ঢাকা, মঙ্গলবার 17 April 2018, ৪ বৈশাখ ১৪২৫, ২৯ রজব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠায় হযরত মুহম্মদ (সা:)

নুরুন্নাহার লিমু : ভূমিকা : মহান আল্লাহ্ কোরআনে বলেছেন, ওমা আরসালনাকা ইল্লা রাহ্মাতাল্লিল আলামিন।
অর্থ- হে নবী তোমাকে মানব জাতির জন্য রহমত স্বরূপ পাঠানো হয়েছে। সত্যি, মানুষের জন্য অফুরন্ত শান্তির বার্তা নিয়ে আগমন ঘটেছিল বিশ্বনবী মহামানব হযরত মুহম্মদ (সা:) এর। মানব সমাজের জন্য আল্লাহ্ তার মাধ্যমেই পাঠিয়ে ছিলেন রহমতের অমিয় ধারা। সেই রহমতের গুণেই আইয়্যামে জাহেলিয়াতের সমাজ ভরে উঠেছিল আলোয় আলোয়।
রাসূল (সা:) আগমনের পূর্বের অবস্থা : মানব জাতীর ত্রাণ কর্তা বিশ্বনবী মুহাম্মদ (সা:) এর আগমন এর পূর্বে সমগ্র পৃথিবী ঘোর অন্ধকারে নিমজ্জিত ছিল। কোথাও চলছিল পাশবিকতা ও হিংস্রতার যুগ। কোথাও শিরক ও পৌত্তলিকতার অভিশাপ সভ্য জীবনের সর্বনাশ সাধন করেছিল। মিশর, ভারত, ব্যাবিলন, নিনোভা, গ্রীস ও চীনে সভ্যতা সম্পূর্ণরূপে বিধ্বস্ত ও বিপর্যস্ত হয়ে গিয়েছিল। যদিও রোম ও পারস্যে সভ্যতার পতাকা উড়ছিল এবং এর বাহ্যিক রূপ ছিল চোখ ঝলসানোর মত। কিন্তু এই নয়নাভিরাম প্রাসাদের অভ্যন্তরে চলতো লোমহর্ষক যুলুম ও নির্যাতন। মদ, ব্যাভিচার ও জুয়ার সমন্বয়ে জাহেলী সংস্কৃতি তুঙ্গে উঠেছিল। মানুষে মানুষে সংঘাত সংঘর্ষ যুদ্ধ ও লুটপাটের তান্ডব চলছিল। মোট কথা মানুষ প্রবৃত্তির গোলামীর সর্বনিম্ন স্তরে নেমে গিয়ে হিংস্র হায়েনা ও চতুষ্পদ জন্তুর মত জীবন যাপন করছিল। কোরআনের সূরা ফুরকারনে বলা হয়েছে “তারা যেন পশুর মত। বরং পশুর চেয়েও বিপথগামী।  নারীদের কোন সম্মান ছিল না এবং কন্যা সন্তান জন্মগ্রহণের পর জীবন্ত কবর দেবার রেওয়াজ ছিল। ঐতিহাসিক হিট্রি এজন্য মন্তব্য করেছেন নবী আগমনের জন্য মঞ্চ প্রস্তুত হয়েই ছিল। এই সর্বোত্তম অশান্ত পরিবেশেই আগমন ঘটেছিল মহানবী (সা:) এর।
জন্ম ও শৈশব : হযরত মুহম্মদ (সা:) ৫৭০ খৃস্টাব্দে ১২ই রবিউল আউয়াল মতান্তরে ৫৭১ খৃস্টাব্দের ৯ই রবিউল আউয়াল সোমবার জন্মগ্রহণ করেন। তার মায়ের নাম আমিনা এবং পিতার নাম আব্দুল্লাহ। বনিসাদ গোত্রের হালিমা সাদিয়া তাকে দুধ পান করান অতি অল্প বয়স থেকেই আল্লাহ তাকে কঠিন পরীক্ষার মাধ্যমে যাচাই করে নেন। জন্মের পূর্বে পিতা, ৬ বছর বয়সে মা এবং ৮ বছর বয়সে তার দাদা মৃত্যু বরণ করেন। ইয়াতীম শিশু বড় হয়ে উঠে চাচার সযত্ন ভালবাসায়।
কৈশর ও যৌবন: হযরত মুহাম্মদ (সা:) এর শান্তির প্রতি টান ছিল সীমাহীন। ঐ জাহেলী সমাজের যাবতীয় বেইনসাফী দূর করার জন্য কিশোর বয়সেই সবার সাথে মিলে তিনি গঠন করেছিলেন “হিলফুল ফুযুল” বা শান্তি সংঘ। পরবর্তীতে এর স্মৃতি চারণ করতে গিয়ে হযরত মুহাম্মদ (সা:) বলেন, “আমি আব্দুল্লাহ্ ইবনে জুদআনের ঘরে এমন চুক্তিতে শরিক ছিলাম যার বিনিময়ে লাল উট ও আমার পছন্দ নয়। উল্লেখ্য যে তৎকালীন সমাজে উট ছিল খুবিই মূল্যবান সম্পদ।
রাসূল (সা:) এর যৌবনে, কাবা ঘর মেরামত করার পর হাজরে আসওয়াদের স্থাপন করা নিয়ে যে মারাত্মক বিরোধ দেখা দেয় তিনি তার সুন্দর সমাধান করেন। তার গোত্রের নেতাদের বিবাদ যখন খুব খারাবির দিকে এগোচ্ছিল তিনি তখন সেই স্থানে আগমন করেন, মনযোগ দিয়ে তাদের কথা শোনেন, নিজের গায়ের চাদর বিছিয়ে দিয়ে নিজ হাতে চাদরের মাঝখানে হাজরে আসওয়াদ স্থাপন করেন। তারপর চার নেতাকে দিয়ে চাদরের চার কোনো ধরিয়ে নির্দিষ্ট স্থানে যাওয়ার পর তার পবিত্র হাতে আবার সেটা স্থাপন করেন। তিনি যে কৌশলে এই সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতি সামাল দেন এটা তার মহামানব হওয়ার সাক্ষ্য বহন করে।
বৈবাহিক অবস্থা : পঁচিশ বছর বয়সে মক্কার ধনবতী মহিলা খাদিজা বিনতে খোয়ালিদের সাথে রাসূল (সা.) এর বিয়ে হয়। অভিজাত সতী, সাধ্বি, ধনবতী, মহিলা খাদিজা বিভিন্ন লোককে পণ্য দিয়ে ব্যবসা করাতেন এবং তিনি লাভের একটা অংশ গ্রহণ করতেন। হযরত মুহাম্মদ (সা.) এর সততা সত্যবাদীতা ও বিশ্বস্ততা তখন সুবিদিত ছিল। আল-আমীন, আসসাকিন এর প্রশংসা শুনে তিনি তার কাছে ব্যবসার প্রস্তাব পাঠান। হযরত মুহাম্মদ (সা.) রাজী হন এবং ব্যবসা শেষে অনেক বেশি লাভসহ তার সব কিছু বুঝিয়ে দেন। রাসূলের গুণ মুগ্ধ ও অলৌকিক সংকেতের কথা শুনে মা খাদিজা বিয়ের প্রস্তাব পাঠায় এবং উভয়ের সম্মতির ভিত্তিতে তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়। মা খাদিজার বয়স ছিল তখন ৪০ বছর। যতদিন তিনি জীবিত ছিলেন রাসূল (সা:) আর কোনো বিয়ের প্রয়োজন অনুভব করেননি। এরপর আদর্শিক প্রয়োজনে এবং নারী সমাজের বিভিন্ন উপকারের জন্য তিনি মোট ১১টি বিয়ে করেন। দু’জন তার মৃত্যুর পূর্বে মারা যান আর ৯ জনের সাথে তিনি ঘর-সংসার করেন।
শান্তির অন্বেষণে: তিনি ছিলেন প্রশান্ত ও পরিচ্ছন্ন মানুসিকতার মানুষ। মক্কার বিরাজিত সামাজিক অবস্থার সাথে তার কোনোভাবেই মিল ছিলো না। এ অস্থায় স্বজাতীর লোকদের সাথে তার দূরত্ব বেড়ে যাচ্ছিল। মানুষের জীবন সম্পর্কে সঠিক ধারণা নেয়ার পর যথটা সম্ভব সবার বিপদ-আপদ দূর করার চেষ্টা করতেন। তারপর ফিরে যেতেন নিজের নির্জনতার আপন ভুবনে। এভাবে তার বয়স ৪০ এর কাছাকাছি হয় এ সময় তিনি খাবার নিয়ে মক্কার অদূরে হেরা পর্বতের গুহায় চলে যেতেন। এখানে একাধারে তিনি ধ্যান মগ্ন অবস্থায় থাকতেন কখনো খাবার শেষ হয়ে গেলে হযরত খাদিজা তার খাবার পৌঁছে দিতেন। এভাবে ধীরে ধীরে বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠার যোগ্য রূপে মহান সৃষ্টি কর্তা তাকে তৈরি করে নেন। তার নির্জন বাস এর সময় তিন বছর এর কাছাকাছি হল। তখন মহান আল্লাহ্ চাইলেন তার করুণাধারায় জগৎবাসীকে সিঞ্চিত করতে। আর এজন্য তিনি বেছে নিলেন মানবতার মুক্তিদূত বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠার মহানায়ক হযরত মুহম্মদ (সা.) কে। যিনি তার শিশু কাল থেকে জীবনের সর্বত্রই মেনে চলেছেন শান্তির অমিয় বাণী।
শান্তি প্রতিষ্ঠায় মহানবী (সা:) : কোরআন, ইতিহাস এর যুক্তি-প্রমাণ এবং বিভিন্ন গ্রন্থে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী রমজান মাসের শেষ পর্যায়ে মহানবী (সা.) এর কাছে আল্লাহর দূত জিবরাইল (আ:) কে দিয়ে ওহী (আল্লাহ্র বাণী) প্রেরন করেন। এ সময় তার বয়স ৪০ পূর্ণ হয়। প্রথমে তিনি স্বপ্নে সে নিদর্শন পান পরে সরাসরি। মহানবী (সা:) এর প্রতিষ্ঠিত আদর্শের সারবস্তু আমাদের বুঝে নেয়া প্রয়োজন।
দ্বীন ইসলাম : মহান আল্লাহ পবিত্র কোরআনে বলেছেন “আল্লাহর নিকট একমাত্র মনোনীত জীবন বিধান হচ্ছে ইসলাম।” সিলমুন থেকে ইসলাম শব্দের উৎপত্তি এর অর্থ হচ্ছে শান্তি। এটা প্রচলিত কোন ধর্ম নয় এ হচ্ছে সৃষ্টি কর্তার পক্ষ থেকে সৃষ্টির জন্য দেয়া জীবনবিধান। কেবল মাত্র সৃষ্টিকর্তারই বুঝা সম্ভব কিভাবে চললে তার সৃষ্টির ভালো হবে, কোরআনের প্রতি আয়াতে আল্লাহ আমাদের জন্য সেটাই পাঠিয়েছেন। মানবিক এই জীবন বিধান, কষ্ট, ধৈর্য, সহ্য করে প্রতিষ্ঠিত করে দেখিয়েছেন বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠার অগ্রদূত মহানবী (সা.) এজন্যই আল্লাহ্ কোরআনে বলেছেন “তোমাদের জন্য মহানবী (সা.) এর জীবনেই রয়েছে সর্বোত্তম আদর্শ।” মানব জীবনের সর্বত্র কিভাবে রাসূল শান্তির ঝর্ণাধারা বইয়ে দিয়েছেন সেটা আলোচনা করবো।
নৈতিক পরিশুদ্ধতা ও মানসিক শান্তি : তৎকালীন বিশ্বে এমন কোন মত ছিল না যা শিরক মুক্ত ছিল। আরবের বিভিন্ন এলাকায় চলছিল তখন মূর্তি পূজার সয়লাভ। এমনকি কা’বা ঘরেও মক্কার কুরাইশ তথা মহানবী (সা:) এর স্ববংশীয় লোকেরা ৩৬০টি মূর্তি সাজিয়ে ছিল। এ ধরনের পরিস্থিতিতেই আল্লাহ্র রাসূল (সা:) তৎকালীন এবং বর্তমান সময় পর্যন্ত আগত সমস্ত মানুষের জন্য সর্ব প্রথম যে শিক্ষা প্রতিষ্ঠিত করলেন, তা হচ্ছে তাওহীদ বা একাত্ববাদ। এই বিশ্বাস মানুষের মন প্রাণে শান্তি যোগায় তাদের মনকে রাখে প্রশান্ত। ইসলামের মূল কথা কালেমা তাইয়্যেবাতে একত্ববাদের কথাই বলা হয়েছে। এবং মহানবী (সা:) তার বাণী বা হাদীসে বলেছেন- “বল আমি ঈমান আনলাম আল্লাহ্র প্রতি অতঃপর সুদৃঢ় থাক।” এই কারেমার বিশ্বাসীই জাহেলি সমাজের দ্বন্দ্ব সংঘাত মিলিয়ে দিয়েছিল এবং বর্তমানেও বিভিন্ন দেশ ও জাতিকে একত্রিত করে এই বিশ্বাস। এই সুদৃঢ় বিশ্বাসই মানব মনের সব চেয়ে বড় প্রশান্তি।
আল্লাহ্র স্মরণকে জীবন্ত রাখার জন্য এবং জীবন কে নিয়ম শৃঙ্খলায় পরিচালিত করা ও সর্বাত্মক পরিচ্ছন্নতা শেখায় নামাজ। পবিত্র কোরআনের ৮২ জায়গায় নামাজের কথা এসেছে এবং এর প্রতিষ্ঠার জন্য বিশেষ তাগিদ দেয়া হয়েছে। রাসূল (সা:) নামাজকে সর্বোত্তমভাবে প্রতিষ্ঠা করেছেন। রাসূল (সা:) তার অমিয় বাণীতে বলেছেন ‘নামাজ হচ্ছে দ্বীনের খুঁটি।” সত্যি দ্বীনের মূল বিষয় যেমন বলা হয়েছে নামাজে তেমনি মানব মনকে প্রশান্ত ও স্থির রাখার অন্যতম মাধ্যম হচ্ছে নামাজ।
আত্মশুদ্ধি, জীবনকে কঠিনভাবে নিয়মের আবর্তে আনাও সর্বোপরি আল্লাহ্র ভয় জাগরুখ রাখার জন্য রোজা অন্যতম মাধ্যম। সব রকম সংকিলতা থেকে তখনই বেঁচে থাকা যায় তখন মনে আল্লাহ্র ভয় বেশি থাকে। আর এভাবেই মানুষের নৈতিক পরিশুদ্ধতা বেড়ে যায়। কোরআনে রোজাকে ফরজ বা অবশ্য কর্তব্য বলা হয়েছে। আর রাসূল (সা:) হাদীসে বলেছেন “রোজা হচ্ছে ঢাল স্বরূপ”, অর্থাৎ যাবতীয় পাপ ও অশান্তি থেকে সৃষ্টি করতে রোজা মনকে বাঁধা দেয়।
মহানবী (সা:) তার সাহাবাদের হাতে কলমে নামাজ রোজা শিক্ষা দিয়েছেন। আর তার ভবিষ্যতের উম্মাতদের জন্য রেখে গেছেন তার হাদীস। যেখানে কোরআনের ব্যাখ্যা করা হয়েছে প্রত্যেক ইবাদতকে বাস্তবায়িত করার জন্য বর্ণনা করা হয়েছে পুঙ্খানুপুঙ্খ তথ্যাবলী। আর এই ইবাদতের উপর মনেক স্থির করানোর জন্য সুসংবাদ দেয়া হয়েছে আখেরাতের পুরস্কারের। আর সাবধান করা হয়েছে জাহান্নামের শান্তি সম্পর্কে। রাসূল (সা:) এর এই শিক্ষার গুণেই মক্কার জাহেলি সমাজ শান্তির সমাজে পরিণত হয়েছিল আর বর্তমানেও যারা এই ইবাদতের অনুসরণ করে তাদের অন্তরে থাকে প্রশান্তিতে ভরপুর।
অর্থনৈতিক পরিশুদ্ধতা : জাহেলি সমাজে সবার আয় রোজগার ছিল ডাকাতি, রাহাজানি, জুয়া, সুদি কারবার আর ব্যবসা। আল্লাহ্ পবিত্র কোরআনে বলেছেন “আল্লাহ ব্যবসাকে করেছেন হালান এবং সূদকে করেছেন হারাম। সুদ সব সময়ই অর্থনীতিতে বেড়াজালের সৃষ্টি করে। ইসলাম সরাসরি এসবকে হারাম বা নিষিদ্ধ ঘোষণা করছেন। মুহম্মদ (সা:) হাদীসে বলেন, “সুদের মধ্যে ৭০টি পাপ রয়েছে যার মধ্যে সর্ব নিম্নটা হচ্ছে মায়ের সাথে যেনা করা।” এত কঠিন কথা শোনার পর রাসূল (সা.) এর অনুসারিরা এই অভিশাপ থেকে ফিরে আসে। বর্তমানে এই জন্য জাহেলিয়াতে কোরআন ও রাসূলের (সা:) কথা শোনার মাধ্যমে আমরা এই অভিশাপ থেকে মুক্ত হতে পারি। সম্পদ যেন এক শ্রেণির কাছে জমা থাকতে না পারে সে জন্য ইসলামে রয়েছে যাকাত ব্যবস্থা। যার কাছে নিসাব পরিমাণ সম্পত্তি রয়েছে অর্থাৎ সাড়ে ৭ ভরি সোনা ও সারে ৫২ ভরি রূপা রয়েছে বা সমপরিমাণ টাকা আছে তারা তাদের সম্পদের একটা অংশ গরীবদের দান করবে। এবং জমির শস্যর উপর এভাবে ওশর দেবে। এইভাবে সম্পদের সুষম বণ্টন হয়ে সবার কাছেই চলার মত অর্থ থাকবে। কোরআনে অসংখ্য স্থানে আল্লাহ বলেছেন “তোমরা নামাজ কায়েম কর ও যাকাত দাও।” এছাড়া দানের ব্যাপারে হযরত মুহাম্মদ (সা.) খুবিই উৎসাহিত করেছেন। তিনি বলেছেন “এক ব্যক্তি রাসূল (সা:) কে জিজ্ঞেস করলো কোন দান উত্তম? তিনি বললেন তুমি সুস্থ ও তোমার অর্থের প্রয়োজন থাকাবস্থায় যে দান করবে এবং তুমি অভাবগ্রস্থতার আশঙ্কা করছ, ধনী হওয়ার আশাও পোষণ করছো এমন অবস্থায় যে দান করবে। আর ঐ সময় পর্যন্ত বিলম্ব করবে না যখন তোমার প্রাণ কণ্ঠাগত হবে।” হযরত মুহম্মদ (সা:) তার স্ত্রীরা এবং তার সাহাবা সবাই খুবিই দান সাদাকা করেছেন। একবার নব্বই হাজার দিরহাম এল রাসূল (সা:) সবই দান করে দিলেন। সাহাবাদের কাছে সম্পদ জমা হলে তারা এতো অস্থির হতেন যে যতক্ষণ পর্যন্ত তা দান করা না হতো তারা সুস্থিরতা  বোধ করতেন না। এভাবে আন্তরিকতার সাথে যাকাত ও সাদকা করার জন্য যখন ইসলাম প্রতিষ্ঠিত হয়ে গেলো তখন অনেক সময়ই যাকাত নেবার লোক পাওয়া যেত না। এটাই ছিল হযরত মুহম্মদ (সা:) এর শিক্ষার ফল। বর্তমান সময়ও যদি আমরা রাসূলের নির্দেশিত নিয়ম কানুন ও পথকে অনুসরণ করি তবে এ সমাজের অর্থনেতিক অস্থিরতা দূর হয়ে নেমে আসবে সীমাহীন শান্তি।
সামাজিক শান্তি : সামাজিক শান্তি প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে রাসূল (সা:) সর্বাত্মক প্রচেষ্টা করেছেন। তিনি সমাজের সর্বস্তরের মানুষ ও অবস্থা সম্পর্কে যে নসিহত ও বাস্তব উদাহরণ পেশ করেছেন তা তুলনাহীন। মহান আল্লাহ পবিত্র কোরআনে বলেছেন, “আমি আমার রাসূলগণকে কেবল মাত্র এ উদ্দেশ্যে পাঠিয়েছি এবং তাদের উপর কিবতাব ও মানদ- নাযিল করেছি। যাতে মানবজাতি ন্যায়ের ওপর প্রতিষ্ঠিত হয়।” মানব সমাজে যাতে ইনসাফ, ন্যায়বিচার ও ন্যায়নীতি প্রতিষ্ঠা করা হয় সেটা কোরআন দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বলে দিয়েছে। আল্লাহ্ কোরআনে আরো বলেছেন
‘তিনিই আল্লাহ যিনি তাঁর রাসূলকে পাঠিয়েছেন হেদায়াত ও সত্যদীন সহকারে, যাতে রাসূল (সা.) ইসলামকে সমস্ত মত ও পথের উপর বিজয়ী করতে পারেন।’ যেহেতু ইসলাম অর্থ শান্তি সেহেতু ইসলাম সমাজের সর্বত্র বিজয়ী হলেই সেই শান্তি ছড়িয়ে পড়বে সর্বাত্মকভাবে। রাসূল (সা.) তাঁর জীবনের সর্বশক্তি চেষ্টা এতেই নিয়োজিত করেছেন। আর রাসূলের আদর্শ অনুসরণ করা অবশ্য কর্তব্য বিধায় এ কাজ সাহাবারা করেছেন এবং বর্তমানেও করতে হবে। হযরত মুহাম্মদ (সা.) সামাজিক শান্তি বজায় রাখার জন্য বড় থেকে সুক্ষাতিসূক্ষ্ম বিষয় পর্যন্ত খেয়াল করেছেন গভীরভাবে। তিনি বলেছেন, ‘কথা বললে ভাল কথা বলো অথবা চুপ থাক।’ গীবত, চোগলখুরি, কানাকানি, মিথ্যা সাক্ষ্য এসবই নিষেধ করেছেন কঠিনভাবে। গীবতকে তুলনা করা হয়েছে মৃত ভাইয়ের গোশত খাওয়ার সাথে। তিনজন থাকলে দুজনকে কানাকানি করতে নিষেধ করেছেন যাতে তৃতীয়জনের কানে সন্দেহ সৃষ্টি না হয়। তিনি কিভাবে সর্বস্তরের মানুষের মানবিক অধিকার আদায় করেছেন সেটা আমরা খতিয়ে দেখব, আর এই অধিকার আদায়ের মূলে ছিল সামাজিক শান্তি নিশ্চিতকরণ।
নারীর অধিকার : নারীর অধিকারের কথা বলতে গেলে প্রথমে আসে মায়ের কথা। আল্লাহ কুরআনে বলেছেন, ‘তোমাদের মা-বাবা উভয় বা একজন যদি তোমাদের সামনে বৃদ্ধ অবস্থায় উপনীত হয় তবে তাদের প্রতি উহ্্ শব্দটা উচ্চারণ করো না’। বৃদ্ধাশ্রমে পাঠানো দূরে থাক, মা-বাবার প্রতি সামান্য বিরক্তও হওয়া যাবে না। মা, বাবা দুজনের মধ্যে মায়ের অধিকার বেশি গুরুত্বপূর্ণ। মহানবী (সা.) তার দুধমায়ের বসার জন্য নিজের মাথার পাগড়ি খুলে বিছিয়ে দিয়েছেন। মায়ের গুরুত্ব সম্পর্কে তিনি বলেছেন, ‘এক সাহাবা জিজ্ঞাসা করল, আমার সবচেয়ে বেশি ভালবাসা পাওয়ার অধিকার কার? রাসূল (সা.) উত্তর দিলেন তোমার মা। সাহাবার দ্বিতীয় ও তৃতীয় উত্তরেও তিনি বললেন, তোমার মা। চতুর্থবার বললেন, তোমার পিতা।’ মা-বাবার অবাধ্য হওয়াকে মহানবী (সা.) কবিরা গুনাহ বলেছেন। যে জাহেলি যুগে স্ত্রীর কোন মর্যাদা ছিল না এবং বর্তমানে অনেক স্বামী-স্ত্রীর মর্যাদা দেন না। রাসূল (সা.) ঘরের কাজে স্ত্রীদেরকে বিশেষ সাহায্য করেছিলেন। তিনি স্ত্রীদের মনোরঞ্জনের ব্যবস্থা করেছেন এবং বলেছেন, ‘সেই পুরুষ উত্তম যে তার স্ত্রীর কাছে উত্তম।’ আইয়ামে জাহেলিয়াতে কন্যা সন্তানকে জীবিত পুঁতে ফেলা হতো। বর্তমানে এমআর-এর নামে অদ্ভুত পদ্ধতিতে সন্তানদের হত্যা করা হয়। যেখানে কি পুত্র কি কন্যা হিসাব করা হয় না। অথচ আল্লাহর রাসূল (সা.) কন্যা সন্তানের ইজ্জত বুঝাতে গিয়ে বলেছেন, যে তার কন্যা সন্তানকে ভালভাবে শিক্ষাদীক্ষা দিয়ে বিয়ে দিবে, সে আর আল্লাহর রাসূল হাতের আঙ্গুলের মত পাশাপাশি থাকবে।’ এছাড়া নারী ও পুরুষ কারো কাজ আল্লাহ নষ্ট করবেন না বলে ওয়াদা করেছেন। আর ‘ তোমরা তাদের পোশাক ও তারা তোমাদের পরিচ্ছদ’ এ কথা বলে আল্লাহ উভয়কে সমান মর্যাদায় অধিষ্ঠিত করেছেন। নারী সৌন্দর্যের প্রতীক ও শারীরিকভাবে দুর্বল হওয়ায় তাদের দায়িত্ব কিছু কম দেয়া হয়েছে। কিন্তু মা হিসাবে নারীকে মর্যাদা দেয়া হয়েছে তিনগুণ। তৎকালীন সমাজ ও বর্তমান সমাজে প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যে নারী-পুরুষ সমঅধিকারের নামে নারীকে যে মর্যাদা দেয়া হয়েছে ইসলাম সে তুলনায় নারীকে দিয়েছে যোগ্য সম্মান ও মর্যাদা। হযরত মুহাম্মদ (সা.) নারী ও পুরুষের সুসম্পর্ক প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে সামাজিক শান্তি নিশ্চিত করেছেন।
ভ্রাতৃত্ব ও ভালবাসা : জাহেলি সমাজে গোত্রে গোত্রে ঝগড়া ও রক্তারক্তি সুবেদিত ছিল। কিন্তু ইসলামের আগমনে সেই কঠিন ঝগড়া ফ্যাসাদ সব বন্ধ হয়ে গেল। মহান আল্লাহ পবিত্র কুরআনে ঘোষণা করলেন ‘মুমীনগণ পরস্পর ভাই ভাই।’ আর আল্লাহর রাসূল (সা.) শিখালেন মুমীনগণ পরস্পর একটি দেহের মত, যার একটি অঙ্গ ব্যথা হলে সমস্ত দেহের ব্যথা অনুভূত হয়।’ হিজরতের পর মদিনায় আনসার ওমুহাজিররা মিলে একটি ভালবাসার সম্পর্ক গড়ে তুলেছিল যে সম্পর্ক আজ পর্যন্ত তার কোন নজির মিলেনি। এছাড়া জামাতে নামাজ, হজ্জ, ওমরা আর সবাই একই সময়ে রোজা পালনের মধ্যে রয়েছে ভ্রাতৃত্বের নিদর্শন।
বিভিন্ন মানবিক অধিকারসমূহ : মহানবী (সা.) এর সাহাবী হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে সালাম (রা.) বলেন, নবী করীম (সা.) মদীনায় আসার পর আমি তার কাছে হাজির হলাম তার পবিত্র চেহারা দেখেই বুঝে ফেললাম, এই চেহারা কোন মিথ্যাবাদির চেহারা নয়। এরপর তিনি আমার সামনে প্রথম কথা এটাই বলেছিলেন যে, ‘হে লোক সকল সালাম দিতে থাক, খাবার খাওয়ায় আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখ, রাতে সবাই যখন ঘুমিয়ে পড়ে তখন নামাজ পড় জান্নাতে নিরাপদে প্রবেশ করবে।’ এই হাদীস অনুযায়ী বুঝতে পারা যায়, রাসূল (সা.)-এর চেহারা মুবারক দেখে ও কথা শুনে তার সৎ উদ্দেশ্য বুঝতে পারত। আর তিনি তো সকলের প্রয়োজনের দিকে খেয়াল রেখে আচার-ব্যবহার করতেন। তার আত্মীয়রা তার সাথে চরম খারাপ আচরণ করলেও একজনের দুশমন হলেও তিনি সবাইকে ক্ষমা করে দিয়েছেন। এ জন্য মহানবী (সা.) আল্লাহর প্রিয় হাবীব ও শান্তির অগ্রদূত হতে পেরেছিলেন। প্রতিবেশীর সাথে ভাল ব্যবহারের ব্যাপারে তিনি বিশেষ তাগিদ দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘সেই ব্যক্তি জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না, যার প্রতিবেশী তার দুর্বৃত্তপনা এবং ধ্বংসকারিতা থেকে নিরাপদ নয়।’ প্রতিবেশীর বিপদে আগানো, তাকে উপহার পাঠানো, তাদের খাওয়া-দাওয়ার খোঁজ-খবর রাখা, অসুস্থতায় দেখতে যাওয়া সব ব্যাপারেই হযরত মুহাম্মদ (সা.) নিজেও করেছেন আর তার উম্মতদের জন্য বিশেষ নসিহত করে গেছেন। প্রতিবেশীরা মিলেমিশে থাকলেই শান্তিময় পরিবেশ গড়ে উঠতে পারে। মহানবী (সা.) আরো বলেছেন, যে ব্যক্তি আল্লাহ ও রাসূলের প্রতি ঈমান রাখে, সে যেন তার মেহমানদের সমাদর করে। মেহমানকে ভালভাবে তিনদিন যতœ করবে এরপর তার সাথে স্বাভাবিক আচরণ করলেই চলবে। যাতে মেজবানের কোনরূপ সমস্যা না হয়, তার জন্যেই আল্লাহর রাসূলের এই দৃষ্টিপাত। দাসদাসির কথা তিনি বিশেষভাবে স্মরণ করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘তোমরা যা খাও তাদেরকে তাই খেতে দাও, তোমরা যা পরো তাদেরকে তাও পরাও’। মৃত্যুর দিনে তিনি তাদের কথা বলেছেন।
সাহিত্য সংস্কৃতি : ভারসাম্যপূর্ণ জীবনব্যবস্থার বিশেষ অঙ্গ হচ্চে বিনোদন। যে সমাজ ব্যবস্থায় বিনোদনের স্থান নেই তা বেশিদিন টিকতে পারে না। সাহিত্য-সংস্কৃতি বিনোদনের অন্যতম অংশ। রাসূলের সময় সাহিত্য বলতে ছিল কবিতা। অশ্লীলতা বর্জিত কবিতার কথা তিনি বিশেষভাবে বলেছেন। ‘কবিতা কথার মালার সুন্দরগুলি সুন্দর, অসুন্দরগুলি অসুন্দর।’ সাঁতার কাটা, ঘোড়দৌড় তৎকালীন অস্ত্রের প্রতিযোগিতা তিনি আয়োজন করেছিলেন। বিয়ে-সাদীতে তিনি দফ বাজিয়ে গান গাওয়ার কথা বলেছেন। উৎসব ও ঈদে ছোট ছেলেমেয়েরা দফ বাজিয়ে গান গাইলে তিনি পছন্দ করতেন। তার সময় কবিদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেছিলেন ‘আমাকে অসির মাধ্যমে সাহায্য করার অনেকে রয়েছে কে আছে আমাকে মসির মাধ্যমে সাহায্য করার।’ তার আমলে কবিরা ইসলামী জজবাকে জাগ্রত করার জন্য জিহাদের ময়দানে কবিতা আবৃত্তি করেছেন। আর জাহেল কবিদের কুৎসা সম্বলিত কবিতার উত্তর দিয়েছেন। বিভিন্ন কাজের সময় তিনি নিজেও কবিতার লাইন আওড়িয়েছেন। যেমন: খন্দকের যুদ্ধ কখনো কবি হাসলাম বিন সাবিতকে নিজ মিম্বরে বসিয়ে আবৃত্তি করাতেন আর বলতেন, ‘এই কবিতা শত্রুর বিরুদ্ধে তীরের চেয়ে কঠোর। শান্তিময় সমাজব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল সমস্ত বিষয় পরিশুদ্ধকরণের মাধ্যমেই।
বিশ্বশান্তি ও মহানবী (সা.) : একজন হিন্দু কবি বলেছেন, ‘তিনি নন শুধু মুসলমানের
সাম্প্রদায়িক নবী,
তার বাণী ছুটে দিক হতে দিকে
স্রষ্টার গীতি কবি।’
 শেষ নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য সমস্ত পৃথিবীর মুক্তি দূতরূপে আগমন করেছিলেন। তিনি তাঁর সর্বাত্মক চেষ্টা দিয়ে জীবন বিধানরূপে প্রতিষ্ঠা করেছেন ইসলাম। বিশ্বের সর্বস্তরের মানুষের জন্যই ইসলাম এসেছে। জাহেলি সমাজে ইসলাম প্রতিষ্ঠা করে নবী দেখিয়েছেন, এটাই একমাত্র শান্তির পথ। যে সমাজের সর্বত বিরাজিত ছিল অশান্তি ও অশ্লীলতা, ব্যাভিচার ও রাহাজানি, সেই সমাজই ইসলামের পরসে এতটা প্রশান্ত হয়ে গেল যে, আরবের একপ্রান্ত থেকে অন্য প্রান্ত পর্যন্ত গা ভর্তি গয়না পরে ঘুরে বেড়ালেও তার দিকে কেউ ফিরেও তাকাত না।
ধীরে ধীরে মানুষ যখন ইসলাম থেকে সরে এলো তখন সমাজে আবার নেমে এলো অশান্তির সয়লাব। বর্তমান বিশ্বের দিকে তাকালে আমরা দেখি, সীমাহীন বেহায়াপনা, অর্থনৈতিক অস্থিরতা, অশ্লীল সাহিত্য সংস্কৃতি। যেন সমাজে আবার নেমে এসেছে এক নব্য জাহেলিয়াত। মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর পরিপূর্ণ অনুসরণের মাধ্যমেই আমরা আবার উৎখাত করতে পারব এ নব্য জাহেলিয়াতের। বতমান বিশ্বের সর্বত্রই মুসলমানরা লাঞ্ছিত হচ্ছে। কারণ, তাদের মধ্যে ভ্রাতৃত্ব ও ভালবাসার অভাব রয়েছে চূড়ান্তভাবে। বছর বছরই হজ্জ মওসুমে অনেক মানুষের সমাবেশ হয়। কিন্তু নবীর সঠিক অনুসরণের কথা কয়জন চিন্তা করে সেটা বলাইবাহুল্য। রাসূলের (সা.) স্বভাব চরিত্র ছিল কুরআনের বাস্তবরূপ। কুরআনের সঠিক অনুসরণ করতে হবে এবং কুরআনের অনুসরণ করতে হবে রাসূলের শিখানো পদ্ধতিতে। অনেকে রাসূলের সহজ সুন্নতগুলো মানার মাধ্যমে পরিপূর্ণ শান্তি পাওয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু অর্ধেক কাজ করে কোন পূর্ণ শান্তি পাওয়া সম্ভব নয়। মুহাম্মদ (সা.) যেমন মাল ও জান দিয়ে পরিপূর্ণ চেষ্টা করেছেন, ঠিক সেভাবে সাধনা করতে হবে। একতাবদ্ধভাবে ও ত্যাগ স্বীকার করে মুখ, কলম ও সর্বোপরি সংগ্রামের মাধ্যমে সর্বাত্ম চেষ্টা করলেই আবার আমাদের মাঝে নেমে আসতে পারে সেই শান্তির সমাজ। আমরা যদি এই চেষ্টায় সফল না হই, তবে আমরা জবাব দিতে পারব আমাদের সৃষ্টিকর্তার কাছে। পরিষ্কার থাকব আমাদের বিবেক ও পরবর্তী প্রজন্মের কাছেও। হযরত নুহ্ (আ.) সাড়ে নয়শত বছর চেষ্টা করেছিলেন দ্বীনে হক্ব প্রতিষ্ঠার জন্য কিন্তু তিনি পারেননি। অবশ্যই তার জীবন ব্যর্থ হয়ে যায়নি। কারণ আল্লাহর কাছে তিনি সফলকাম।
উপসংহার : আল্লাহ পবিত্র কুরআনে বলেছেন, ‘তোমরা হতাশ হয়োনা, নিরাশ হয়ো না, তোমরাই বিজয়ী হবে যদি তোমরা মুমিন হও।’ হযরত মুহাম্মদ (সা.) জীবনের প্রত্যেকটি স্তরের উদাহরণ পেশ করেছেন তার নিজ জীবন থেকে। তিনি সুখ, দুঃখ, ক্ষুধা কোন কিছুর পরোয়া করেননি। দারিদ্র্যের আশঙ্কা করেননি। তিনি উটের পিঠ ভর্তি সম্পত্তি বিলিয়ে দিয়েছেন জনগণের মাঝে। চোখে দেখা যায়নি লোভের সামান্য ছায়া। তিনি ও তার সাহাবারা স্বার্থহীনভাবে সব ত্যাগ করেছেন। এ জন্যই তারা গড়তে পেরেছিলেন সুখী ও শান্তিময় বিশ্ব।
লেখক : আই.ই.এস. স্কুল এন্ড কলেজ, উত্তরা, ঢাকা-১২৩০।
গ্রন্থপঞ্জি :
১। তাফহিমুল কুরআন : আল্লামা সাইয়্যেদ আবুল আ’লা মওদূদী
২। বুখারী শরীফ
৩। মানবতার বন্ধু- নঈম সিদ্দিকী
৪। আর রাহিকুল মাকতুম : আল্লামা শফিউর রহমান মোবারক নূরী

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ