ঢাকা, মঙ্গলবার 17 April 2018, ৪ বৈশাখ ১৪২৫, ২৯ রজব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

নদ-নদী বিধৌত কুড়িগ্রাম জেলার চরাঞ্চলে বিভিন্ন ফসলের ভাল ফলন

কুড়িগ্রাম : স্থানীয় ধরলা নদীর বুক চিরে জেগে উঠা সুবিশাল চরে আখ খেতের মাঝে বেগুনসহ বিভিন্ন ফসল শোভা পাচ্ছে

মোস্তাফিজুর রহমান কুড়িগ্রাম থেকে: কুড়িগ্রাম জেলার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে করালগ্রাসি ১৬টি নদ-নদী  ব্রহ্মপুত্র, ধরলা, তিস্তা ও দুধকুমর সহ  বিভিন্ন নদ- নদীর বুকে জেগে ওঠা ২২ হাজার হেক্টর চরে পলি জমায় ফসলের ফলন হয়েছে ভাল। ফসলের মাঠ দেখে আনন্দিত চরাঞ্চলের কৃষক। চলতি মৌসুমে উজানে কুড়িগ্রাম সদরের হলোখানা সহ  ভুরুঙ্গামারী , নাগেশ্বরী, উলিপুর উপজেলার সাহেবের আলগা থেকে ভাটিতে রৌমারি ও রাজিবপুর উপজেলার মোহনগঞ্জ পর্যন্ত বিস্তীর্ণ এসব চরে একই জমিতে এবার চাষ হয়েছে আখ খেতের ভিতর বেগুন ও অন্যান্য ফসলসহ কালাই, কাঁচা মরিচ, ধনিয়া, গুয়েমুড়ি, ভূট্টা, চিনা বাদামসহ ৬টি অর্থকরি ফসল। পলি পড়া চরের জমিতে ভুট্টা, বাদাম, তিল, চিনা, কাউনধনিয়া, বোরো ধান, আখ, গুয়েমুড়ি, পেঁয়াজ, গমসহ নানা ধরনের রবি ফসল ফলনের জন্য খুবই উপযোগী। গত বর্ষা মৌসুমে এই চর গুলোতে অথৈ পানিতে ডুবেছিল। ব্রহ্মপুত্র ও ধরলা নদ-নদীর চরে এখন দেখা যাচ্ছে চোখ ধাঁধানো বর্ণিল সবুজ ফসল। নদী ভাঙ্গনে ক্ষতিগ্রস্তরা ক্ষতি পুষিয়ে নিতে মৌসুমের শুরুতে কোমর বেধে চরের জমিতে নিরলস ভাবে শ্রম দিচ্ছেন। এখানকার উৎপাদিত ফসল ভাঙ্গন কবলিত মানুষের শক্তি ও সাহস যুগিয়েছে। তারা ক্ষুধা ও দরিদ্র থেকে মুক্তি এবং সচ্ছলতা ফিরিয়ে আনতে জেগে ওঠো চরে কোমর বেঁধে নেমেছে। খেরুয়ার চরের কৃষক এমদাদুল বলেন, ব্রহ্মপুত্র নদ আমার সব ভাসিয়ে নিয়ে গেছে। বন্যায় এক চর ভাঙ্গলেও আমাগো অন্য চরে জেগেছে। নতুন চরে ফসল ভালো হয়েছে। আশা করছি এবারের ফসল দিয়ে বন্যার ক্ষতি পুষিয়ে নিতো পারবো। কোদালকাটি চরের আলম  বলেন, আমি ১০ বিঘা জমিতে সবজি, চিনা বাদাম ধান, গম, ডাল, , রসুন, গুয়েমুড়ি, পেঁয়াজ, তিল, ধনিয়া চাষ করেছি। পলি পড়া জমিতে সব আবাদেই ভালো। হইছে। কুড়িগ্রাম জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত উপ-পরিচালক মোঃ আব্দুর রশিদ বলেন- চরের আবাদযোগ্য জমিতে কলাই, ভুট্টা, মসলা ধান, সবজিসহ নানা রবি ফসল চাষাবাদ করেছে কৃষকরা। চরের এই জমি গুলোতে কৃষকের বেশি অর্থ খরচ করতে হয় না। স্বল্প খরচে ফসল ফলিয়ে বেশি লাভবান হচ্ছে কৃষক।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ