ঢাকা, মঙ্গলবার 17 April 2018, ৪ বৈশাখ ১৪২৫, ২৯ রজব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

দুই দিনেও শুরু হয়নি সুন্দরবনে ডুবে যাওয়া কার্গো উদ্ধারের কাজ

খুলনা অফিস : মংলা বন্দর চ্যানেলের পশুর নদীর হারবাড়িয়া এলাকায় ডুবে যাওয়া ৭৭৫ মেট্রিক টন কয়লা  বোঝাই ‘এমভি বিলাস’ লাইটার কার্গো জাহাজের উদ্ধার কাজ সোমবার পর্যন্ত শুরু হয়নি। তবে, কার্গোটি যে স্থানে ডুবে গেছে, সেখানে দুপুরে ‘মার্কিং বয়া’ স্থাপন করেছেন মংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ। ফলে মংলা বন্দরে আসা দেশি-বিদেশি জাহাজগুলো দুর্ঘটনাস্থল এড়িয়ে চলতে পারছে। কার্গো জাহাজটি দ্রুত উদ্ধারে মালিক পক্ষকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এদিকে, এই কার্গোডুবির ঘটনায় বন বিভাগ এক সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।
ডুবে যাওয়া লাইটার জাহাজ ‘এমভি বিলাসে’র চালক আনিছুল হক বলেন, সুন্দরবনের হারবাড়িয়া এলাকার ৬ নম্বর অ্যাংকারেজে থাকা লাইবেরিয়ার পতাকাবাহী জাহাজ ‘এমভি অবজারভার’ ইন্দোনেশিয়া থেকে কয়লা নিয়ে মংলা বন্দরে আসে। জাহাজটি থেকে রোববার ভোরে কয়লা নেয়া হয় ঢাকার ইস্টার্ন ক্যারিয়ার নেভিগেশনের মো. সোহেল আহম্মদের ‘এমভি বিলাস’ কার্গো জাহাজে। খুলনার দুলাল এন্টারপ্রাইজের জন্য ইটভাটা ও সিরামিক কারখানাগুলোর জন্য আমদানি করা কয়লা নিয়ে তা রাজধানীর মিরপুরের উদ্দেশে রওনা দেয়। কিছু দূর এগোলেই ডুবোচরে ধাক্কা লেগে তলা ফেটে এটি ডুবে যায়। এ সময় কার্গোতে থাকা সাত কর্মচারী সাঁতরে তীরে উঠতে সক্ষম হন। আনিছুল হক জানান, কার্গোডুবির ঘটনায় রবিবার দুপুরে মংলা থানায় একটি সাধারণ ডায়রি করেছেন। জানা গেছে, রোববার ভোরে ‘এমভি বিলাস’ ডুবে গেলেও সন্ধ্যা পর্যন্ত এর উদ্ধার কাজ শুরু হয়নি। তবে পশুর নদীর ডুবে যাওয়া স্থানটিতে ডুবুরি নামিয়ে জাহাজটিতে ‘মার্কিং বয়া’ স্থাপন করেছেন মংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ।
মংলা বন্দরের হারবার মাস্টার কমান্ডার ওলিউল্লাহ জানান, ‘মার্কিং বয়া’ স্থাপনের কারণে মংলা বন্দরে আসা জাহাজগুলো দুর্ঘটনাস্থল এড়িয়ে চলাচল করতে পারছে। বর্তমানে বন্দরের কার্যক্রম ও চ্যানেলে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।
এদিকে, বঙ্গোপসাগরের দিকে কয়লাবোঝাই এই লাইটার কার্গো জাহাজডুবির ঘটনায় সুন্দরবনের কী পরিমাণ ক্ষতি হবে তা নিরূপণ করতে এক সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। বাগেরহাটের পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. মাহমুদ হাসান জানান, চাঁদপাই রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) মো. শাহিন কবিরকে দ্রুত প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। রোববার দুপুর থেকেই তদন্ত কমিটি সরেজমিন কাজ শুরু করেছে।
অন্যদিকে, ঢাকার ইস্টার্ন ক্যারিয়ার নেভিগেশনের মালিক মো. সোহেল আহম্মদকে তার ডুবে যাওয়া লাইটার কার্গো ‘এমভি বিলাস’কে দ্রুত বন্দরের পশুর চ্যানেল থেকে কয়লাসহ উদ্ধারের জন্য চিঠি দেয়া হয়েছে। মালিক পক্ষ কয়লাসহ লাইটার জাহাজটি উদ্ধারে ব্যর্থ হলে বন্দরের নিয়ম অনুযায়ী নিলাম ডেকে টেন্ডারের মাধ্যমে তোলা হবে কার্গোটি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ