ঢাকা, মঙ্গলবার 17 April 2018, ৪ বৈশাখ ১৪২৫, ২৯ রজব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ৩৫ করার দাবি নিয়ে ফের রাজপথে শিক্ষার্থীরা

স্টাফ রিপোর্টার : সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ৩০ বছর থেকে বাড়িয়ে ৩৫ বছর করার দাবিতে ভিন্নধর্মী কর্মসূচি পালন করেছে চাকরি প্রার্থীরা। এই কর্মসূচিতে বয়সসীমা ৩৫ করলে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নৌকা মার্কায় ভোট দেওয়ার আশ্বাস দেয় তারা।
 গতকাল সোমবার রাজধানীর শাহবাগ থেকে শুরু করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা দিয়ে প্রেসক্লাব হয়ে আবার শাহাবাগ পর্যন্ত রিকশা ও ঠেলাগাড়ি শোভাযাত্রা করে এই দাবি তুলে ধরে আন্দোলনকারীরা। কর্মসূচি পালনকারী সংগঠন ‘বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র পরিষদের’ সমন্বয়ক সঞ্জয় দাস বলেন, চাকরিতে প্রবেশের সময়সীমা বাড়ানোর দাবিতে আমরা নানামুখী কর্মসূচি নিয়েছি। এরই অংশ হিসেবে সরকারের দৃষ্টি আকৃষ্ট করতে ঠেলাগাড়ি ও রিকশা র‌্যালির আয়োজন করা হয়েছে।
আন্দোলনকারীদের তাদের হাতে থাকা প্লাকার্ডে নানা স্লোগান লিখেন। এর মধ্যে ছিল: ‘৩৫ এর আলো ঘরে ঘরে জ্বালো’, ‘৩৫ যখন যুবনীতি, কিসে তবে এত ভীতি’, ‘এক দাবি এক দেশ, ৩৫ চায় সারা বাংলাদেশ’, ‘চাকরি নয়, সুযোগ চাই, ৩৫ ছাড়া গতি নাই’, ‘৩০-এ বুড়া, ৩৫-এ যুবক’, ‘বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলায় বৈষম্যের ঠাঁই নাই’, ‘চাকরিতে প্রবেশের বয়স ন্যূনতম ৩৫ বছর চাই’, ‘ডু অর ডাই ৩৫ চাই’ ও ‘চাকরিতে আবেদনের বয়স ৩৫ চাই, নৌকায় ভোট দিতে চাই’।
আন্দোলনকারীরা বলছেন, উন্নত বিশ্বে তাদের জনগণকে জনশক্তিতে রূপান্তরের ক্ষেত্রে বয়সের কোনো সীমারেখা নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়নি। তারা বিভিন্ন দেশের সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমার তথ্যও তুলে ধরেন।
আন্দোলনকারীরা বলেন, পার্শ্ববর্তী দেশসহ উন্নত দেশে চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা বাংলাদেশের তুলনায় অনেক বেশি। কোনো কোনো দেশে অবসরের আগের দিন পর্যন্ত চাকরিতে প্রবেশের সুযোগ রাখা হয়েছে।
কর্মসূচিতে জানানো হয়, ভারতের পশ্চিমবঙ্গে সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ৪০। শ্রীলংকায় এটি ৪৫, ইন্দোনেশিয়ায় ৩৫, ইতালিতে ৩৫, কোনো কোনো ক্ষেত্রে ৩৮, ফ্রান্সে ৪০। অন্যদিকে ফিলিপাইন, তুরস্ক ও সুইডেনে অবসরের আগের দিন পর্যন্ত চাকরিতে যোগ দেয়া যায়।
আন্দোলকারীরা এও বলছেন, আফ্রিকায় চাকরি প্রার্থীদের বয়স বাংলাদেশের সরকারি চাকরির মতো সীমাবদ্ধ নেই। অর্থাৎ চাকরি প্রার্থীদের বয়স ২১ হলে এবং প্রয়োজনীয় শিক্ষাগত যোগ্যতা থাকলে যে কোনো বয়সে আবেদন করা যায়।
রাশিয়া, হংকং, দক্ষিণ কোরিয়া, যুক্তরাজ্যে যোগ্যতা থাকলে অবসরের আগের দিনও যে কেউ সরকারি চাকরিতে প্রবেশ করতে পারেন বলে জানানো হয়। যুক্তরাষ্ট্রে ফেডারেল গভর্নমেন্ট ও স্টেট গভর্নমেন্ট উভয় ক্ষেত্রে চাকরিতে প্রবেশের বয়স কমপক্ষে ২০ বছর এবং সর্বোচ্চ ৫৯ বছর।
কানাডার ফেডারেল পাবলিক সার্ভিসের ক্ষেত্রে কমপক্ষে ২০ বছর হতে হবে, তবে ৬৫ বছরের ঊর্ধ্বে নয় এবং সিভিল সার্ভিসে সর্বনিম্ন ২০ বছর এবং সর্বোচ্চ ৬০ বছর পর্যন্তসরকারি চাকরির জন্য আবেদন করা যায়। এই সংগঠনটি গত কয়েক বছর ধরেই এমন আন্দোলন চালিয়ে আসছে। কয়েক বছর আগে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন ভাতা দ্বিগুণ করার পর আন্দোলনকারীরা অনেকটাই মরিয়া হয়ে উঠেছেন।
এই দাবির পাশাপাশি সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কার করে ৫৬ শতাংশে নিয়ে আসার দাবিও জোরালো হয়। আর প্রবল আন্দোলনের মুখে গত ১২ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংসদে বলেছেন, কোনো কোটা থাকারই দরকার নেই। অবশ্য সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়স সীমা বাড়ানোর বিষয়ে সরকারের কোনো পরিকল্পনা নেই বলে জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম জানিয়েছেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ