ঢাকা, সোমবার 16 April 2018, ৩ বৈশাখ ১৪২৫, ২৮ রজব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

অর্থ আত্মসাতের ঘটনা ধামাচাপা দিতে নরসিংদী প্রেসক্লাবের আহবায়ক কমিটিসহ ৬ সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের

নরসিংদী সংবাদদাতা : নরসিংদী প্রেসক্লাবের অর্থ আত্মসাত ও নানামুখী দুর্নীতির বিরুদ্ধে সাবেক সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে আসামী করে সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা দায়েরের পর মামলার ১ নং আসামী মোরশেদ শাহরিয়ার তাদের অপকর্ম ধামাচাপা দিতে গত রোববার দৈনিক ইত্তেফাকের জেলা প্রতিনিধি, নরসিংদী প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক, সাবেক সভাপতি ও বর্তমান কমিটির আহবায়ক নিবারণ রায়, বাংলাভিশনের নরসিংদী জেলা প্রতিনিধি, সাপ্তাহিক নরসিংদীর প্রেক্ষাপট পত্রিকার প্রকাশক-সম্পাদক ও নরসিংদী প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. মাজহারুল পারভেজ মন্টি, নরসিংদী প্রেসক্লাবের সাবেক কোষাধ্যক্ষ ও ইউএনবি ও দৈনিক সংগ্রামের জেলা প্রতিনিধি মো. আসাদুল হক পলাশ, নরসিংদী প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক, সাপ্তাহিক চোখের আলোর প্রকাশক-সম্পাদক, বাংলাদেশ টেলিভিশনের সাবেক জেলা প্রতিনিধি ও সমকালের জেলা প্রতিনিধি মো. নুরুল ইসলাম, নরসিংদী প্রেসক্লাবের সাবেক সহ সভাপতি ও সাপ্তাহিক নরসিংদী সমাচার পত্রিকার প্রকাশক-সম্পাদক একে ফজলুল হক এবং নরসিংদী জেলার একমাত্র সরকারি মিডিয়া তালিকাভুক্ত নিয়মিত সংবাদপত্র দৈনিক গ্রামীণ দর্পণের প্রকাশক-সম্পাদক ও বাংলাদেশ বেতারের জেলা প্রতিনিধি কাজী আনোয়ার কামাল সহ অজ্ঞাতনামা ৮/১০জনকে আসামী করে নরসিংদী প্রেসক্লাবের অপসারিত সভাপতি মো. মোরশেদ শাহরিয়ার মিথ্যা একটি মামলা দায়ের করেছেন। আদালতের সাথে প্রতারণামূলক ভাবে মোরশেদ শাহরিয়ার মামলার এজাহারে বিবাদীদের সামাজিক পদ-পদবী গোপন রেখে মামলাটি দায়ের করেছেন। 

নরসিংদী প্রেসক্লাবের অপসারিত সভাপতি মোরশেদ শাহরিয়ার ৬ জন প্রথিতযশা সাংবাদিকের বিরুদ্ধে রোববার নরসিংদীর সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মিথ্যা মামলা দায়েরের খবর ছড়িয়ে পড়লে নরসিংদীর সাংবাদিক, সূধী ও বিভিন্ন মহলে নিন্দার ঝড় বইছে, ক্লাবের সাধারন সদস্যের মধ্যে সৃষ্টি হয়েছে বিরূপ প্রতিক্রিয়া।

মামলায় সাজানো ঘটনার বিবরণে উল্লেখ করেছে উপরোক্ত সাংবাদিকরা গত ০৬/০৩/১৮ খ্রি. তারিখ বিকেল আনুমানিক ৫টায় নরসিংদী প্রেসক্লাবের ভিতরে ১৪৩, ৪৪৮, ৪২৭, ৩৮৩, ৩৮৫, ৩৮৬, ৩৭৯, ৫০৬ (॥) ও ৩৪ দ:বি: ধারায় অপারাধ করেছে। এছাড়াও মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে এ ঘটনার সময় থানা পুলিশকে মোরশেদ শাহরিয়ার জানালে থানা পুলিশ এসে পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণ করে। আবার মামলায় এটাও বলা হয়েছে স্থানীয় ভাবে থানা ও প্রশাসন আপোষ মিমাংসার চেষ্টায় ব্যর্থ হওয়ায় মামলা করতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে।

মামলার খবর নরসিংদীর বিভিন্ন মহলে ছড়িয়ে পড়লে নরসিংদী প্রেসক্লাবের অপসারিত সভাপতি মোরশেদ শাহরিয়ারের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ফুঁসে উঠেছে নরসিংদীর সাংবাদিকসহ বিভিন্ন মহল। 

এই সাজানো মামলায় সাক্ষী হিসেবে পেশাদার-অপেশাদার কয়েকজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তারা আদৌ এই সাজানো মামলার বিষয়ে অবগত রয়েছে কিনা তা সন্দিহান। এই মামলার সাক্ষীদের অনেকের সাথে যোগাযোগ করলে তারা জানায় এ সকল ঘটনার বিষয়ে কিছুই জানিনা। আমাদেরকে না জানিয়ে এই মামলায় সাক্ষী করা হয়েছে।

উল্লেখ্য নরসিংদী প্রেসক্লাবের কার্যনির্বাহী সদস্যদের সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ সভাপতি মোর্শেদ শাহরিয়ার ও সাধারন সম্পাদক সফিকুল মোহাম্মদ মানিকের ক্লাবের গঠনতন্ত্র বিরোধী কার্যকলাপ, স্বেচ্ছাচারিতা ও নানবিধ অনিয়ম দুনীতিতে অতিষ্ঠ হয়ে তাদের বিরুদ্ধে অনাস্থা আনে। এতে গত ১০ মার্চ ক্লাব পরিচালনার জন্য তলবী সভা ডেকে ৩ সদস্য বিশিষ্ট আহবায়ক কমিটি গঠন করা হয়। পরবর্তী পরিস্থিতিতে সদস্যদের মাঝে কিছুটা ভুল বুঝাবুঝি হলে ডিস্ট্রিক্ট মিনিস্টার পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম বীর প্রতীক এমপির পরামর্শ ও নির্দেশনায় নরসিংদী পৌরসভার মেয়র নরসিংদী প্রেসক্লাবের সকল সদস্যদের নিয়ে একটি বিশেষ সাধারণ সভায় আলোচনার মাধ্যমে প্রকাশ্য ভোটে পুণরায় সর্বসম্মতভাবে একটি আহবায়ক কমিটি গঠনে সহযোগিতা করেন। এরপর থেকে এই আহবায়ক কমিটি ক্লাব পরিচালনায় তাদের দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। নিয়ম অনুযায়ী তাদের নিকট থেকে বিগত দুই বছরে ক্লাব সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র ও হিসাবাদি চাইলেও তারা গড়িমসি করতে থাকে। এদিকে বিভিন্ন সভা, অনুষ্ঠান ও বিভিন্ন ক্ষেত্রে তাদেরকে সভাপতি, সাধারন সম্পাদক পরিচয় দিতে থাকে অপসারিত সভাপতি ও সাধারন সম্পাদক। এতে করে চরম ভাবে এই ঐতিহ্যবাহী সাংবাদিক সংগঠনটির ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হয়। ইতিমধ্যে আহবায়ক কমিটি ব্যাংক হিসাব সহ বিভিন্ন ভাবে তলিয়ে দেখতে পায় বিগত দুই বছরে সভাপতি সাধারন সম্পাদক যোগসাজসে লক্ষ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ ও অনেক আর্থিক অনিয়ম করেছেন। এ বিষয়ে তাদের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা রুজু করেন আহবায়ক কমিটি।  

এরপরই সাবেক সাধারন সম্পাদক সফিকুল মোহাম্মদ মানিক বিভিন্ন জনের কাছে ইমেইলের মাধ্যমে হুমকি বার্তা প্রেরণ করে এবং সর্বশেষ মোর্শেদ শাহরিয়ার বাদী হয়ে উল্লেখিত ছয়জনের বিরুদ্ধে এই মিথ্যা মামলা দায়ের করে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ