ঢাকা, মঙ্গলবার 17 April 2018, ৪ বৈশাখ ১৪২৫, ২৯ রজব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার আরো অবনতি

স্টাফ রিপোর্টার : কারাগারে অসুস্থ দলের চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার আরো অবনতি হয়েছে অভিযোগ করে অবিলম্বে তাকে গুলশানের ইউনাটেড হাসপাতালে চিকিৎসার দাবি জানিয়েছে বিএনপি। গতকাল সোমবার সকালে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সাংবাদিক সম্মেলনে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এই দাবি জানান। তিনি বলেন, রোববার বলেছিলাম দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া গুরুতর অসুস্থ। এখন তার শারীরিক অবস্থার আরো অবনতি হয়েছে।। তার হাত-পা ও কোমরের ব্যথা আরো বেড়েছে। জরুরী ভিত্তিতে তার এমআরআইসহ উন্নত চিকিৎসা দরকার। রিজভী বলেন, কোটি কোটি জনগণের পাশাপাশি বিএনপির পক্ষ থেকে আমি দলের চেয়ারপার্সন ও ‘মাদার অব ডেমোক্রেসি’ দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার গুরুতর অসুস্থতার খবরে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছি এবং অবিলম্বে তার পছন্দ অনুযায়ী ইউনাইটেড হাসপাতালে ব্যক্তিগত চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধায়নে সুচিকিৎসা নিশ্চিতের জোর দাবি জানাচ্ছি।
সাংবাদিক সম্মেলনে দলের চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য গোলাম আকবর খন্দকার, আবদুস সালাম, প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক হাবিবুল ইসলাম হাবিব, সহ দপ্তর সম্পাদক মুনির হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
কারাগারে খালেদা জিয়া অসুস্থ- এই খবরের সূত্র কী প্রশ্ন করা করা হলে রুহুল কবির রিজভী বলেন, উনার(খালেদা জিয়া) আত্মীয়-স্বজনরা দেখা করতে যাচ্ছেন। পরশুদিনই তারা গেছেন। আমরা সেভাবে জেনেছি। সব সময় সব সোর্সের কথা বলতে নেই। আমরা তো নানাভাবে জানতে পেরেছি। আপনারাও তো কারাগারের খবর রাখছেন সেভাবেই জানছি। এছাড়া কয়েকদিন আগে তার (খালেদা জিয়া) আইনজীবীরাও সাক্ষাৎ করেছেন। তাদের মাধ্যমেও আমরা জানতে পেরেছি।
গত ৮ ফেব্রয়ারি জিয়া এতিমখানা ট্রাস্ট মামলায় ৫ বছরের সাজা পেয়ে পুরনো ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোড়ে কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দী রয়েছেন। চলতি মাসের প্রথম দিকে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে  ঢাকা মেডিকেল কলেজের গঠিত মেডিকেল বোর্ডের সুপারিশে গত ৭ এপ্রিল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে এক্সরে পরীক্ষার জন্য আনা হয়েছিলো খালেদা জিয়াকে।
সাংবাদিক সম্মেলনে রুহুল কবির রিজভী অভিযোগ করে বলেন, সরকারি  মেডিকেল বোর্ডের চিকিৎসকরা অর্থোপেডিক বেড দেয়ার সুপারিশ করলেও এখনো দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে কারাগারে অর্থোপেডিক বেড দেয়া হয়নি। শুধু তাই নয়। এতোদিন সাপ্তাহে একদিন পরিবারের সদস্যদেরকে দেখা করতে দেয়া হতো। এখন বলা হচ্ছে ১০দিন পরপর দেখা করতে হবে- সেই  নির্দেশ হতে যাচ্ছে। বিরল ঘটনা। আইন কানুন সব কিছুকে জলাঞ্জলি দিয়ে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জন্য আলাদা বিধান করা হচ্ছে। এর উদ্দেশ্য হচ্ছে, তাকে নিপীড়ন করা, মানসিক নির্যাতন করা, তাকে বিপর্যস্ত করা, হেনস্তা করা, হয়রানি করা। সরকার কারা কর্তৃপক্ষের মধ্য দিয়ে  বিএনপি চেয়াপার্সনকে এই্ বর্বরোচিত নির্যাতন চালাচ্ছে। কারাগারে যা কিছু হচ্ছে সরকার ও সরকার প্রধানের নির্দেশেই হচ্ছে।
খালেদা জিয়া দীর্ঘদিন ধরে হাঁটু ও পায়ের সমস্যায় ভুগছেন এ তথ্য জানিয়ে রিজভী বলেন, নির্জন, পরিত্যক্ত ও স্যাঁতসেঁতে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তাকে রাখা হয়েছে। তাকে দেওয়া বিছানা-বালিশ অর্থপেডিকের একজন রোগীর জন্য অনুপযোগী। সরকারি মেডিকেল বোর্ডের চিকিৎসকরা অর্থপেডিকের বেড দেওয়ার সুপারিশ করলেও এখনও তাকে সেই বেড দেওয়া হয়নি।
আগে পরিবারের সদস্যরা সাতদিন পরপর খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করলেও এখন ১০ দিন পর দেখা করার নির্দেশ হতে যাচ্ছে বলে জানান, রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, এর উদ্দেশ্যই হচ্ছে তাকে মানসিকভাবে যন্ত্রণা দেওয়া। দেশনেত্রীর সুচিকিৎসা নিয়ে কারাকর্তৃপক্ষের টালবাহানা অত্যন্ত রহস্যজনক। সরকারের নির্দেশেই কারাকর্তৃপক্ষ বেগম জিয়ার প্রতি  নিষ্ঠুর ও অমানবিক আচরণ করছে।
কোটা সংস্কার আন্দোলন নিয়ে বিএনপি নোংরা রাজনীতি করতে না পারায় হতাশায় ডুবছে। লন্ডন ষড়যন্ত্র ব্যর্থ হয়েছে, কোটা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা ছিল সাহসী পদক্ষেপ।’ ওবায়দুল কাদেরের এই বক্তব্যের সমালোচনা করে রিজভী বলেন, কোটা সংস্কার আন্দোলন নিয়ে পরাজিত হওয়ায় এখন আপনারা বেসামাল হয়ে পড়েছেন। দিশেহারা হয়ে প্রতিদিন আপনারা বকবক করছেন বেশরমের মতো। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এ দেশের মাটি ও মানুষের নেতা। তিনি সবসময় এ দেশ এবং দেশের মানুষকে নিয়ে চিন্তা করেন। দেশের লাখ লাখ শিক্ষার্থীরা যখন ন্যায্য দাবিতে আন্দোলন করছিলেন এবং সরকারের লোকেরা যখন পায়ের রগ কাটাসহ তাদের ওপর একের পর এক রক্তাক্ত আক্রমণ চালাচ্ছিল, আইন শৃঙ্খলা বাহিনী যখন রাতভর তাদের ওপর গুলি চালাচ্ছিল তখন সেই মুহূর্তে কোমলমতি ছাত্র-ছাত্রীদের পক্ষে দাঁড়ানোর জন্য তিনি আহ্বান জানিয়েছেন। একজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে এটি তার ন্যায়সঙ্গত ও সাহসী সিদ্ধান্ত। সেজন্য আক্রমণকারীদের নির্দেশদাতারা ক্রোধে-প্রতিশোধে উন্মত্ত হয়ে তারেক রহমানের বিরুদ্ধে বিষোদগার করে যাচ্ছেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ