ঢাকা, সোমবার 16 April 2018, ৩ বৈশাখ ১৪২৫, ২৮ রজব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

সুনামগঞ্জে সাংবাদিককে পিটিয়ে ইয়াবা দিয়ে পুলিশে সোপর্দ 

সুনামগঞ্জ সংবাদদাতা : সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে সরকার দলীয় লোকজন ও তাদের পুলিশ সহচরদের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশের জের ধরে দৈনিক যুগান্তর পত্রিকার স্টাফ রিপোর্টার হাবিব সরোয়ার আজাদকে তুলে এনে অমানুষিক নির্যাতন শেষে ইয়াবা দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেছে স্থানীয় যুবলীগ নেতা মাসুক মিয়া ও তার ক্যাডাররা। 

গত শুক্রবার রাত ৯টায় তাহিরপুর উপজেলার বাদাঘাট বাজারে এ ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, রাতে নিজ গ্রামের পাশর্^বর্তী বাদাঘাট বাজারের একটি ফ্লেক্সিলোডের দোকানের পাশে ছিলেন সাংবাদিক হাবিব সরোয়ার আজাদ। এ সময় উত্তর বড়দল ইউপি যুবলীগের আহ্বায়ক মাসুক মিয়া তার সহযোগী ফারুক মিয়া, হযরত আলী, ইকবাল হোসেনসহ ১০/১২জন ক্যাডার ঘটনাস্থল থেকে আজাদকে অজ্ঞাত স্থানে উঠিয়ে নিয়ে যায়।  সেখানে তাকে পাশবিক কায়দায় মারধর করা হয়। এসময় বাজারের ব্যবসায়ী ও স্থানীয় জনতা সাংবাদিককে তোলে নিয়ে যাওয়া ও আটকে রেখে মারধর করার বিষয়টি বাদাঘাটবাজার পুলিশ ফাঁড়ির দায়িত্বে থাকা এসআই সাইদুল ও তাহিরপুর থানার ওসি নন্দন কুমার ধরকে অবগত করলেও রহস্যজনক কারণে নিরব ভূমিতা পালন করে পুলিশ। এই সুযোগে পার্শ¦বর্তী কাশতাল চরগাও গ্রামের পরিত্যক্ত বাঁশঝারের পিছন থেকে ইয়াবা সংগ্রহ করে ইয়াবাসহ আজাদকে পুলিশে সোপর্দ করে।  এ ঘটনায় ক্ষুব্দ হয়ে উঠেন সুনামগঞ্জের সাংবাদিক সমাজ। নিরপরাধ এক সাংবাদিককে নির্যাতন এবং ইয়াবা দিয়ে ধরিয়ে দেওয়ায় এলাকাবাসীও প্রতিবাদ জানান। আজাদের আটকের বিষয়টি গণমাধ্যমকর্মীরা অবহিত হওয়ার পর খোজঁ নিলে আসল ঘটনা বেরিয়ে আসায় পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা বিষয়টি খতিয়ে দেখার নির্দেশ প্রদান করেন। সেই সাথে স্থানীয় জনসাধারণ ও কর্মরত সাংবাদিকদের প্রতিবাদে  গত শনিবার রাত সাড়ে ১১টায় সাংবাদিক আজাদকে ছাড়তে বাধ্য হয় স্থানীয় পুলিশ ।  বর্তমানে আজাদ চিকিৎসাধীন রয়েছেন। বাদাঘাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আফতাব উদ্দিন ও উত্তর বড়দল ইউপি চেয়ারম্যান আবুল কাসেম জানান, ‘স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী যুবলীগ নেতা মাসুক জনসম্মুখে সাংবাদিক আজাদকে বাদাঘাট বাজার থেকে ধরে নিয়ে তার বাড়িতে গাছের সাথে বেধেঁ কাঠের রুল দিয়ে বেধড়ক পিঠিয়ে গুরুতর জখম করে। মাসুক মিয়ার সাথে পূর্ব শত্রুতা থাকায় সাংবাদিক আজাদকে ইয়াবা দিয়ে পুলিশে দেয়া হয়। তারা আরও বলেন, ঘটনার সাথে সাথেই স্থানীয় মানুষ আমাদেরকে জানিয়েছেন আজাদকে ধরে নিয়ে গেছে মাসুকের লোকজন। তারা আরো জানান, সংবাদ প্রকাশের জের ধরেই আজাদকে ধরে নির্যাতন করে  ইয়াবা দিয়ে ধরিয়ে দেয়া হয়েছে। এই দুই জনপ্রতিনিধি এ ঘটনায় তীব্র  নিন্দা জানিয়েছেন। 

হাবিব সরোয়ার আজাদ দীর্ঘদিন ধরে দৈনিক যুগান্তরসহ স্থানীয় একাধিক পত্রিকায় স্থানীয় এমপি মোয়াজ্জেম হোসেন রতন, তার দলীয় ক্যাডার ও তাহিরপুর থানা পুলিশের চাঁদাবাজি ঘুষ দুর্নীতির বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ ও তাদের সন্ত্রাসী কার্যকলাপসহ নানা অনিয়মের বিরুদ্ধে নিয়মিতভাবে সংবাদ পরিবেশন করে আসছিলেন বলে তার পরিবার জানিয়েছেন। কিছু দিন পূর্বেও স্থানীয় দৈনিক সুনামগঞ্জ প্রতিদিন পত্রিকায় “যাদুকাটা নদীতে পুলিশের সহায়তায় রাতের আধাঁরে ছয়শ ড্রেজার ও বোমা মেশিন চলছে” শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয়। সে সময় সুনামগঞ্জ জেলা সদর ও তাহিরপুর উপজেলায় কর্মরত সাংবাদিকবৃন্দ পুলিশের রোশানলে পড়েন। 

এব্যাপারে তাহিরপুর থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নন্দন কান্তি ধর বলেন, আজাদকে কোন আওয়মীলীগের নেতা ধরে  দেয়নি এলাকার মানুষ ধরে দিয়েছে এবং তার কাছ থেকে মুচলেখা রেখে ছেড়ে  দেওয়া হয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ