ঢাকা, মঙ্গলবার 17 April 2018, ৪ বৈশাখ ১৪২৫, ২৯ রজব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

বেলকুচিতে ফজর আলী লুংগীর মালিক শতাধিক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ৩০ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে উধাও

বেলকুচি (সিরাজগঞ্জ) সংবাদদাতা: সিরাজগঞ্জের বেলকুচি উপজেলায় গত ৩মাস আগে স্থানীয় শতাধিক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে সুতা ও লুঙ্গী দেবার কথা বলে ফজর আলী লুঙ্গীর মালিক স্থানীয় ব্যবসায়ীদের কাছ প্রায় ৩০ কোটি টাকা আত্মসাৎ করার ঘটনায় এবার মুখ খুললেন ফজর আলী লুঙ্গী কোম্পানির ম্যানেজার আল মামুন মুসল্লী। তিনি বুধবার বিকালে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, প্রায় ৩০ কোটি টাকা আমার মালিক ফজর আলীর কথায় আমি ব্যবসাযীদের কাছ থেকে নিয়ে তাকে দেই। কিন্ত বেশ কয়দিন পার হলেও সুতা ও লুঙ্গী না পাঠালে আমি তার সাথে যোগাযোগ করলেও তিনি আমাকে কোন সাড়া দেন না। পরে আমি ঢাকায় তার অফিসে গিয়ে এ বিষয়ে কথা বলতেই তিনি তার লোকজন দিয়ে আমাকে আটকে রাখে। সেখানে আমার উপর অমানবিক অত্যাচার করা হয়। এক পর্যায়ে আমার পরিবারের লোকজন সেখানে গেলে আমার বউ ও সন্তানকে আটকে রাখে।  প্রায় তিন দিন  আটকে রেখে তাদের ছেড়ে দেয় আর বলে এই ঘটনা কাউকে বললে আমাকে মেরে ফেলবে। আমি প্রায় ১মাস সেখানে বন্দি থাকার পর সেখান থেকে পালিয়ে আসি। পরে সিরাজগঞ্জ থেকে পিআইবির একটি টিম আমাকে টাঙ্গাইল থেকে উদ্ধার করে সিরাজগঞ্জে নিয়ে আসে। ফজর আলী লুঙ্গীর মালিক আমাকে ব্যাবহার করে এই টাকা আত্মসাৎ করেছে। এতে আমার কোন দোষ নেই। বুধবার রাতে শহরের এস এস রোডস্থ এক অফিস কার্যলয়ে তিনি সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন।
এদিকে সিরাজগঞ্জ জেলাধীন বেলকুচি, এনায়েতপুর ও শাহাজাদপুর থানার বিভিন্ন সুতা ও কাপড় ব্যবসায়ীদের নিকট থেকে নারায়নগঞ্জ জেলার ফতুল্লা থানার হাজী ফজর আলী লুঙ্গী ও ফজর আলী সুতার স্বত্বাধিকারী ও সিরাজগঞ্জের বেলকুচি এলাকার ম্যানেজার আল মামুন মুসল্লী ফজর আলী সুতা দেয়ার কথা বলে বিভিন্ন সুতা ও কাপড় ব্যবসায়ীদের নিকট থেকে নগদ এবং চেকের মাধ্যমে প্রায় ৩০ কোটি টাকা তারা আত্বসাৎ করে নিয়ে যায় বলে এর আগে এলাকার ব্যবসায়ীরা আরেকটি সংবাদ সম্মেলন করেছিল গত মার্চ মাসে। এছাড়া আল মামুনের শ্বশুর শাহাবুদ্দিন প্রামানিক বাদী হয়ে সিরাজগঞ্জ আমলী আদালতে ৪জনকে আসামী করে মামলা করেছে। এব্যপারে বেলকুচি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাজ্জাদ হোসেন বলেন, আদালতের মাধ্যমে একটি মামলা থানায় এসেছে। তদন্ত সাপেক্ষে ব্যাবস্থা নেয়া হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ