ঢাকা, মঙ্গলবার 17 April 2018, ৪ বৈশাখ ১৪২৫, ২৯ রজব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

বাংলা নববর্ষ বরণে সুন্দরবনে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড়

খুলনা অফিস : বাংলা নববর্ষ পহেলা বৈশাখ পালনে সুন্দরবনের বিভিন্ন পর্যটন কেন্দ্রগুলো এখন দেশি-বিদেশি পর্যটকদের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে। গত শুক্রবার সাপ্তাহিক ছুটির সাথে শনিবার বাংলা নববর্ষের ছুটির দিনে পর্যটকবাহি লঞ্চে করে বিপুল সংখ্যক ভ্রমণ পিপাসু পর্যটক বনের গহিনে প্রবেশ করে। গতকাল সোমবারও পর্যটকদের আগমন ছিল চোখে পড়ার মতো।

বন্দর শহর ও শিল্প এলাকার হোটেল-মোটেলগুলো লোকজনে পরিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। সুন্দরবনের করমজল, হাড়বাড়িয়া, হিরণপয়েন্ট, কটকা, কচিখালী ও দুবলার চরে উৎসব কাটাতে নৌ বিহারে পর্যটকরা বনের এ সকল স্পটে অবস্থান নিয়ে আনন্দ উপভোগ করছে। 

এদিকে একসাথে অনেক পর্যটকের ভিড় বাড়ায় রীতিমত হিমশিম খেতে হচ্ছে পর্যটন ব্যবসায়ী ও বন বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের। পর্যটকদের নিরাপত্তায় বন বিভাগ ও পুলিশ কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।

দেশ ও বিদেশের বিভিন্ন স্থান থেকে সুন্দরবন ভ্রমণে আসা পর্যটকরা সাধারণত মংলা হয়েই বনে প্রবেশ করে থাকেন। আর মংলা থেকে সবচেয়ে কাছাকাছি দর্শনীয় স্থান হলো সুন্দরবনের করমজল ও হারবাড়িয়া। যারা অধিক ব্যয়ে বনের গহিনে যেতে পারেন না তারা স্বল্প খরচেই করমজল ও হারবাড়িয়া ঘুরে দেখেন। করমজলে রয়েছে দেশের একমাত্র লবণ পানির কুমির প্রজনন কেন্দ্র। সেখানে গড়ে উঠেছে কচ্ছপের প্রজনন কেন্দ্র। 

এছাড়া আছে কৃত্রিম পদ্ধতিতে তৈরি ছাড়া হরিণ ও বানরের আবাসস্থল, সুউচ্চ ওয়াচ টাওয়ার, ফুট টেইলারসহ বিভিন্ন আকর্ষণীয় স্থাপনা। এখানে অবস্থিত বনের বিভিন্ন প্রজাতির গাছ-পালা, পশু-পাখি, বন্যপ্রাণী দেখে দর্শনার্থীরা তৃপ্তি মিটিয়ে থাকেন। করমজল ও হারবাড়িয়া যাওয়ার পথিমধ্যে পশুর চ্যানেলে অবস্থানরত বড় বড় বিদেশি জাহাজের অবস্থান পর্যটকদের বাড়তি তৃপ্তি দেয়। 

অপরদিকে সুন্দরবনের গহিণে হিরণ পয়েন্ট, কটকা, কচিখালী, দুবলার চরে রয়েছে সরাসরি সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত দেখার অপার সুযোগ। সাগর পাড়ে বনের অভ্যন্তরে হেঁটে বেড়ানো হরিণ, বানরসহ বিভিন্ন বন্যপ্রাণী দেখে সবাই মুগ্ধ হন।

বন বিভাগ ও বিভিন্ন ট্যুরিস্ট কোম্পানি সূত্রে জানা যায়, বাংলা নববর্ষকে বরণ করতে গত শুক্র ও শনিবার এ দু’দিন দেশ-বিদেশের পর্যটকেরা সুন্দরবনে ভ্রমণে এসেছিল। এ দু’দিনের পাশাপাশি গতকালও পর্যটকদের বনের অভ্যন্তরে প্রবেশ ছিল চোখে পড়ার মতো। বন বিভাগের ঢাংমারী ও চাঁদপাই স্টেশন থেকে পাস (অনুমোদন) নিয়ে দর্শনার্থীরা সুন্দরবনে প্রবেশ করছে। পর্যটকেরা লঞ্চ, ট্রলার ও জালিবোটে করে বনের আকর্ষনীয় স্পট করমজল, হাড়বাড়িয়া, হিরণপয়েন্ট, কটকা, কচিখালীতে গিয়ে অবস্থান নিয়ে উৎসবে মেতে উঠেছে। কেউ বন্ধু-বান্ধবদের নিয়ে, আবার কেউ কেউ স্বপরিবারে সুন্দরবনে ছুটে এসেছে। ট্যুরিস্ট ব্যবসায়ী সুন্দরবন লাইভ ট্যুর’স মালিক গোলাম রহমান বিটু বলেন, দেশ-বিদেশ থেকে আসা পর্যটকদের আনাগোনায় হিরণপয়েন্ট, কটকা ও কচিখালী উৎসবমুখর হয়ে উঠেছে। তার কোম্পানির কয়েকটি লঞ্চ সুন্দরবনের গহিনে পর্যটকদের নিয়ে অবস্থান করছে। সুন্দরবনের করমজল পর্যটন কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আজাদ কবির বলেন, সুন্দরবনের অভ্যন্তরে পর্যটকেরা বড় বড় লঞ্চ নিয়ে সুন্দরবনে অবস্থান করছে। তিনি জানান, এবার আবহাওয়া ও রাজনৈতিক পরিবেশ ভাল থাকায় এ মওসুমে পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। মংলা শহরের বন্দর আবাসিক হোটেলের মালিক শাহনূর টিংকু জানান, পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড় সামাল দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। অনেক আগ থেকেই হোটেল বুকিং হয়ে যাওয়ার কারণে সব পর্যটককে সিট দেয়া সম্ভব হচ্ছে না।

মংলা থানার অফিসার ইনচার্জ মো. ইকবাল বাহার চৌধুরী বলেন, সুন্দরবনের আগত দর্শনার্থী ও এখানকার পর্যটন করপোরেশনের হোটেল পশুর ছাড়া অন্যান্য হোটেলগুলোতে অবস্থানরত পর্যটকদের নিরাপত্তায় পুলিশের নজরদারী ও টহল বৃদ্ধি করা হয়েছে। এছাড়া সুন্দরবনের অভ্যন্তরে নৌ পুলিশের টহল জোরদার করা হয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ