ঢাকা, সোমবার 16 April 2018, ৩ বৈশাখ ১৪২৫, ২৮ রজব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

অভিযুক্তদের গ্রেফতারের দাবিতে মানববন্ধন

নবাবগঞ্জ (দিনাজপুর) থেকে এম রুহুল আমিন প্রধান: সন্ত্রাসীদের হুমকিতে আতঙ্ক গ্রামবাসী। দিনাজপুরের নবাবগঞ্জে অপহরণের পর মুক্তিপণ নিয়ে ছেড়ে দেয়ায় অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবিতে উপজেলার ৬নং ভাদুরিয়া ইউনিয়নের শিবরামপুর গ্রামের শত শত নারী-পুরুষ নিরাপত্তা চেয়ে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা করেছে। গত ০৩ রা এপ্রিল গ্রামবাসীর আয়োজনে তারা জানান, গত ২১শে ফেব্রুয়ারি গভীর রাতে ওই গ্রামের পূর্বে বোরো ফসল জমির মাঠে গভীর নলকুপের পাহারাদার আমির  উদ্দিন সরকারের পুত্র মোঃ মামুনুর রশিদ (৩৫) কে একই গ্রামের মোজাম্মেল হক (৩৮), ছানোয়ার হোসেন (৩৭), কুলছুমা বেগম (৩৫), মিজানুর রহমান (৪০) সহ সঙ্গবদ্ধ একটি অপরাধী চক্র রাত আনুমানিক ২টায় মামুনুর রশিদকে হাত পা বেধে অমানুষিক নির্যাতন করে ৬ কিলোমিটার দুরে তাদের গোপন আস্তানায় নিয়ে গিয়ে আটক রেখে মামুনের নিকট থাকা মুঠোফোন কেড়ে নেয়। সেই মুঠোফোন থেকেই মামুনের গভীর নলকুপের মালিক ফজলুল হক সরকারের নিকট থেকে ৮ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। দাবির টাকা দেয়া না হলে হত্যার হুমকি দেয় দুষ্কৃতিকারীরা। তিনদিন আটক থাকার পর তার ভাইয়ের নিকট থেকে ঘোড়াঘাট উপজেলার সিংড়া ইউনিয়নের বেলোয়া রাস্তার ত্রিমোহনী সংলগ্ন ব্রিজের নিকট মুক্তিপণের ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা গ্রহণ করে হাত- পা বাধা অবস্থায় গুরুতর আহত মামুনুর রশিদকে ফেলে দিয়ে যায়। পরে তার আত্মীয়রা তাকে উদ্ধার করে বিরামপুর ডা. ইমার উদ্দিন কায়েসের ক্লিনিকে ভর্তি করে প্রাথমিক চিকিৎসা নেয়। এ ঘটনায় অভিযুক্তদের আসামি করে প্রথমে নবাবগঞ্জ থানায় ও পরে দিনাজপুর পুলিশ সুপার বরাবরে মামলা রেকর্ড করার জন্য অভিযোগ দাখিল করেন। এ বিষয়ে থানায় যোগাযোগ করা হলে অফিসার ইনচার্জ ওসি সুব্রত কুমার সরকার জানান, অপহরণের পর তারা থানায় অভিযোগ দেয়নি ও মামলা দিতেও রাজি ছিল না। এরপর গত সপ্তাহে গ্রামবাসীর সহায়তায় ওই ঘটনায় অভিযুক্ত বিভিন্ন মামলার আসামী শিবরামপুর গ্রামের হাছেন আলীর পুত্র ছানোয়ার হোসেন (৩৭) কে আটক করে থানায় খবর দিলে পুলিশ ছানোয়ারকে গ্রেফতার করে। ছানোয়ারের বিরুদ্ধে পূর্বের গ্রেফতারি পরোয়ানা সহ একটি সড়ক ডাকাতি মামলায় অভিযুক্তদেরকে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। এদিকে অভিযুক্ত ছানোয়ার গ্রেফতার হওয়ায় তার অন্যান্য সদস্যরা গ্রামে হুমকি দিচ্ছে। এ বিষয়ে ভাদুরিয়া ইউপি চেয়ারম্যান মো. আসমান জামিল জানান, অপহরণের পর মুক্তিপণ নেয়ার পর অভিযুক্তরা কার সাহসে প্রকাশ্যে গ্রামে ঘোরাফেরা করে এটা রহস্যজনক। ঘটনার পর পরই যদি পুলিশ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তদের গ্রেফতার করতো তাহলে হুমকি দিতে পারতো না। 

নাম না জানার শর্তে একজন গ্রাম পুলিশ সাংবাদিকদের জানান, ছানোয়ার, মোজাম্মেল হক, মিজানুর রহমান সহ কুলছুমা বেগমেরা একের পর এক সন্ত্রাসী কার্যকলাপসহ অসামাজিক মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত। তিনিও তাদের গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন। ভাদুরিয়া ইউনিয়নের ছাত্রলীগ নেতা মো. বায়েজিদ আহমেদ কাবা জানান, তারা সঙ্গবদ্ধভাবে অপরাধমূলক কাজ করে বেড়ায়। তাদের নামে বিভিন্ন থানায় মামলা রয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ