ঢাকা, মঙ্গলবার 17 April 2018, ৪ বৈশাখ ১৪২৫, ২৯ রজব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

চুয়াডাঙ্গায় ব্যাপক ভুট্টার চাষ হলেও নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়নি

এফ.এ আলমগীর, চুয়াডাঙ্গা : চুয়াডাঙ্গা জেলায় চলতি মওসুমেও ব্যাপকহারে ভুট্টার আবাদ হলেও কৃষির বিভাগের কাংক্সিক্ষত লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়নি। বিগত বছরগুলীতে ধানের দরপতনে খরচ না ওঠায় জেলার চাষীরা ধান চাষ বাদ দিয়ে স্বল্প খরচে অধিক লাভের আশায় ব্যাপকভাবে ভুট্টা চাষের দিকে ঝুঁকে পড়েছিল। গত বছরে মওসুমের শেষ দিকে ধানের মূল্য বেড়ে যাওয়ায় এবার চাষীরা আবার ভুট্টার আবাদ কমিয়ে দিয়ে ধানের আবাদ বাড়িয়ে দেয়ায় চলতি মওসুমে ভুট্টা চাষের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়নি বলে ধারনা করা হচ্ছে। বর্তমানে চুয়াডাঙ্গার মাঠে মাঠে এখন ভুট্টা ক্ষেতের শেষ পরিচর্যা কোথাও কোথাও ভুট্টা ওঠাতে ব্যস্ত সময় পার করছে চাষীরা। 

চুয়াডাঙ্গা কৃষি অফিস সুত্রে জানাগেছে-চলতি মওসুমে চুয়াডাঙ্গা জেলায় ভুট্টা চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ৪৯ হাজার ১৭৩ হেক্টর, সেখানে অর্জিত হয়েছে ৪২ হাজার ৯৫০ হেক্টর যা নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৬ হাজার ২২৩ হেক্টর কম। এর মধ্যে আলমডাঙ্গা উপজেলায় ১২ হাজার ০৩ হেক্টর লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে অর্জিত হয়েছে ১১ হাজার ৫৪০ হেক্টর ,চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলায় ১৪ হাজার ৯২০ হেক্টর লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে অর্জিত হয়েছে ১২ হাজার ৪১০ হেক্টর । জীবননগর উপজেলায় ৭ হাজার ২ শত হেক্টর লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে অর্জিত হয়েছে ৫ হাজার ৫শত হেক্টর এবং দামুড়হুদা উপজেলায় ১৫ হাজার ৫০ হেক্টর লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে অর্জিত হয়েছে ১৩ হাজার ৫ শত হেক্টর জমিতে ভুট্টা আবাদ হয়েছে। বাজারে পাওনিয়ার-৯২,৫৫,৯৬, শাহারা- ৬৬০৮,৭২৮১, কাবেরি রোবষ্ট জাম্বু-৫০,৬০ ব্রাকের উত্তরন সুপার-১০ ভি ও ২০ সহ বিভিন্ন জাতের ভুট্টার বীজ পাওয়া গেলেও চুয়াডাঙ্গা জেলার এবার পাওনিয়ার-৯২ ও কাবেরি-৫০ জাতের ভুট্টার আবাদ সবচেয়ে বেশি হয়েছে।

গত মওসুমে চুয়াডাঙ্গার ৪ উপজেলায় ভুট্টা আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ৪৮ হাজার ৪৩০ হেক্টর,সেখানে অর্জিত হয়েছিল ৪৮ হাজার ৯৫৫ হেক্টর, যা লক্ষ্যমাত্রার থেকে প্রায় সাড়ে ৫ শত হেক্টর বেশী।

ভুট্টা খাদ্য হিসাবে ব্যবহার তেমন না হলেও পোল্ট্রি ফিড ও পশু খাদ্য হিসাবে বর্তমানে এর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। চুয়াডাঙ্গার উৎপাদিত ভুট্টা স্থানীয় চাহিদা মিটিয়েও বিভিন্ন ফিড কোম্পানী বিশেষ করে সি.পি বাংলাদেশসহ বিভিন্ন পোল্ট্রি ফিড মিল মালিকরা ক্রয় করে থাকে। এছাড়াও স্থানীয় আড়ৎদাররা ক্রয়করে ঈরশ্বদী, ঢাকা, খুলনাসহ দেশের বিভিন্ন ফিড মিলে বিক্রয় করে থাকে। আবার দেশের বিভিন্ন এলাকার ব্যবসায়ীরা জেলার বিভিন্ন আড়ৎ থেকে এই ভুট্টা ক্রয় করে দেশের বিভিন্ন ফিড মিলে সরবরাহ করে থাকে।

জেলার হাউলি গ্রামের চাষী আব্দুল ওহাব জানালেন, খরচ কম ও ফলন ভাল হওয়ায় পাওনিয়ার ৯২ জাতের ৫ বিঘা জমিতে ভুট্টা আবাদ করেছেন। এই জাতের ভুট্টা বিঘা প্রতি ৪০ থেকে ৪৫ মণ ফলন হয়ে থাকে। এতে তার খরচ হবে ৫০ হাজার টাকার মত। ফলন ভাল হলে বিঘা প্রতি ৪০ মণ ফলন হলেও ৫ বিঘা জমিতে সে ২শত মণ ভুট্টা পাবেন বলে প্রত্যাশা করছেন। বাজার দর সর্বনি¤œ কাঁচা ভুট্টা ৫শত টাকা পেলেও ১ লক্ষ টাকার ভুট্টা বিক্রি করতে পারবেন বলে আশা করছেন। একই গ্রামের চাষী রবিউল হোসেন আড়াই বিঘা জমিতে, মকবুল হোসেন ৩ বিঘা জমিতে ভুট্টার আবাদ করেছেন তারাও একই কথা জানালেন।

জেলার ঈশ্বরচন্দ্রপুর গ্রামের শহিদুল, খাইরুল, আতিয়ারসহ বেশ কয়েকজন ভুট্টাচাষী জানালেন, আমরা প্রতি বছর ভুট্টার চাষ করে থাকি। গত বছর ভুট্টা উঠার সাথে সাথে ড্যাপ (আধা শুকনা) ভুট্টা ভাল দামে বিক্রি করেছিলাম। তাতে অন্যান্য ফসলের তুলনায় বেশ লাভ হয়েছিল। তবে অনেক সময় স্থানীয় ব্যাবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে বাজারদর কমিয়ে থাকে। তাতে মধ্যস্বত্বভোগীরা লাভবান হলেও লোকসানের বোঝা চেপে যায় ভুট্টাচাষীদের ঘাড়ে। বর্তমানে এলাকায় ভুট্টার আবাদ বেশি তাই সরকারিভাবে ভুট্টার বাজারদর বেঁধে দিলে চাষিরা উপকৃত হবে। তবে বাজারে খোঁজ নিয়ে জানাগেছে- সদ্য ওঠা ড্যাপ ভুট্টা আড়ৎগুলোতে প্রতি মন ৬৩০-৫০ টাকা এবং শুকনা ভুট্টা প্রতি মন ৮৫০- ৭০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। 

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক নাঈম আস সাকিব দৈনিক সংগ্রামকে জানালেন- ভুট্টা খাদ্য হিসাবে ব্যবহার না হলে ও দেশে ব্যাপক হারে মুরগির খামার গড়ে উঠায় পোল্ট্রি ফিড হিসাবে ব্যবহার হয়ে থাকে। এছাড়া ও গরু, ছাগল, মহিষের ও ভুট্টা খাওয়ানো হয়ে থাকে। এবার ধানের দাম ও সব্জী দাম ভালো পাওয়ায় কৃষকরা এই আবাদ কিছুটা কমিয়ে দিয়েছে। একারনে নির্ধারিত লক্ষমাত্রা অর্জিত হয়নি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ