ঢাকা, সোমবার 16 April 2018, ৩ বৈশাখ ১৪২৫, ২৮ রজব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

সুস্থধারার সংস্কৃতি চর্চাকে উৎসাহিত করতে হবে -সেলিম উদ্দিন

 

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমীর মুহাম্মদ সেলিম উদ্দিন বলেছেন, বিজাতীয় সংস্কৃতির আগ্রাসনে আমরা এখন নিজস্ব সংস্কৃতির স্বকীয়তা প্রায় হারাতে বসেছি। আকাশ সংস্কৃতির কুপ্রভাবে আমাদের দেশে যে ধরনের সংস্কৃতির চর্চা শুরু হয়েছে তার সাথে দেশের বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর আবেগ-অনুভূতি, বোধ-বিশ^াস ও তাহজীব-তমুদ্দনের কোন সম্পর্ক নেই। তাই আমাদের জাতীয় ঐহিত্য ও নিজস্ব ধারার সংস্কৃতির প্রতি সম্মান দেখিয়ে সৃজনশীল ও সুস্থধারার সংস্কৃতি চর্চাকে উৎসাহিত করতে হবে। তিনি কথিত সংস্কৃতির নামে বিজাতীয় অপসংস্কৃতির বিষয়ে সতর্ক থাকতে সংস্কৃতিসেবী ও পৃষ্ঠপোষকসহ সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আহবান জানান। অন্যথায় আমাদেরকে একদিন গড্ডালিকা প্রবাহে হারিয়ে যেতে হবে।

গত শনিবার রাজধানীর একটি খেলার মাঠে ‘ধ্বংস দেখে ভয় কেন তোর প্রলয় নতুন সৃজন বেদন, আসছে নবীন জীবন হারা অসুন্দরের করতে ছেদন’ স্লোগানকে সামনে রেখে জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী উত্তরের রমনা জোন আয়োজিত আন্তঃথানা ফুটবল টুর্নামেন্ট ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের সেক্রেটারি ড. মুহা. রেজাউল করিমের সভাপতিত্বে ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের কর্মপরিষদ সদস্য হেমায়েত হোসাইনের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মহানগরীর মজলিশে শুরা সদস্য ড. হাবিবুর রহমান, আতাউর রহমান সরকার, এডভোকেট জিল্লুর রহমান, হাফেজ মিজানুর রহমান, সালাহউদ্দীন, এ আর এম মনির, সাইফুল ইসলাম, আলাউদ্দীন মোল্লা ও আব্দুল্লাহ সাকী প্রমুখ। 

 সেলিম উদ্দিন বলেন, আল্লাহ রাব্বুল আলামীন মানুষকে শ্রেষ্ঠ জীব হিসেবে সৃষ্টি করেছেন। তাই ব্যক্তি যখন মনুষত্বকে বিকশিত করতে সমর্থ হয় তখন শ্রেষ্ঠত্বের ভূষণে ভূষিত হন। কিন্তু ব্যক্তি যখন মনুষত্ব হারিয়ে ফেলে তখন নেমে যায় পশুত্বেরও নি¤œ পর্যায়ে। তাই মানুষকে মনুষত্ব অর্জন করে চিন্তার পরিশুদ্ধি ঘটিয়ে বাস্তবজীবনে তার যথাযথ প্রতিফলন ঘটাতে হবে। আর তা হতে হবে অবশ্যই অহীর নির্দেশনা অনুযায়ি। মানুষ যখন অহীর জ্ঞানে আলোকিত হয়, তখন জীবনে পূর্ণতা আসে। মূলত আল্লাহ রাব্বুল আলামীন আমাদেরকে দুনিয়াতে খলিফা তথা প্রতিনিধি হিসেবে প্রেরণ করেছেন। আর প্রতিনিধির দায়িত্ব হলো তার মালিকের নির্দেশনা যথাযথভাবে পালন করা। কিন্তু আমারা সে কেক্ষেত্রে পুরোপুরি সফল হতে পারিনি বলেই আমাদের সমাজ-রাষ্ট্র এখনও গণমুখী ও কল্যাণকামী হয়ে ওঠেনি। ফলে সমাজ জীবনের রন্ধ্রে রন্ধ্রে প্রবেশ করেছে অবক্ষয়, অনিয়ম ও নানাবিধ জটিলতা। মানবতার বিপরীতে সমাজে স্থান করে নিয়েছে পশুত্ব, সুন্দর ও সুকুমার বৃত্তির চর্চার বিপরীতে আমাদের জাতীয় জীবনে নেমে এসেছে অনাসৃষ্টি। সংস্কৃতির নামে চলছে অপসংস্কৃতি। তাই আত্মপীড়িত ও দুর্দশাগ্রস্ত মানবতাকে বাঁচাতে হলে জামায়াতের ইসলামীর সকল স্তরের জনশক্তিকে চিন্তার পরিশুদ্ধি ঘঠিয়ে অহীর নির্দেশনা অনুসরণ করে গণমানুষের কল্যাণে আত্মনিয়োগ করতে হবে।   

তিনি বলেন, দেশ এক ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে। এই অবস্থা থেকে দেশ ও জাতিকে রক্ষা করে ন্যায়-ইনসাফের সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে হলে ইসলামী আন্দোলনের কর্মীদের দাওয়াত সম্প্রসারণের কাজে আত্মনিয়োগ করতে হবে। প্রতিটি ঘরে দ্বীনে হকের দাওয়াত পৌঁছাতে হবে। ইসলামী আন্দোলনের কর্মী সহ জনসাধারণের মধ্যে আধুনিক ও ইসলামী জ্ঞানের সুসমন্নয় ঘটিয়ে একবিংশ শতাব্দীর চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সকল শ্রেণির নাগরিকদের যোগ্যতর হিসাবে গড়ে তুলতে হবে। এ জন্য বেশি বেশি কুরআন, হাদিস ও ইসলামী সাহিত্য চর্চার কোন বিকল্প নেই। গণমানুষের সাথে আন্তঃসম্পর্ক বৃদ্ধি এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠী ও দুর্দশাগ্রস্ত মানুষের কল্যাণে নিরলসবাবে কাজ করতে হবে। আর এটিই হবে উত্তম দাওয়াত। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন দায়িদের বিশেষ মর্যাদা দান  করেছেন। কালামে হাকীমে ঘোষিত হয়েছে. ‘যে আল্লাহর দিকে দাওয়াত দেয়, সৎকর্ম করে এবং বলে, আমি একজন আজ্ঞাবহ। তার কথা অপেক্ষা উত্তম কথা আর কার হতে পারে’? (সুরা-হা মীম-৩৩। অপর আয়াতে বলা হয়েছে, ‘আপন পালনকর্তার পথের প্রতি আহবান করুন জ্ঞানের কথা বুঝিয়ে ও উপদেশ শুনিয়ে উত্তমরূপে এবং তাদের সাথে বিতর্ক করুন পছন্দ যুক্ত পন্থায়। নিশ্চয় আপনার পালনকর্তাই ঐ ব্যক্তি সম্পর্কে বিশেষভাবে জ্ঞাত রয়েছেন, যে তাঁর পথ থেকে বিচ্যুত হয়ে পড়েছে এবং তিনিই ভাল জানেন তাদেরকে, যারা সঠিক পথে আছে’। (সুরা নাহল-১২৫)

তিনি আরও বলেন, ‘দুষ্টের দমন ও শিষ্টের লালন’ রাষ্ট্রের দায়িত্ব হলেও দেশে কল্যাণ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত না থাকায় জনগণ রাষ্ট্রের কল্যাণ থেকে অনেক ক্ষেত্রেই বঞ্চিত হচ্ছে। সরকার দেশ ও জাতির কল্যাণে কাজ না করে এমন কিছু করছে যার সাথে দেশ ও জাতির স্বার্থের কোন সংশ্লিষ্টতা নেই। মূলত সরকার নিজেদের অবৈধ ক্ষমতাকে দীর্ঘায়িত করার জন্য স্বৈরাচারি ও ফ্যাসীবাদী ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে। তাই ইসলামী আন্দোলনের কর্মীদেরকে সরকারের জুলুম-নির্যাতনের বিরুদ্ধে গঠনমূলক সমালোচনা ও প্রতিবাদী হয়ে উঠতে হবে। হাদিসে রাসুল (সা.) এ বর্ণিত হয়েছে, ‘অত্যাচারী শাসকের নিকট সত্য কথা বলা সর্বশ্রেষ্ঠ জিহাদ’। (সুনানে আবু দাঊদ , তিরমিযী , ইবনে মাজাহ ) তিনি এই উত্তম জিহাদের অংশ নিতে সকলের প্রতি আহবান জানান।

মি’রাজ উপলক্ষ্যে আলোচনা সভা: জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও  ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমীর মুহাম্মদ সেলিম উদ্দিন বলেছেন, মি’রাজের মাধ্যমে আল্লাহ তায়ালা রাসুল (সা.) কে ইসলামী রাষ্ট্র গঠনের একটি রূপরেখা দিয়েছিলেন। সূরা বনি ইসরাঈলের ২২ থেকে ২৮ নং আয়াতে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন ইসলামী রাষ্ট্র গঠনের একটি পূর্ণাঙ্গ রূপরেখা তুলে ধরেছেন। সেই মহিমান্বিত রজনীতেই তিনি আমাদের জন্য ৫ ওয়াক্ত নামাজের বিধানকে ফরজ করে করেছেন । তিনি সকলকে মি‘রাজের শিক্ষা ও নির্দেশনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে তা বাস্তব জীবনে প্রতিফলন ঘটাতে সকলের প্রতি আহবান জানান। 

গত শনিবার রাজধানীর একটি মিলনায়তনে জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী উত্তরের উত্তরা জোন আয়োজিত পবিত্র শবে মি’রাজ উপলক্ষে এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ঢাকা মহানগরী উত্তরের কর্মপরিষদ সদস্য ইবনে কারীম আহমদ মিঠুর সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় মজলিশে শুরা সদস্য বেলায়েত হোসাইন সুজা, ঢাকা মহানগরী উত্তরের মজলিশে শুরা সদস্য মাওলানা মুহিব্বুল্লাহ, মেসবাহ উদ্দীন নাঈম, এডভোকেট ইব্রাহিম খলিল, মনিরুল হক ও শাহজাহান প্রমুখ। 

 সেলিম উদ্দিন বলেন, দেশ ও জাতির সার্বিক শান্তি-সমৃদ্ধি, ক্ষুধা ও দারিদ্রমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে ন্যায়-ইনসাফ ভিত্তিক ইসলামী সমাজ প্রতিষ্ঠার কোন বিকল্প নেই। আমরা সেই মহান লক্ষ্যকে সামনে রেখে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি। কিন্তু মহল বিশেষ ইসলামী আন্দোলনের বিরুদ্ধে ঘৃণ্য ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে এবং ইসলামী মূল্যবোধের বিরুদ্ধে প্রতিনিয়ত বিষোদগার করে যাচ্ছে। অতীতে কাফির-মুশরিকরা যেমন পবিত্র মিরাজের বিরুদ্ধে  অপপ্রচার ও মিথ্যাচার চালিয়েছিলো আজও ইসলাম বিরোধী শক্তি ইসলাম ও ইসলামী শক্তির বিরুদ্ধে  নানামুখী অপপ্রচার ও মিথ্যাচারের পথ বেছে নিয়েছে। সে ধারাবাহিকতায় ইসলামী সংগঠন ও ইসলামী ব্যক্তিত্বদের বিরুদ্ধে চালানো হচ্ছে ইতিহাসের নির্মমতম জুলুম-নির্যাতন। কিন্তু ইতিহাস সাক্ষী অতীতে যারাই ইসলাম ও ইসলামী শক্তিকে ধ্বংসের ষড়যন্ত্র করেছে সময়ের ব্যবধানে তারাই পৃথিবী থেকে নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। তাই সকল বাধা-প্রতিবন্ধকতা উপেক্ষা করেই ইসলামী আন্দোলনের কর্মীদের কাক্সিক্ষ লক্ষ্যে এগিয়ে যেতে হবে। 

তিনি বলেন, মূলত পবিত্র মিরাজের রাতেই ইসলামকে সর্বজনীন ও বিশ্বজনীন রূপ দেয়ার জন্য রাসুল (সা.) আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় ১৪ দফা দিক নির্দেশনা পেয়েছিলেন। সে জন্যই রাতটি প্রত্যেক মুসলমানের কাছে মহিমান্বিত ও বকরতপূর্ণ। রাসূল (সা.) এর সকল মুুযিযার মধ্যে অন্যতম শ্রেষ্ঠ মুযিযা হলো পবিত্র মিরাজ। মূলত পবিত্র মি’রাজের রাতে দিকনির্দেশনাগুলো হচ্ছে প্রথমত, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ। দ্বিতীয়ত, শিরকের গোনাহ ব্যতিত সকল গোনাহ মার্জনার প্রতিশ্রুতি। তৃতীয়ত, সূরা আল-বাকারার শেষাংশ। চতুর্থত, সূরা বনি ইসরাইলের ১৪ দফা নির্দেশনা। ১. একনিষ্ঠভাবে আল্লাহর ইবাদত করা, তাঁর সঙ্গে কারও শরিক না করা ২. পিতা-মাতার সঙ্গে সদাচারণ করা, ৩. আত্মীয়স্বজন, এতিম ও মুসাফিরের হক আদায় করা ৪. অপচয় না করা ৫. অভাবগ্রস্ত ও সায়েলদেরকে বঞ্চিত না করা ৬. হাত গুটিয়ে না রেখে সব সময় কিছু দান করা ৭. অন্যায়ভাবে কোনো মানুষকে হত্যা না করা। ৮. দারিদ্রের ভয়ে সন্তান হত্যা না করা ৯. ব্যভিচারের নিকটবর্তী না হওয়া ১০. এতিমের সম্পদের ধারেকাছে না যাওয়া ১১. যে বিষয়ে জ্ঞান নেই, তা অনুসন্ধান করা ১২. সঠিক ওজন নিশ্চিত করা ১৩. প্রতিশ্রুতি পালন করা ১৪. পৃথিবীতে দম্ভভরে চলাফেরা না করা। তাই দুনিয়ায় শান্তি ও আখেরাতে মুক্তির জন্য পবিত্র মিরাজের দিক নির্দেশনা অনুয়ারি জীবন গড়ার কোনই বিকল্প নেই। প্রেসবিজ্ঞপ্তি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ