ঢাকা, মঙ্গলবার 17 April 2018, ৪ বৈশাখ ১৪২৫, ২৯ রজব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

মেরাজ ও পহেলা বৈশাখ : অদ্ভূত সমীকরণের ব্যর্থ চেষ্টা

তাহান্না মেহজাবীন : মেরাজ ও পহেলা বৈশাখ খুব কাছাকাছি সময়ে হওয়ায় দু’টি বিষয়কে নিয়েই চলছে জোর তৎপরতা। দিনে পহেলা বৈশাখের নানা আয়োজন শেষে রাতে মেরাজের নামায ও পরের দিন রোযা রাখার প্লান অনেকেরই। একদিকে চলছে সাদা শাড়ি লাল পাড়, হাতে লাল চুড়ি, মাথায় লাল ফিতা, পায়ে আলতা আর আল্পনা দিয়ে নিজেকে বর্ণিল সাজে সজ্জিত করার প্রতিযোগিতা, মঙ্গল শোভাযাত্রা, পান্তা ইলিশসহ নানামুখী আয়োজন। অপরদিকে চলছে মেরাজে কত রাকাত নামায, নামাযে কোন সূরা পড়তে হবে, কতটি রোযা রাখতে হবে এমন অনেক হিসাব-নিকাশ।
কিন্তু আমরা কি কখনো ভেবে দেখেছি, আমরা মূলত দুটি সাংঘর্ষিক বিষয়কে একই মেরুতে আনার ব্যর্থ চেষ্টাটুকুই করছি! বিশ্বাসের মূলে আঘাত করে আমাদের কোন আমলই আল্লাহর দরবারে কবুল হতে পারে না। কারণ পহেলা বৈশাখের সমস্ত আয়োজন জুড়েই রয়েছে নানামুখি শিরকের ছড়াছড়ি। অথচ মেরাজের রাতে মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন রাসূল (সঃ) এর মাধ্যমে আমাদের নিকট যে ১৪টি দফা পেশ করেছেন তার প্রথম দফাই ছিল এমন – “আল্লাহ্র সাথে কাউকে শরীক করো না, তাহলে তুমি নিন্দিত ও অসহায় হয়ে পড়বে। আর তোমরা কেবলমাত্র আল্লাহরই ইবাদত কর।” (সূরা বনী ইসরাঈল:২২)
মেরাজের নামায রোযার যে নিয়ত আমরা করেছি তা অবশ্যই প্রশংসনীয়। কিন্তু এটা তখনই আল্লাহ্র কাছে গ্রহনীয় হবে, যখন আমরা নিñিদ্র ঈমানের অধিকারী হতে পারব। যে ঈমানে এতটুকু খাদের লেশ মাত্র নেই। একমাত্র নির্ভেজাল, নিখাঁদ ঈমানই আমলকে সজীব রাখতে পারে। তা যত অল্প আমলই হোক না কেন। হাদীস শরীফে এভাবে এসেছে- “হযরত ওসমান (রাঃ) থেকে বর্ণিত৷ রাসূল (সাঃ) বলেছেন : তোমার ঈমানকে খাঁটি কর অল্প আমলই নাজাতের জন্য যথেষ্ট হবে।” (মিশকাত:১৮৩)
উদাহরণ স্বরূপ বলা যায়, “একটি ছিদ্র কলসীতে যত পানিই দেয়া হোক না কেন, সে পানি কখনোই থাকবে না ছিদ্র বন্ধ না করা পর্যন্ত। এটাই স্বাভাবিক৷ ঠিক তেমনি ঈমান তথা বিশ্বাসের জায়গা যদি নড়বড়ে হয়ে যায়, শিরক মিশ্রিত হয়ে যায়, তখন সমস্ত আমলই ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়ে যায়।
সুতরাং ৯০ ভাগ মুসলমানের দেশে আল্লাহ ও তাঁর রাসূল (সাঃ) এর প্রতি ভালবাসা, তাঁর ইবাদতসমূহের প্রতি ভালবাসা আমাদের মজ্জাগত। এ ভূখন্ডের মানুষ শত শত বছর ধরে ঈমানের লড়াই করে এসেছে বলিষ্ঠভাবে। আজও পর্যন্ত ইসলামের প্রতি যখনই কোন আঘাত আসে, তখনই তারা প্রতিবাদে ফেটে পড়ে। ইসলামের প্রতি তাদের ভালবাসা অন্তরে বদ্ধমূল হয়ে আছে গভীর থেকে গভীরতর। আর তাইতো বাতিলের নানামুখী চাটুকদার আয়োজন ও অপসংস্কৃতির মাধ্যমে গভীর ষড়যন্ত্রের ফাঁদ পাতা হয়েছে। যাতে আমাদের মুসলমানিত্বটুকু নামেই সীমাবদ্ধ থাকে। কর্মকান্ড হয়ে পড়ে কাফির মুশরিকদের মত৷ এ যেন বিনা রক্তপাতে যুদ্ধ জয়।
তাই আসুন মেরাজের শিক্ষাকে সর্বান্তকরণে লালন করে আজই, এখন থেকেই সতর্ক হই। নিজেদের ঈমানকে করি খাঁটি, করি রি আল্লাহর কাছে গ্রহণীয়, করি নাজাতের পাথেয়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ