ঢাকা, মঙ্গলবার 17 April 2018, ৪ বৈশাখ ১৪২৫, ২৯ রজব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনেই আগামী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে -নোমান

গতকাল সোমবার স্বাধীনতা হলে বাংলাদেশ ইয়ুথ ফোরামের উদ্যোগে বিএনপি নেতা এম ইলিয়াস আলী নিখোঁজের ৬ বছর অতিবাহিত হওয়ার প্রতিবাদ ও সন্ধানের দাবিতে যুব সমাবেশের আয়োজন করা হয় -সংগ্রাম

স্টাফ রিপোর্টার: তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনেই আগামী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে মন্তব্য করে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান বলেছেন, আমি দ্ব্যর্থহীন কন্ঠে বলতে চাই, দেশে একটা নির্বাচন হবে  সেই নির্বাচনে আমরা অংশগ্রহণ করব। সেই নির্বাচনের পূর্বে আমরা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করব, আমরা নির্বাচনের পূর্বে আমাদের হাজার হাজার নেতা-কর্মীকে মুক্ত করবো, আমরা বন্দী মুক্তি আন্দোলন করবো। আমরা এই বন্দী মুক্তি ছাড়া এগিয়ে যেতে চাই না। অবশ্যই নির্দলীয় সরকারের অধীনে আগামী নির্বাচনের ব্যবস্থা সরকারকে করতে হবে। গতকাল সোমবার রাজধানীর সেগুন বাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি কার্যালয়ে বাংলাদেশ ইয়ুথ ফোরামের উদ্যোগে দলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক এম ইলিয়াস আলীর নিখোঁজ হওয়ার ৬ বছরপূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন। ২০১৩ সালের ১৬ এপ্রিল ইলিয়াস আলীকে সাদা পোশাকে সদস্যরা তুলে নিয়ে যায় বলে পরিবারের সদস্যরা ওই সময়ে অভিযোগ করে।
সংগঠনের সভাপতি অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম চৌধুরীর সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুুল্লাহ, মুসলিম লীগের মহাসচিব জুলফিকার বুলবুল চৌধুরী প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
আওয়ামী লীগ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের ‘হিংসাত্মক’ বক্তব্য দিচ্ছেন মন্তব্য করে নোমান বলেন, ওবায়দুল কাদেরের বক্তব্য শুনলেই মনে হয় যেন এই একটা আশ্চর্যতার গলা, তার স্বর। যে স্বরের কথা বললে আমাদের(বিএনপি) অনেক উপকার হয়। তার হিংসাত্মক যে বক্তব্য, সেই হিংসাত্মক বক্তব্যকে প্রতিহত করার একটা শক্তি অর্জন করে আমাদের নেতা-কর্মীরা। তাই তার(ওবায়দুল কাদের) বক্তব্যকে আমরা সবসময় ওয়েলকাম করি। যেন তিনি তার বক্তব্য দিয়ে যান এবং জনগণ আরো বেশি আমাদের পক্ষে আসে ।
আওয়ামী লীগের শাসনামলের সমালোচনা করে আবদুল্লাহ আল নোমান বলেন, এই দলটি এমনই দল প্রতিপক্ষকে নিশ্চিহ্ন করার ইতিহাস রয়েছে যে দলের। যে দল মজলুম জননেতা মওলানা ভাসানী প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, সেই দল ১৯৫৭ সালে রুপমহল (পুরনো ঢাকায়) সিনেমা হলে কুষ্টিয়ার আবদুল হকসহ অনেকে মেরে জোরপূর্বক মওলানা ভাসানীকে বের করে দিয়ে সেদিন শেখ মুজিবুর রহমান আওয়ামী লীগ দখল করেছিলেন। আওয়ামী লীগের ভেতরের রূপ হচ্ছে  স্বৈরাচার। যে  স্বৈরাচারের প্রকাশ কয়েকদিন আগে আমরা দেখেছি। ১৯৫৭ সালেও তারা(আওয়ামী লীগ) ডান্ডা দিয়ে ঠান্ডা করতে চেয়েছিলো প্রতিপক্ষকে।
বিএনপি আগামী নির্বাচনে যেতে চায়- উল্লেখ করে দলটির এই ভাইস চেয়ারম্যান বলেন, আমি দ্ব্যর্থহীন কন্ঠে বলতে চাই, দেশে একটা নির্বাচন হবে সেই নির্বাচনে আমরা অংশগ্রহণ করব। সেই নির্বাচনের পূর্বে আমরা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করব, নির্বাচনের পূর্বে আমরা আমাদের হাজার হাজার নেতা-কর্মীকে মুক্ত করবো, আমরা বন্দী মুক্তি আন্দোলন করবো। আমরা এই বন্দী মুক্তি ছাড়া এগিয়ে যেতে চাই না। অবশ্যই নির্দলীয় সরকারের অধীনে আগামী নির্বাচনের ব্যবস্থা সরকারকে করতে হবে। একই সঙ্গে গাজীপুর ও খুলনা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে সেনা মোতায়েনের .দাবিও জানান তিনি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ