ঢাকা, বৃহস্পতিবার 19 July 2018, ৪ শ্রাবণ ১৪২৫, ৫ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

যৌন সহিংসতা রোধে নিরাপত্তা পরিষদের প্রতি আহ্বান বাংলাদেশের

সংগ্রাম অনলাইন ডেস্ক: সংঘাতময় পরিস্থিতিতে যৌন সহিংসতা প্রতিরোধে নিরাপত্তা পরিষদকেই দায়িত্ব নেয়ার আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের উপ-স্থায়ী প্রতিনিধি তারেক মো. আরিফুল ইসলাম।

তিনি বলেছেন, 'সংঘাতময় পরিস্থিতিতে যৌন সহিংসতা প্রতিরোধে যদি সংশ্লিষ্ট দেশ এগিয়ে না আসে তবে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় বিশেষ করে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদকেই দায়িত্ব নিতে হবে।'

সোমবার নিরাপত্তা পরিষদে 'নারীর ক্ষমতায়ন, লিঙ্গ সমতা ও ন্যায়বিচার পাওয়ার মাধ্যমে সংঘাতময় পরিস্থিতিতে যৌন সহিংসতা প্রতিরোধবিষয়ক এক উন্মুক্ত বিতর্কে অংশ নিয়ে আন্তর্জাতক সম্প্রদায়ের প্রতি তিনি এ আহ্বান জানান।

চলতি এপ্রিল মাসের নিরাপত্তা পরিষদের সভাপতি পেরু এই উন্মুক্ত বিতর্কের আয়োজন করে। অনুষ্ঠানটিতে নিরাপত্তা পরিষদের ১৫টি সদস্য দেশসহ প্রায় ৭০টি দেশের প্রতিনিধিগণ বক্তব্য রাখেন।

'সংঘাতময় পরিস্থিতিতে যৌন সহিংসতা' বিষয়ক এ আলোচনায় আরো বক্তব্য রাখেন জাতিসংঘ মহাসচিবের বিশেষ প্রতিনিধি মিজ্ প্রমিলা প্যাটেন এবং 'নারী, শান্তি ও নিরাপত্তা' বিষয়ক এনজিও ওয়ার্কিং গ্রুপের পক্ষে রোহিঙ্গা প্রতিনিধি মিজ্ রাজিয়া সুলতানা।

মিজ্ সুলতানা জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমারের নারী ও মেয়েদের চ্যালেঞ্জ এবং সুরক্ষার প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি তার বক্তব্যে তুলে ধরেন।

আলোচনায় রোহিঙ্গা প্রতিনিধি মিজ্ রাজিয়া সুলতানাকে বক্তব্য প্রদানের সুযোগ দেয়ার বিষয়টি উল্লেখ করে বাংলাদেশের উপ-স্থায়ী প্রতিনিধি তারেক মো. আরিফুল ইসলাম বলেন, 'আমরা ২০১৭ সালের অক্টোবর মাসে 'নারী শান্তি ও নিরাপত্তা' বিষয়ক উন্মুক্ত বিতর্কে অংশে নিয়ে এই পরিষদে রোহিঙ্গা নারী ও মেয়েদের কথা বলার সুযোগ দানের বিষয়টি তুলে ধরেছিলাম। আজ আবারো একথা বলার সুযোগ করে দেয়ার জন্য আমি জাতিসংঘ মহাসচিবের বিশেষ প্রতিনিধি মিজ্ প্রমিলা প্যাটেনকে ধন্যবাদ জানাই।'

তিনি তার বক্তব্যে বাংলাদেশে আশ্রয় গ্রহণকারী যৌন সহিংসতার শিকার বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা নারীদের যাদের একটি বড় অংশ গর্ভবতী তাদের কথা এবং প্রজনন স্বাস্থ্যসহ অনান্য শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যগত বিষয়ের প্রতি বিশেষ গুরুত্ব প্রদানের কথা উল্লেখ করেন।

বাংলাদেশের প্রতিনিধি বলেন, অতিরিক্ত সুরক্ষার বিষয়টি নিশ্চিত না হলে এ জাতীয় ঘৃণিত ঘটনা বন্ধ হবে না। মর্যাদাসহ নিরাপদে ও নিরাপত্তার সাথে নিজ ভূমিতে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর প্রত্যাবর্তন কোনো আশার আলো দেখবে না।

সংঘাত সংশ্লিষ্ট যৌন সহিংসতার উপর মহাসচিবের প্রতিবেদনের সুপারিশমালাকে ভিত্তি ধরে আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তার প্রতি হুমকি সৃষ্টিকারী 'সংঘাতময় পরিস্থিতিতে যৌন সহিংসতা'র বিষয়ে সুদৃঢ় পদক্ষেপ নিতে নিরাপত্তা পরিষদের প্রতি আহ্বান জানান বাংলাদেশের প্রতিনিধি।সূত্র: ইউএনবি

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ