররফ হোসেন বলেন, ছাত্র আন্দোলন সরকারকে একটি নোটিশ দিয়েছে কিন্তু জনগন কোন নোটিশ ছাড়াই খালেদা জিয়াকে মুক্ত করবে। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এদেশের মানুষের গণতন্ত্র, মানুষের অধিকার এবং বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি একই সুতোয় গাঁথা। গণতন্ত্র মুক্তি মানেই খালেদা জিয়ার মুক্তি। তাই জনগণের ভোটাধিকার খালেদা জিয়ার মুক্তির উপর নির্ভর করে।

সমাবেশে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল আউয়াল মিণ্টু, কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য শহীদুন্নাহার কাজী হেনা, রাজশাহী জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ মো: মহসিন, মহানগর বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক মামুন অর রশিদ মামুন, জেলা বিএনপির সহসভাপতি বজলুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম মোস্তফা মামুন, মহানগর যুবদলের সভাপতি আবুল কালাম আজাদ সুইট, জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক শফিকুল আলম সমাপ্ত, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহবায়ক নুসরাত এলাহী রিজভী, মহানগর যুবদলের সাবেক সভাপতি ওয়ালিউল হক রানা প্রমুখ। সমাবেশে রাজশাহী মহানগর ও জেলা, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নাটোর, নওগাঁ, বগুড়া, জয়পুরহাট, পাবনা ও সিরাজগঞ্জসহ ৮টি জেলার বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর নেতাকর্মীরা অংশগ্রহণ করেন। দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের এই সমাবেশে প্রধান অতিথি থাকার কথা ছিলো। কিন্তু মায়ের মৃত্যুর কারণে আসতে তিনি পারেননি। এ সময় মির্জা ফখরুলের মায়ের রুহের মাগফিরাত কামনা করা হয়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ