ঢাকা, মঙ্গলবার 17 April 2018, ৪ বৈশাখ ১৪২৫, ২৯ রজব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

রেলওয়ে দুর্ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত হওয়াসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া দরকার -মিয়া গোলাম পরওয়ার

বাংলাদেশ রেলওয়ে দুর্ঘটনা নতুন কিছু নয়। আমরা প্রায় দেখি দুর্ঘটনা পর সুষ্ঠু তদন্ত হয় না। ফলে দিন দিন এই দুর্ঘটনা বেড়েই চলছে। প্রত্যেকটি ঘটনার সুষ্ঠ তদন্ত হওয়াসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া দরকার বলেছেন অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার।
গতকাল সোমবার বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন কেন্দ্রীয় নির্বাহী বৈঠকের সভাপতির বক্তৃতায় ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি সাবেক এমপি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার এই কথা বলেন। বৈঠকের শুরুতে টঙ্গির রেল দুর্ঘটনার নিহতদের জন্য দোয়া মুনাজাত করা হয় এবং নিহত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান হয়। বৈঠকে সর্বসম্মতি ক্রমে আহতদের জন্য উন্নত চিকিৎসাসহ নিহত পরিবারের জন্য ক্ষতিপূরণ দিতে সরকারের প্রতি জোর দাবি জানানো হয়।
ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি অধ্যাপক হরুনুর রশিদ খানের পরিচালনায় বৈঠকে নির্বাহী পরিষদের সদস্যবৃন্দ ছাড়াও বিশেষ অতিথি ছিলেন জামায়াত ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ইজ্জত উল্লাহ এবং গাজীপুর মহানগর আমীর ও মেয়র প্রার্থী অধ্যক্ষ সানাউল্লাহ।
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, এখনো শ্রমিকরা তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য আন্দোলন করে। সময়মতো বেতন-বোনাসের দাবিতে এখনো শ্রমিকরা রাস্তায় ব্যারিকেড দিয়ে আন্দোলন করে। কথায় কথায় সামান্য অপরাধে চাকরি হারানোর ভয়ে এখনো শ্রমিকরা ভয়ে তটস্থ থাকে। আট ঘণ্টার অতিরিক্ত কাজের মূল্য আদায়ের জন্য এখনো শ্রমিকদের আবেদন করতে হয়। শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়নি বলেই তো রানা প্লাজা ধ্বংসের তিন বছর পেরিয়ে গেলেও সেই দুর্ঘটনায় হতাহত সব শ্রমিক এখনো তাদের ন্যায্য ক্ষতিপূরণ পায়নি। একইভাবে তাজরীন গার্মেন্টে অগ্নিকান্ডে নিহত শ্রমিকের উত্তরাধিকারীরা এখনো যথাযথ ক্ষতিপূরণ পায়নি। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে ববকেন, অধিকাংশ কলকারখানায় সুনির্দিষ্ট কোনো চাকরির বিধিমালা নেই। অসুস্থ এবং বিপদকালীন সময়ে সুযোগ-সুবিধার কোনো নিশ্চয়তা নেই। এমনকি অবসর ভাতাও নেই। অসুস্থ হলে চিকিৎসার কোনো গ্যারান্টি নেই। কাজ করতে গিয়ে অঙ্গহানি হলে অথবা দুর্ঘটনায় মারা গেলে সে ক্ষেত্রে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ পাওয়ার কোনো নিশ্চয়তা নেই।
তিনি আরো বলেন, গার্মেন্টস শিল্পকে রক্ষা করতে হলে সরকারের প্রথমেই উচিত হবে দেশের ট্রেড ইউনিয়ন রাজনীতিতে একটা আমূল পরিবর্তন নিয়ে আসা। দুর্ভাগ্য হলেও সত্য যে, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় থাকাকালীন এ ব্যাপারে তেমন কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। অথচ মালিক কর্তৃক শ্রমিক শোষণ বন্ধ করতে হলে প্রয়োজন একটি শক্তিশালী ট্রেড ইউনিয়ন। প্রয়োজন শ্রম আইনের সংস্কার, প্রয়োজন রাজনৈতিক দলমুক্ত ট্রেড ইউনিয়ন। গুরুত্বপূর্ণ এই তিনটি বিষয় নিয়ে সরকারে দলীয় স্বার্থ এখানে সরাসরি জড়িত বলেই হয়তো গুরুত্বপূর্ণ এই বিষয়টিকে তারা এড়িয়ে যেতে চায়। অথচ এ ধরনের পরিবর্তন আনলে শ্রমিক-মালিক এবং দেশের শিল্প ক্ষেত্রে একটা যুগান্তকারী পরিবর্তন আসবে।
বাংলাদেশের পোশাক শিল্পে বেশ কয়েকটি দুর্ঘটনা ঘটে গেছে। তাই দেশে-বিদেশে শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। বৈঠকে তিনি সরকারে প্রতি পোশাক শ্রমিকদের সর্বনিম্ন বেতন ষোল হাজার টাকা নির্ধারণ করারও জোর দাবি জানান। প্রেস বিজ্ঞপ্তি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ