ঢাকা, মঙ্গলবার 17 April 2018, ৪ বৈশাখ ১৪২৫, ২৯ রজব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

অসহায় এক যুবকের উপর অমানবিক নির্যাতন

মো: জাকির হোসেন, সৈয়দপুর (নীলফামার): নীলফামারীর সৈয়দপুরে এক প্রভাবশালীর পক্ষ অবলম্বন করে পুলিশ এক অসহায় বিধবার পুত্রকে ধরে এনে বেধড়ক মারধর ও মিথ্যে মামলায় ফাঁসানোর অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি ঘটেছে ৫ এপ্রিল উপজেলার বাঙ্গালীপুর ইউনিয়নের পল্লী এলাকা বাড়াইশাল শেখপাড়া গ্রামে।
এলাকাবাসী অভিযোগ, ওই গ্রামের প্রভাবশালী আজাহারের সাথে পৈত্রিক সম্পত্তি নিয়ে মা-ভাই-ভাতিজাদের বিরোধ চলে আসছে। সম্প্রতি তাদের একটি পৈত্রিক সম্পতি ডালিয়া ক্যানেলের অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃক অধিগ্রহনের অর্থ এককভাবে আজাহার পকেটস্থ করার চেষ্টা করে। এতে বাধ সাধে তার ওয়ারিশগণ। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে আজাহার তাদের বিরুদ্ধে একের পর এক মামলা দিয়ে হয়রানী করাসহ নানা ভয়ভীতি প্রদর্শন করে আসছে। এমতাবস্থায় ঘটনার দিন ক্যানেলের অন্তর্ভূক্ত জমি থেকে মাটি কেটে বিক্রি করার চেষ্টা করে আজাহার। এতে বাধা দেয় তার বড় ভাই মৃত. হবিবার রহমানের ছেলে আব্দুস সালাম। এতে উভয়ের মধ্যে বাক-বিতন্ডার সৃষ্টি হয়। তাৎক্ষনিক এলকাবাসী ঘটনাস্থলে গিয়ে বিষয়টি সাময়িকভাবে থামিয়ে দেয়। কিন্তু তার কিছুক্ষণ পরই আব্দুল সালাম ও তার ফুফাতো ভাই নয়ন গ্রামের পাশর্^বর্তী চৌমহনী বাজারে মোটর সাইকেল যোগে যাওয়ার পথে রাস্তায় ওৎপেতে থাকা আজাহার, তার স্ত্রী জাহানার, মেয়ে লাবনী, জামাতা হেলাল ও শ্যালক আফতাবসহ ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসী নিয়ে অতর্কিত লোহার রড, দা-বটি, শাবল ও বাঁশ নিয়ে আক্রমন করে তাদের উপর। এসময় আজাহার হাতের রড দিয়ে নয়নের উপর প্রচন্ড আঘাত করে। ঘটনাস্থলে উপস্থিত এলাকার ওয়ার্ড মেম্বার রফিকুল ইসলাম এতে বাধা দেয়ায় তা নয়নের মাথায় না লেগে বা হাতে লাগে। আঘাতপ্রাপ্ত নয়ন আর্তচিৎকার করে মাটিতে পড়ে গেলে অজ্ঞান অবস্থায় এলাকাবাসী উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়ার পথে সৈয়দপুর থানার এসআই আব্দুল হাকিমের নেতৃত্বে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে ঘটনার আদ্যপান্ত কোন কিছুই না শুনে আব্দুল সালামকে আটক করে। এতে উপস্থিত তার স্ত্রী ও এলাকাবাসী সালামকে আটকের কারণ জানতে চাইলে পুলিশ অকথ্য ভাষায় গালাগালি করে এবং সালামকে তাদের সামণেই বেধড়ক মারপিট করে থানায় নিয়ে যায়। এ ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশের বিরুদ্ধে অর্থের বিনিময়ে প্রতিপক্ষ প্রভাবশালী আজাহারের পক্ষ অবলম্বনের অভিযোগ করেন এলাকাবাসী।
তারা আরও বলেন, আজাহার এলাকায় অর্থশালী হওয়ায় ওয়ারিশদের বঞ্চিত করে পৈত্রিক সম্পত্তি কুক্ষিগত করাসহ এলাকার অনেকের বিরুদ্ধে নানা অজুহাতে মামলা করাসহ নানাভাবে হয়রানী করে চলেছে। এমনকি একজন ভিক্ষুকও তার প্রতিহিংসার হাত থেকে রেহাই পায়নি।
এলাকার ওয়ার্ড মেম্বার অজিত চন্দ্র রায় বলেন, আজাহার একজন মাদকসেবী ও সন্ত্রাসী টাইপের লোক। সে কথায় কথায় এলাকার লোকজনের বিরুদ্ধে মামলা করে। কিছুদিন পূর্বে আজাহারের ওয়ারিশদের সাথে বিরোধপূর্ণ ক্যানেলের ভিতরের জমি থেকে মাটি কাটা নিয়ে আমারও সমস্যা হয়েছিল। সে পানি উন্নয়ন বোর্ডের মাটি কেটে অবৈধভাবে বিক্রি করছিল। তাতে বাধা দেয়ায় আজাহার, তার স্ত্রী, কন্যা, শ্যালকসহ ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসীরা আমার লোকদের উপরও হামলা চালিয়েছিল।
বাঙ্গালীপুর ইউপি চেয়ারম্যান শ্রী প্রনবেশ চন্দ্র বাগচী জানান, আজাহারের অত্যাচারে এলাকাবাসী অতিষ্ট হয়ে পড়েছে। তার অন্যায়ের প্রতিবাদ করলেই সে মিথ্যা মামলা দিয়ে নিরিহ মানুষদের হয়রানী করার অভিযোগ রয়েছে।
এ ব্যাপারে সৈয়দপুর থানার এসআই আব্দুল হাকিম জানান, ওসির নির্দেশে আমরা ঘটনাস্থলে পৌছে আব্দুস সালামকে আটক করেছি। কাউকে গালাগালি করা বা মারডাং করা হয়নি। আটকের বিষয়ে কোন মামলা আছে কিনা তা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ওসি সাহেবই ভালো জানেন।
সৈয়দপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহজাহান পাশা জানান, মারামারির সময় সালামকে আটক করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ এখনও পায়নি। লিখিত অভিযোগ পেলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ