ঢাকা, সোমবার 16 April 2018, ৩ বৈশাখ ১৪২৫, ২৮ রজব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

সাবেক রাষ্ট্রপতির উপলব্ধি, না তার নতুন রাজনীতি?

সৈয়দ মাসুদ মোস্তফা : স্বীকার করে নিতেই হবে যে আমাদের দেশে রাজনৈতিক সংকট চলছে। সংকটটা কৃত্রিম বললেও অত্যুক্তি হবার কথা নয়। কারণ, দীর্ঘ পথপরিক্রমায় মীমাংসিত বিষয় নিয়ে নতুন করে অনাকাক্সিক্ষত সংকট সৃষ্টি করা হয়েছে। কেন হয়েছে তা যারা বোঝেন তাদের নতুন করে বোঝানোর প্রয়োজন নেই। তবে এখনও যারা তা উপলব্ধি করতে পারেননি তাদের কাছে বিষয়টি গোপন করাই শ্রেয়তর মনে করছি। একথা অনস্বীকার্য যে, দেশে যে রাজনৈতিক সংকট চলছে তা দেশের গণতন্ত্র ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধকে কেন্দ্র করেই। কিন্তু স্বাধীন দেশে এমনটি হওয়া মোটেই কাক্সিক্ষত ছিল না। কারণ, আমরা গণতন্ত্র ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার জন্যই পিন্ডির গোলামী থেকে মুক্ত হয়েছিলাম। স্বাধীনতার দীর্ঘদিন পরও যদি দেশের গণতন্ত্র সমস্যা সংকুল থাকে, জনগণের ভোটাধিকার যদি নির্বিঘœ করা না যায় তাহলে সে স্বাধীনতা তো প্রশ্নবিদ্ধ হওয়ার সুযোগ থাকে। আমরা বোধহয় বিষয়টি ভালভাবে উপলব্ধিই করতে পারছি না বা এ বিষয়ে আমরা পুরোপুরি উদাসীন।

দেশে যে রাজনৈতিক সংকট চলছে তা নির্বাচন প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করেই। স্বাধীনতার ৫ দশক অতিক্রান্ত হওয়ার পর আমরা দেশের নির্বাচন প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য করতে পারিনি এটা আমাদের জন্য মোটেই সম্মানের নয় বরং ব্যর্থতা ও লজ্জার। আর মূল সংকটটা তো সেখানেই। কিন্তু সংকটের গ্রহণযোগ্য সমাধানের জন্য কোন পক্ষকেই আন্তরিক মনে হচ্ছে না। কারণ, বিবদমান পক্ষগুলো নিজেদের ক্ষমতাকে নির্বিঘœ রেখেই এই সমস্যার সমাধান খুঁজছে। যা প্রাসাদ শীর্ষে উঠে খোঁজারই নামান্তর। খুব সঙ্গত কারণেই বিবদমান পক্ষগুলোর এই বিষয়ে যেমন তৎপরতা রাখছেন তা কোনভাবেই ফলপ্রসূ হয়ে উঠছে না। কারণ,  তালগাছের মালিকানা অক্ষুণœ রেখেই শালিসে বসা হচ্ছে। তাই সেখান থেকে ইতিবাচক কিছু বেড়িয়ে আসছে না। আর ভবিষ্যতে আসার কোন সমূহ সম্ভবনাও দেখা যাচ্ছে না। ফলে আমাদের ভবিষ্যৎটা একটা সংকীর্ণ বৃত্তের মধ্যেই ঘুরপাক খাচ্ছে।

বিশে^র প্রায় প্রতিটি রাষ্ট্রেই ক্ষেত্র বিশেষে জাতীয় ও রাজনৈতিক সংকট সৃষ্টি হয়। বিশেষ করে তৃতীয় বিশে^র দেশগুলোতে এর প্রাদুর্ভাবটা উন্নত ও উন্নয়নশীল বিশে^র চেয়ে অনেকটাই বেশি। কিন্তু সেসব দেশের রাজনৈতিক সংকট কোনভাবেই স্থায়িত্ব লাভ করে না। রাজনৈতিক সংকটের নিষ্পত্তি হয় রাজনৈতিকভাবেই। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে মোকাবেলা করা হয় রাজনৈতিক ও আদর্শিক পন্থায়। কিন্তু আমাদের দেশ এর পুরো ব্যক্তিক্রম। কারণ, আমাদের দেশে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে ব্যক্তি পর্যায়ে টেনে আনা হয়। ফলে যেকোন মূল্যে প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার একটা অতিমাত্রার উন্নাসিকতা কাজ করে। তাই এক সংকট অনিয়মতান্ত্রিক পন্থায় মোকাবেলা করতে গিয়ে নতুন নতুন সমস্যার সৃষ্টি হয়। যার নেতিবাচক প্রভাব পড়ে জাতীয় জীবন তথা জনজীবনের ওপর। এসব ক্ষেত্রে জনগণের কল্যাণের কথা বলা হলেও প্রায় ক্ষেত্রেই জনস্বার্থ উপেক্ষিত হয়। লাভবান হয় মধ্যস্বত্ত্বভোগী শ্রেণি। আর এভাবেই চলছে আমাদের দেশের প্রচলিত রাজনীতি।

বলা যায়, আমাদের দেশে অভিনব পদ্ধতির রাজনীতি চলছে। বিশে^র অন্য কোন দেশে আমাদের দেশের প্রচলিত ধারার রাজনীতি চালু আছে বলে জানা যায় না। যে রাজনৈতিক শক্তিই একবার ক্ষমতার উষ্ণপরশ পাচ্ছে তারা সেখান থেকে কোনভাবেই ফিরে আসার কোন কথা চিন্তাই করতে পারছে না। আমাদের দেশ সাংবিধানিকভাবে গণপ্রজাতন্ত্র হলেও ক্ষমতাকেন্দ্রিক রাজনীতিতে তার উপস্থিতি একেবারে গৌণ হয়ে পড়েছে। প্রায় হারাতে বসেছে গণতান্ত্রিক চরিত্র ও বৈশিষ্ট্য। সেখানে স্থান করে নিয়েছে আত্মতন্ত্র ও গোষ্ঠীতন্ত্র। ফলে দেশে নির্বাচন হচ্ছে কিন্তু জনমতের প্রতিফলন ঘটছে না। দেশের মানুষও গণতন্ত্র ও নির্বাচন নিয়ে আগ্রহও হারিয়ে ফেলছে। বিশেষ করে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে ১৫৪ জন সংসদ সদস্য বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ার পর আমাদের দেশের গণতন্ত্র খাদের কিনারে এসে ঠেকেছে। এমনকি একটি রাজনৈতিক দল সরকার ও বিরোধী দলে যুগপৎভাবে অবস্থান এবং সংসদে বিরোধীদলীয় নেত্রী কর্তৃক ‘তারা বিরোধী দলে আছেন না সরকারি দলে’ একথা প্রধানমন্ত্রীকে খোলাসা করার আহ্বান জানানো জনমনে হাস্যরসের সৃষ্টি করেছে। যে অবস্থা চলছে তাতে আমরা যদি এ বিষয়ে ইতিবাচক চিন্তা না করি তাহলে আমাদের দেশে গণতন্ত্র নামীয় সত্ত্বার অপমৃত্যু ঘটার সম্ভাবনা সৃষ্টি হতে পারে। যা কারো জন্যই কল্যাণকর নয়।

দেশে গণতন্ত্র ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের অনুপস্থিতির কারণেই সুশাসনও প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে এবং রাষ্ট্রীয় জীবনে নানাবিধ উপসর্গেরও সৃষ্টি হচ্ছে। মূলত যেদেশের রাজনীতি শুধুমাত্র ক্ষমতাকে কেন্দ্র করেই আবর্তিত হয় দেশের রাজনীতি আর যাইহোক কল্যাণমুখী হতে পারে না। ফলে রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থায় স্থবিরতা ও সুশাসনে নানাবিধ সমস্যা দেখা যাচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে অতীতে বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠন, সুশীল সমাজ, দেশীয় ও আন্তর্জাতিক মহল, সুশীল সমাজ, বুদ্ধিজীবীমহল ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো বিভিন্ন কথা বলেছে। কিন্তু সাম্প্রতিককালে  সরকারের অংশ, জাতীয় সংসদে বিরোধী দলীয় সাংসদ ও প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত সাবেক রাষ্ট্রপতি হোসেইন মোহাম্মদ এরশাদের বক্তব্য সকল শ্রেণির মানুষের নজর কেড়েছে। কেউ কেউ তার এই সাহসী বক্তব্যকে সময়োচিত ও বিরোচিত বলে আখ্যা দিয়েছেন। তিনি গত ৭ এপ্রিল চট্টগ্রামের লালদীঘি ময়দানে সম্মিলিত জাতীয় জোট আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বলেছেন , দেশে কখন কে গুম হচ্ছে আর খুন হচ্ছে আল্লাহ ছাড়া তা কেউ জানে না। তবে এ দেশের প্রধানমন্ত্রী সব জানেন’।

তিনি বলেন, দেশে আগে মহাসড়কের উন্নয়ন হতো। এখন উন্নয়নের মহাসড়ক দুর্নীতির মহাসড়কে পরিণত হয়েছে। দুর্নীতির মহাসড়কে এখন শুধু খাল-বিল কেন? এই মহাসড়কে আমরা হাবুডুবু খাচ্ছি। ঢাকা থেকে রংপুর যেতে এখন সময় লাগে ১৫ ঘণ্টা। দেশের মানুষ পরিবর্তন চায় দাবি করে এরশাদ বলেন, ‘আমরা একক সরকার চাই না। সব একজনের কথায় চলছে। দেশে কোনো নিরাপত্তা নেই। এখন তো নির্বাচন হয় না, সিল মারে। তাই নির্বাচন কেন্দ্র পাহারা দিতে হবে। আমাদের প্রস্তুত থাকতে হবে।’ তিনি বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য নির্বাচন পদ্ধতি সংস্কার করতে হবে। সুষ্ঠু নির্বাচন হলে জাতীয় পার্টি সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে জয় লাভ করে সরকার গঠন করবে।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের মতো ব্যাংক ডাকাতি বিশ্বের আর কোথাও হয় নি, কিছুদিন আগে বলা হতো ব্যাংকের টাকা নেয়ার কেউ নেই। এখন বলা হচ্ছে ব্যাংকে টাকা নাই। কোথায় গেল এই টাকা? ব্যাংকের টাকা দিতে না পারলে কৃষককে জেলে যেতে হতো। আর এদের যেতে হয় না কেন? প্যারাডাইস পেপারসে এদের নাম আসে। এদের তো বিচার হয় না। কৃষকের বিচার হয়।

মূলত সাবেক রাষ্ট্রপতির এই বক্তব্যে গোটা দেশেরই বাস্তবচিত্র ফুটে উঠেছে বলেই মনে করছেন অভিজ্ঞমহল। আসলে দেশে গণতন্ত্র, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও পরিবেশ না থাকায় আমাদের দেশে এক ধরনের অচলবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। ক্ষমতাসীনরা তাদের ক্ষমতা রক্ষার ও বিরোধী দলগুলো ক্ষমতা অর্জনের অশুভ প্রতিযোগিতায় অবতীর্ণ হয়েছেন। ফলে দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠা যেমন সম্ভব হচ্ছে না ঠিক তেমনিভাবে দেশের মানুষও নানাভাবে অধিকার বঞ্চিত হচ্ছে। এতোদিন বিভিন্ন মহল থেকে গলা ফাটিয়ে এসব কথা বলা হলেও  সংসদে বিরোধী দলীয় সাংসদ ও যুবপৎভাবে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত এমন অপ্রিয় সত্য কথা বলার পর তা সর্বমহলে প্রশংসিত হয়েছে এবং তা বিরোধীদলীয় নেতাদের বক্তব্য থেকে অধিক গুরুত্ব পাচ্ছে। কিন্তু দেশে উদারনৈতিক গণতন্ত্র ও বাকস্বাধীনতার নিশ্চয়তা না থাকায় জীবন সায়াহ্নে এসে এই বর্ষীয়ান রাজনীতিক ও সাবেক রাষ্ট্রপতিকে চড়া মূল্য দিতে হয় কি না তা নিয়ে আত্মসচেতন মহলে আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। তবে পরিস্থিতি যেদিকে মোড় নিক না কেন সাবেক রাষ্ট্রপতি যদি তার কথার ওপর শেষ পর্যন্ত প্রতিষ্ঠিত থাকতে পারেন তাহলে এই অপ্রিয় সত্যকথনের জন্যই তিনি স্মরণীয় হয়ে থাকবেন বলেই আশা করা যায়। তবে ভিন্ন কথাও আছে। অনেকেই মনে করেন, তার এই উপলব্ধির ব্যাপারটা তার আর এক রাজনীতি হতে পারে। আপোষে তার এই লড়াইটা কায়া ও ছায়ার লড়াইয়ের মতো, যা তার বর্তমান মনিবকে রক্ষা করারই এক কৌশল।

মূলত আমাদের দেশের রাজনৈতিক অচলাবস্থার কারণেই রাষ্ট্রব্যবস্থা পুরোপুরি গণমুখী হয়ে উঠতে পারেনি। জনগণও রাষ্ট্রের কল্যাণ পুরোপুরি ভোগ করতে পারছেন না। রাজনৈতিক ব্যর্থতা এর অন্যতম কারণ।  আসলে রাষ্ট্র বলতে এমন এক রাজনৈতিক সংগঠনকে বোঝায় যা কোন একটি ভৌগোলিক এলাকা ও তৎসংশ্লিষ্ট এলাকার জনগণকে নিয়ন্ত্রণ করার সার্বভৌম ক্ষমতা রাখে। রাষ্ট্র সাধারণত একগুচ্ছ প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়ে গড়ে ওঠে। এসব প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ হিসেবে সংশ্লিষ্ট ভৌগোলিক সীমার ভেতর বসবাসকারী সমাজের সদস্যদের শাসনের জন্য নিয়ম-কানুন তৈরি করে। যদিও একথা ঠিক যে রাষ্ট্র হিসেবে মর্যাদা পাওয়া না পাওয়া বহুলাংশে নির্ভর  করে, রাষ্ট্র হিসেবে তার উপর প্রভাব রাখা ভিন্ন ভিন্ন রাষ্ট্রের স্বীকৃতির উপর। কিন্তু আমরা বোধহয় সে ক্ষেত্রে অনেকটাই ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছি বা এখনও দিচ্ছি।

ম্যাক্স ওয়েবারের প্রভাববিস্তারী সঙ্গানুযায়ি রাষ্ট্র হচ্ছে এমন এক সংগঠন যা নির্দিষ্ট ভূখন্ডে আইনানুগ বলপ্রয়োগের সব মাধ্যমের উপর একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ রাখে, যাদের মধ্যে রয়েছে সশস্ত্রবাহিনী, নাগরিক, সমাজ, আমলাতন্ত্র, আদালত এবং আইন-শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী।

সাম্প্রতিককালে রাষ্ট্র গঠন প্রক্রিয়ার বিষয়ে মতভিন্নতার কারণে তাত্ত্বিক মহলে বেশ বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে এই আলোচনাকে কেন্দ্র করে যে ঠিক কিভাবে একটি “সার্থক রাষ্ট্র” এর অভ্যুদয়কে সমর্থন করা যেতে পারে। ব্যাপকার্থে সরকার বা প্রাচীন-আধুনিক সব অনুষ্ঠান-প্রতিষ্ঠানকেই রাষ্ট্র প্রত্যয়টির অংশ হিসেবে ধরা হয়। আধুনিক রাষ্ট্র ব্যবস্থার উল্লেখযোগ্য সংখ্যক  বৈশিষ্ট্য রয়েছে যাদের সমন্বিত পদ্ধতির অংশ হয়ে ওঠাটা প্রথম স্পষ্টভাবে দেখা যায় ১৫ শতক নাগাদ। আর ঠিক সেসময়ই রাষ্ট্র প্রত্যয়টি তার আধুনিক অর্থ পরিগ্রহ করে। তাই রাষ্ট্র প্রত্যয়টি প্রায়ই নির্দিষ্ট করে শুধু আধুনিক রাজনৈতিক কাঠামোকে বোঝাতে ব্যবহৃত হয়।

অধ্যাপক উইলোবী ( Willoughby) বলেন, ‘ It is admitted  by all that the state should possess powers  sufficiently extensive for the maintenance of its own continued existence against foreign interference, to provide the means whereby its national life may be preserved and developed and to maintain internal order including the protection of life, liberty and property.’

অর্থাৎ এটি সর্বজনীন স্বীকৃত যে, রাষ্ট্রের আয়ত্বে প্রচুর ক্ষমতা থাকা উচিত যার দ্বারা রাষ্ট্র বৈদেশিক হস্তক্ষেপ প্রতিহত করে স্বীয় অস্তিত্ব বজায় রাখতে পারে। জাতীয় জীবনকে সংরক্ষণ ও বৃদ্ধি করার সুযোগ দিতে পারে এবং জীবন, স্বাধীনতা ও সম্পত্তি রক্ষাসহ  অভ্যন্তরীণ শৃক্সক্ষলা বিধান করতে পারে।

আমাদের দেশের ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে যে অবস্থা চলছে তাতে এটিকে পুরিপুরি সার্থক রাষ্ট্র বলার খুব একটা সুযোগ থাকছে না। বয়োবৃদ্ধ সাবেক রাষ্ট্রপতির বক্তব্য থেকে যে সত্য প্রকাশিত হয়েছে যা ফ্যাসীবাদ ও নৈরাজ্যবাদী রাষ্ট্রের সাথেই তুলনা করা চলে। অধ্যাপক হাক্সলী ( Hxuley) নৈরাজ্যবাদের সংজ্ঞা নির্ধারণ করতে গিয়ে বলেন, ‘In which the rule of each individual by himself is the only  government and legitimacy of which is recogni“ed-one in which he not concerned into cooperation for defense of his neighbour.’

অর্থাৎ এটি এমন একটি সমাজ ব্যবস্থা, সেখানে ব্যক্তির ওপর তার নিজস্ব শাসনই একমাত্র সরকার এবং সেখানে একজন তার প্রতিবেশী হিসেবে স্বীকৃতি রক্ষামূলক কার্যে অংশগ্রহণ করতে বাধা হয় না। 

আমরা ফ্যাসীবাদী ও নৈরাজ্যবাদী সমাজ প্রতিষ্ঠার জন্য এতো চরা মূল্য দিয়ে স্বাধীনতা অর্জন করিনি। মূলত সাম্য, মানবিক মূল্যবোধ, আইনের শাসন ও উদারনৈতিক গণতান্ত্রিক সমাজ প্রতিষ্ঠার জন্যই আমরা দীর্ঘ সংগ্রামের মাধ্যমে স্বাধীনতা অর্জন করেছি। তাই স্বাধীনতার সুফলগুলো যাতে জনগণের দোর গোড়ায় পৌঁছানো যায় এজন্য দলমত ও পথ নির্বিশেষে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে। জনগণ সংশ্লিষ্ট সকলের কাছে দায়িত্বশীল আচরণ আশা করে।

smmjoy@gmail.com

 

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ