ঢাকা, মঙ্গলবার 17 April 2018, ৪ বৈশাখ ১৪২৫, ২৯ রজব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

রংপুরে গুলফ্যাক্টরীর বিষাক্ত ধুলায় হাজারও মানুষ শ্বাসকষ্টে ভুগছে

রংপুর অফিস: গুল ফ্যাক্টরীর তামাক পাতার বিষাক্ত ধুলায় রংপুর সদর উপজেলার  উত্তম উত্তর পাড়া এলাকার ৩ শতাধিক পরিবার দীর্ঘদিন ধরে মরণ যন্ত্রনার শ্বাসকষ্ট জনিত রোগে ধুঁকে ধুঁকে দিনাতিপাত করে হাজারও মানুেষর জীবন হুমকির মুখে পড়েছে।
প্রকাশ, রংপুর নগরীর উত্তম উত্তর পাড়া এলাকায় প্রায় দুই যুগ আগে অপরিকল্পিত ভাবে কয়েকটি গুল ফ্যাক্টরী গড়ে উঠেছে। ঐ এলাকায় ৩ শতাধিক পরিবারের হাজার খানেক মানুষের বসতি রয়েছে। গুল তৈরীর তামাক পাতা ভাজার গন্ধ এবং এর বিষাক্ত ধুলার কারনে দুই যুগেরও বেশ সময় ধরে এলাকাবাসী শ্বাসকষ্ট জনিত রোগে নিদারুন দূর্ভোগ লালন করে আসছেন। এসব ফ্যাক্টরীতে গুল তৈরীর জন্য দিন-রাত তামাক পাতা ভাজা হয় ।
তামাকপাতা ভাজার গন্ধে পুরো এলাকার পরিবার গুলোর জনে জনে কাশি লেগেই আছে। এর বিরূপ প্রভাবে ঐ এলাকার শিক্ষার্থীরা ঠিকমত তাদের পড়ার টেবিলে বসতেও পারে না। দিন দিন এ গন্ধ আরো বাড়ে তীব্র যন্ত্রনার সৃষ্টি করছে। এতে করে  সেখানে বসবসাস করা তাদের জন্য দূরহ হয়ে পড়েছে। এলাকার গৃহবধু নাসিমা বেগম জানালেন, তার বাড়ির পাশেই রয়েছে গুল ফ্যাক্টরী। এসব ফ্যাক্টরীর তামাক ভাজার বিষাক্ত ধুলা  বের হওয়ার কোন চিমনি বা অন্য কোন পদ্ধতি নেই। যে কারনে এ বিষাক্ত ধুলা সরাসরি বাতাসে মিশে মানুষের শরীরে ঢুকে যাচ্ছে। বয়সের ভারে ন্যুব্জ হয়ে পড়েছেন বাবলা মিয়া (৭২)। তামাকের বিষাক্ত ধুলার গন্ধের কারনে তাঁর শ্বাষকষ্ট বেড়েছে। তিনি জানান, আগে ভালোই ছিলেন। এখন প্রায় সময়ই তাঁকে  রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। গুল ফ্যাক্টরী চালু হওয়ার পর থেকেই তাঁর  নিজের এবং স্ত্রী সমিরনের এ রোগ ধরেছে। স্থানীয় ব্যবসায়ী কবির হোসেন জানান, গুল ফ্যাক্টরীর র্পাশবর্তি শতাধিক দোকান ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এসব ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে সব সময় নাকে রুমাল কিংবা মুখোশ পড়ে থাকতে হয়। গুলফ্যাক্টরীর বিষাক্ত ধুলার কারনে তারা নাকাল হয়ে পড়ছেন। নাসিমা, বাবলা এবং কবিরের মত  এলাকাবাসী গিুলের বিষাক্ত ধুলার অভিশাপ থেকে বাঁচার আকুতি জানিয়ে এর প্রতিকার চেয়েছেন প্রশাসনের কাছে।
চিকিৎসকদের মতে- গুলের বিষাক্ত ধুলার কারনে ঐ এলাকার মানুষের শ্বাসকষ্ট সহ বিভিন্ন জটিল রোগ সৃষ্টি হচ্ছে। পরিবেশ অধিদপ্তর  রংপুরের ভারপ্রাপ্ত উপ পরিচালক বাবুল আলম জানান, এব্যাপারে এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে একটি অভিযোগ পাওয়া গেছে, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নাসিমা জামান ববি বিষয়টি জেলা সমন্বয় কমিটির সভায় উথ্বাপন করে আলোচনা করবেন বলে জানান।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ