ঢাকা, মঙ্গলবার 17 April 2018, ৪ বৈশাখ ১৪২৫, ২৯ রজব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

মিরাজের শিক্ষা

মাহবুবা খাতুন : ২৭শে রজব। ইসলামের ঐতিহাসিক দিন। দ্বীনের দাওয়াত প্রচার করতে গিয়ে মক্কার কাফেরদের সীমাহীন অত্যাচার ও তায়েফবাসীদের দুর্ব্যবহারে মহানবী (সাঃ) যখন মর্মাহত ও ব্যথিত। ঈমানের এই অগ্নিপরীক্ষায় যখন আল্লাহ্ রাব্বুল আলামীনই একমাত্র ভরসা। ঠিক সেই মুহূর্তে নবুওয়াতের দ্বাদশ বছরে একাদশ সনে রজব মাসের ২৭ তারিখে বিশ্বজাহানের মালিক আল্লাহ্ তাকে মসজিদে হারাম থেকে বায়তুল মুকাদ্দাস এবং সেখান থেকে নিয়ে যান জড়জগতের সীমা ছাড়িয়ে ঊর্ধ্বলোকে তার কুদরাতে কামেলার কেন্দ্রবিন্দুতে। তৌহিদের নিদর্শনাবলির তথ্য আল্লাহ্র আয়াতসমূহের চাক্ষুষ অবোলকনের জন্য। আর এটাই মেরাজ। গোটা বিশ্বের সকল কিছুর ওপর নিরঙ্কুশ কর্তৃত্ব ও ক্ষমতা প্রতিপত্তি প্রতিষ্ঠিত এক আল্লাহর। তার এই ক্ষমতাকে চ্যালেন্জ করার কেউ নেই। অতএব তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে এই দ্বীনের বিজয় ঠেকানোর সাধ্য কারো নেই এই আস্থা, এই বিশ্বাস মজবুত ও সুদৃঢ় করাই মেরাজের মূল লক্ষ্য। সেই সাথে রেসালাতের সিলসিলা শেষ হচ্ছে সর্বশেষ নবীর মাধ্যমে। সুতারাং এই পরিবারের সদস্যদের সাথে দেখা সাক্ষাতের ব্যবস্থা করে দেন মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন। এই ভ্রমণে বায়তুল মুকাদ্দাসে তিনি পূর্ববর্তী নবীগণের সান্নিধ্য লাভ করেন এবং সকল নবীদের ইমাম হয়ে সালাত আদায় করেন। জান্নাত-জাহান্নাম এর দৃশ্য দেখানো হয় প্রতীকীভাবে আখেরাত বিশ্বাসের যথার্থতা প্রমাণের বিশ্বাস সৃষ্টির লক্ষ্যে। তারপর সেখান থেকে সাত আসমান অতিক্রম করে আল্লাহ তায়ালার দিদার লাভ করেন। তিনি আল্লাহর নিকট থেকে সালাতের নির্দেশ পেলেন। বর্ণনায় এসেছে -রাসূল (সাঃ) বললেন, “এরপর আমি ফিরে এলাম। আসার পথে মূসা ইবনে ইমরানের সাথে দেখা হলো। জিবরীল বললেন, “তিনি তোমাদের একজন উত্তম বন্ধু। “তিনি আমাকে জিজ্ঞাসা করলেন, “তোমার উপর কয় ওয়াক্ত নামায ফরয হয়েছে।” আমি বললাম পঞ্চাশ ওয়াক্ত। মূসা বললেন, “নামায বড় কঠিন কাজ। তোমার উম্মাত খুবই দুর্বল। তুমি আল্লাহ্র কাছে ফিরে যাও  এবং তোমার ও তোমার উম্মতের দায়িত্ব হালকা করে দিতে বল।” আমি আল্লাহর কাছে গেলাম এবং অনুরোধ করলাম আমার ও আমার উম্মাতের দায়িত্ব হালকা করে দিতে। এভাবে বহুবার যেয়ে কমাতে কমাতে পাঁচ ওয়াক্ত নামায বাকি রইল। মূসা (আ:) আবারও যেতে বললেন। আমি বললাম, আর যেতে লজ্জাবোধ করছি। এভাবে শেষ নবীর উম্মাতের উপর পাঁচ ওয়াক্ত নামায ফরয হলো।  
অতএব, যে ব্যক্তি এই পাঁচ ওয়াক্ত নামায ঈমান ও সতর্কতার সাথে পড়বে, সে পঞ্চাশ ওয়াক্ত নামাযের সওয়াব পাবে। মিরাজ মহানবী (সা:) এর জীবনে একটি তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা। এতে তিনি নতুন প্রেরণায় উজ্জীবিত হয়ে পূর্ণ উদ্যামে দ্বীন প্রচার করতে থাকেন। মেরাজের এই ঘটনার মাধ্যমেই পাঁচ ওয়াক্ত নামাযের সময় নির্ধারণ পূর্বক হাতে-কলমে এ নামাজের প্রশিক্ষণ পান জিবরীল  (আ:) এর তত্ত্বাবধনে। যে নামাযের নির্দেশ আল্লাহর পক্ষ থেকে নিয়ে আসেন নবী মুহাম্মাদ (সা) পবিত্র তোহফা এবং আল্লাহর নৈকাট্য লাভের উপায় হিসেবে। আর ঈমানের পরেই ইসলামের প্রধান ও শ্রেষ্ঠ ইবাদাত নামায। পবিত্র কুরআনে আছে, “নামায কায়েম কর।” নিঃসন্দেহে নামায অশ্লীল ও খারাপ কাজ হতে বিরত রাখে। (আনকাবুত: ৪৫) হাদীসে আছে, যার নামায নেই তার দ্বীন নেই। গোটা শরীরের মধ্যে মাথার যে মর্যাদা, দ্বীন ইসলামে নামাযের সে মর্যাদা। (আল-মুজামুস সগীর)। তাই আসুন তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা মিরাজ থেকে শিক্ষা গ্রহণ করি। প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হই আজ থেকে:
নিয়মিত নামায পড়ব,
জীবনটাকে,
খোদার রঙে রাঙাবো ।।
করি মৃত্যুর কথা স্মরণ,
মিরাজের শিক্ষাকে করি
নিজ জীবনে বাস্তবায়ন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ