ঢাকা, মঙ্গলবার 17 April 2018, ৪ বৈশাখ ১৪২৫, ২৯ রজব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

দাঙ্গার মাধ্যমে ওরা কী অর্জন করতে চায়?

ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে বিবেকবান কোন মানুষ দাঙ্গা করতে পারে না, মানুষ মারতে পারে না। আর মানুষের সাজানো গোছানো সংসারটা যারা আগুনে ভস্মীভূত করে দেয় তারা কোন্ ধরনের প্রাণী? আমরা তাদেরকে মানুষ বলি কোন্্ বিবেচনায়? ধর্মের মুখোশ পরেই তো দাঙ্গা চালানো হয়। কিন্তু প্রশ্ন হলো, কোন ধর্ম কি মানুষকে দাঙ্গা করতে বলেছে? তাহলে যারা দাঙ্গা করে থাকে তারা কোন্ ধর্মের অনুসারী। তাদের ধর্মগুরুর নাম কী? আমরা জানি এসব প্রশ্নের জবাব দাঙ্গাবাজদের কাছে নেই। তারপরও দাঙ্গাবাজরা মানুষের সমাজে টিকে আছে কেমন করে? সাধারণ মানুষ দাঙ্গা না চাইলেও সার্থান্ধ বিশেষ গ্রুপের লোকেরা এখনো দাঙ্গা চালিয়ে যাচ্ছে কেমন করে? ক্ষমতাবান কিংবা ক্ষমতাসীনদের প্রশ্রয় ছাড়াতো অন্ধকারের এইসব প্রাণীদের দৌরাত্ম্য চলতে পারে না। তাইতো বলা হয়, সরষের ভেতরেই অনাকাক্সিক্ষত ভূতের অবস্থান। রাম নবমী পালনকে কেন্দ্র করে মার্চ মাসে ভারতে যে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা ছড়িয়েছিল সেগুলোর কিছু বৈশিষ্ট্য একই রকম ছিল বলে বিবিসির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। ফলে মনে করা যায় একটা পরিকল্পনার ভিত্তিতে দাঙ্গাগুলো হয়েছে। বিবিসি’র প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, মার্চের শেষ সপ্তাহে পশ্চিমবঙ্গ ও বিহার রাজ্যে ১০টি সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা ঘটেছিল। আর এমন ৯টি বিষয় রয়েছে যা প্রতিটি ঘটনার ক্ষেত্রেই মোটামুটিভাবে এক। কোথাও তা দাঙ্গায় রূপ নিয়েছিল, কোথাও ভাংচুর-অগ্নিসংযোগের মধ্যেই শেষ হয়েছে। ১০টি আলাদা শহরে কোন পরিকল্পনা ছাড়াই ওই হিংসাত্মক ঘটনাগুলো ঘটেনি। প্রতিটি জায়গাতেই রাম নবমীর দিন উগ্র মিছিল বের করা হয়েছিল। বাইকে চেপে যুবকরা ওইসব মিছিলে যোগ দিয়েছিল। তাদের মাথায় গেরুয়া পট্টি বাঁধা ছিলো। সাথে ছিলো  গেরুয়া ঝা-া। যেসব এলাকায় রাম নবমীর শোভাযাত্রা থেকে অশান্তি ছড়িয়েছে সেগুলোর আয়োজন করেছিল একই ভাবধারার সংগঠন। তারা ভারতীয় জনতা পার্টি, রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সংঘ এবং বজরং দলের সাথে কোন না কোনভাবে যুক্ত। মুসলমানপ্রধান এলাকা দিয়ে রাম নবমীর শোভাযাত্রা নিয়ে যাওয়ার জন্য জিদ ধরা হয়েছিল। শোভা যাত্রায় মুসলমানদের ‘পাকিস্তানি’ বলা হয়েছে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই প্রশাসন এক রকম নির্বাচক দর্শকের ভূমিকা পালন করেছে। মসজিদের দিকে চপ্পল ছোঁড়া হয়েছে। কবরস্থানে গেরুয়া ঝা-া পুঁতে দেয়া হয়েছে। সামাজিক মাধ্যমে গুজব ছড়ানো হয়েছে। মুসলমানদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে, আর হিন্দু যুবকদের মধ্যে লক্ষ্য করা গেছে জয়ের আনন্দ। ফলে উপলব্ধি করা যায় যে, মুসলিমবিরোধী ওইসব দাঙ্গা ছিল পরিকল্পিত।
ভারতের প্রখ্যাত গণমাধ্যম এনডিটিভি জানায়, ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও কংগ্রেসের সিনিয়র নেতা ড. মনমোহন সিং বলেছেন, ভারতের সংখ্যালঘু ও দলিতদের উপর অত্যাচারের ঘটনা বাড়ছে। ১১ এপ্রিল পাঞ্জাব বিশ্ববিদ্যালয়ে এক অনুষ্ঠানে ভাষণ দেয়ার সময় তিনি ওই মন্তব্য করেন। রাম নবমী পালনকে কেন্দ্র করে সংঘটিত সাম্প্রদায়িক দাঙ্গাগুলো ড. মনমোহন সিং-এর মন্তব্যকে সঠিক বলে প্রমাণ করে। কিন্তু প্রশ্ন জাগে, দাঙ্গার মাধ্যমে ওরা কী অর্জন করতে চায়? এতে দেশ ও জনগণের কোন কল্যাণ হবে কী?

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ