ঢাকা, সোমবার 16 April 2018, ৩ বৈশাখ ১৪২৫, ২৮ রজব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

কেশবপুরের গড়ভাঙ্গা বাজারে আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে আরও একটি দোকানঘর দখলে নিল প্রভাবশালীরা 

কেশবপুর (যশোর) সংবাদদাতা : কেশবপুরের গড়ভাঙ্গা বাজরে আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে সেই প্রভাবশালীমহলটি ভাড়াটে সন্ত্রাসী এনে গত শুক্রবার ভোর রাতে আরও একটি দোকান ঘর ভাঙচুর করে জবর দখলে নিয়ে পাকা দোকান ঘর নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করেছে। এতে ওই ঘর মালিক ৫ লক্ষাধিক টাকার ক্ষতির সন্মুখীন হয়েছেন। এ ঘটনায় অসহায় জমির মালিক থানায় অভিযোগ দিয়েও কোনো ফল পায়নি। বর্তমান ওই ঘর মালিক সন্ত্রাসীদের ভয়ে পালিয়ে জীবন যাপন করছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।  

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার মাদারডাঙ্গা গ্রামের মৃত কদম গাজীর ছেলে নজরুল ইসলাম গড়ভাঙ্গা বাজারের এক শতক জমি পৈত্রিক সূত্রে প্রাপ্ত হয়ে দীর্ঘদিন ধরে পাকা দোকানঘর নির্মাণসহ ভোগ দখল করে আসছেন। একই গ্রামের আমীর আলী সরদার ও তাঁর ছেলে রফিকুল ইসলাম বিরোধীয় জমি দাবি করে জবর দখলের জন্য নজরুল ইসলামকে হুমকি দিতে থাকেন। নালিশী জমি থেকে যাতে নজরুল ইসলামকে বেদখল করতে না পারে এজন্যে আমীর আলী সরদার ও তাঁর ছেলে রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে তিনি বিজ্ঞ অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আমলী আদালতে ১৪৪ ধারায় একটি মামলা করেন। যার নং-৮৩/১৮। তাং-১৮/০৩/১৮। আদালত বিরোধীয় তফশিল জমিতে পক্ষদ্বয়ের মধ্যে শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখাসহ বিরোধীয় তফশিল জমির প্রকৃত দখলকার বিষয়ে সরেজমিনে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্যে কেশবপুর থানার ওসিকে নির্দেশ দেন। আদালতের এ নির্দেশের পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে উভয় পক্ষের উপস্থিতিতে বিরোধীয় জমির ওপর আদালতের নিষেধাজ্ঞা জারি করে। এদিকে, আদালতের এ নিষেধাজ্ঞাকে অমান্য করে আমীর আলী সরদার ও তাঁর ছেলে রফিকুল ইসলামগং ১৩ এপ্রিল ভোররাতে ২০/২৫ জন বিহরাগত ভাড়াটে সন্ত্রাসী এনে নজরুল ইসলামের দোকানঘর ভাঙচুরসহ সার, কীটনাশক লুটপাট করে পাকাঘর নির্মাণ কাজ শুরু করে। এ ঘটনায় নজরুল ইসলাম থানায় অভিযোগ করলে থানার এএসআই মাহফুজ আহমেদ ঘটনাস্থলে গিয়ে নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেয়। কিন্তু পুলিশ ঘটনাস্থল ত্যাগ করার পর পুনরায় ওই প্রভাবশালীমহলটি ঘর নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করেন। এরআগে গত ১২ জানুয়ারি গভীর রাতে ওই মহলটি ১২/১৪ জন বিহরাগত সন্ত্রাসী এনে একই স্টাইলে জিনাতুল¬ার দোকানঘর ভাঙচুরসহ  পাকাঘর নির্মাণ করে জবর দখলে নেয়। এ সময় জিনেতুল¬া থানায় অভিযোগ দেয়ার জন্যে রওনা হলে সন্ত্রাসীরা তাঁর গতীরোধ করে জীবন নাশের হুমকি দিয়ে তাড়িয়ে দেয় বলে অভিযোগ।

ঘর মালিক নজরুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, গড়ভাঙ্গা বাজারের মোড়ে তাঁর দোকানঘর ভাড়া নিয়ে এক ব্যবসায়ী সার, কীটনাশকের ব্যবসা করতো। ওই জমির ওপর আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকলেও শুক্রবার ভোরে তাঁরা তা অমান্য করে   দোকানঘর ভাঙচুর ও লুটপাট করে ৫ লাখ টাকার ক্ষতিসাধন করে। পরে তাঁরা পুলিশের সহযোগিতায় ঘরের নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করেছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।        

এ ব্যাপারে রফিকুল ইসলাম বলেন, তাঁর জমির ভেতর আমার জমি পাওনা আছে। দখল না ছাড়ার কারণে আমরা দখলে নিয়েছি। 

এলাকার চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম মুকুল বলেন, ওই বাজারের জমি দখলের কথা শুনেছি। কিন্তু আমার কাছে কেউ অভিযোগ করেনি। 

কেশবপুর থানার দারগা মফিজুর রহমান বলেন, অভিযোগ পেয়েই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে কাজ বন্ধ করে দেয়া হয়েছিল।  কিন্তু তাঁরা কাজ শুরু করেছে তা বাদি আমাকে জানালে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ