ঢাকা, বুধবার 18 April 2018, ৫ বৈশাখ ১৪২৫, ১ শাবান ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

ফেঁসে যেতে পারেন সু চি

১৭ এপ্রিল, রয়টার্স : রোহিঙ্গাদের দেশ ছাড়তে বাধ্য করায় মিয়ানমারের বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ নেয়ার এখতিয়ার চেয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে (আইসিসি) করা আবেদনে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে মায়ানমার। প্রসিকিউটর বানসুদা আইসিসির রুল চেয়ে এই আবেদন করেছেন। এতে যুদ্ধাপরাধ অভিযোগে সুচি ফেঁসে যেতে পারেন বলে ধারনা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

মায়ানমারের রাষ্ট্রীয় কাউন্সিলরের কার্যালয় থেকে দেয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, মায়ানমার আইসিসি সনদে স্বাক্ষরকারী দেশ নয়। সনদের কোথাও বলা নেই স্বাক্ষর করেনি এমন কোনো দেশের ওপর আইসিসির এখতিয়ার রয়েছে। জাতিসঙ্ঘের ১৯৬৯ সালের ভিয়েনা সনদে বলা হয়েছে অনুস্বাক্ষর করেনি এমন কোনো দেশের ওপর আন্তর্জাতিক চুক্তি চাপিয়ে দেয়া যাবে না। সনদের অংশীদার নয় এমন কোনো পক্ষের ওপর এখতিয়ার সম্প্রসারণ করা হলে তা অন্যান্য দেশের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

বিবৃতিতে বলা হয়, মায়ানমার কাউকেই দেশ ছাড়তে বাধ্য করেনি। বাস্তুচ্যুত মানুষদের নিজ ঘরে ফিরিয়ে আনতে বাংলাদেশের সাথে মায়ানমার কাজ করে যাচ্ছে। এ ব্যাপারে বাংলাদেশের সাথে বেশ কয়েকটি চুক্তি সই হয়েছে। প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া এগিয়ে চলছে। মায়ানমারের সমাজকল্যাণ, ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রী বাংলাদেশ সফর করে বাস্তুচ্যুত মানুষদের সাথে কথা বলেছেন। তিনি প্রত্যাবাসনের ক্ষেত্রে মায়ানমারের প্রস্তুতির কথা জানিয়েছেন।

মায়ানমারের রাষ্ট্রীয় উপদেষ্টা ও দেশটির ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল ন্যাশনাল লীগ ফর ডেমোক্রেসির (এনএলডি) নেত্রী অং সান সুচি যে কোনো মুহূর্তে অবসরে যেতে পারেন বলে গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছে। দলটির কার্য নির্বাহী কমিটির এক বৈঠকে সুচি সম্ভব হলে নিজেকে সরিয়ে নিতে চান বলে জানানোর পর এ গুঞ্জন আরো জোরালো হয়েছে।

রবিবার এনএলডি’র এক মুখপাত্র সু চির পদত্যাগের গুঞ্জন যদিও উড়িয়ে দিয়েছেন। মুখপাত্র ইউ মিও নিউন্ত বলেছেন, ‘খবর বেরিয়েছে যে অং সান সু চি অবসরে যাবেন। আমি বললাম, না। তবে দলের কর্মীরা যদি কঠোর পরিশ্রম করেন, তবেই তিনি অবসরে যাবেন। এটা তিনি (সু চি) সব সময়ই বলেন। কিন্তু তার মানে এই নয় যে, তিনি শিগগিরই অবসরে যাবেন।’

শনিবার এনএলডি’র কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির বৈঠকে সু চি বলেন, সম্ভব হলে তিনি পদত্যাগ করতে চান।

এর আগে শনিবার দেশটির ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল এনএলডি’র কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির (সিইসি) সদস্যদের এক বৈঠকে সু চি বলেন, সম্ভব হলে তিনি পদত্যাগ করতে চান। এনএলডি প্রধান সু চির এ মন্তব্যের পর দেশটির গণমাধ্যমে তার পদত্যাগের ব্যাপারে খবর প্রকাশিত হয়।

এনএলডি’র মুখপাত্র ইউ মিও নিউন্ত শনিবারের ওই বৈঠকের ব্যাপারে বলেন, ‘নেইপিদোতে যে বৈঠক হয়েছে সেটি ছিল শুধুমাত্র সামাজিক সমাবেশ। বৈঠকে রাজনৈতিক কোনো বিষয়ে আলোচনা হয়নি।’

তিনি বলেন, ‘এটি ছিল অনিয়মিত একটি আলোচনা। সিইসির সদস্যদের সঙ্গে দীর্ঘসময় ধরে এ বৈঠক হয়েছে। প্রেসিডেন্ট পদত্যাগ করায় ভাইস প্রেসিডেন্ট ইউ উইন মিন্ত দেশের শীর্ষ এ পদের দায়িত্ব পালন করছেন। আমরা কার্যনির্বাহী কমিটির পুরনো এবং নতুন সদস্যদের সঙ্গে সামাজিক আড্ডা দিয়েছি।’

এনএলডির এই মুখপাত্র বলেন, ২০০৮ সালে মায়ানমারের সেনাবাহিনী দেশটির সংবিধানে সংশোধনী আনে। এতে সরকারি কর্মকর্তারা দলীয় রাজনীতিতে অংশ নিতে পারবেন না বলে বিধান করা হয়। যে কারণে সামাজিক সমাবেশ অবৈধ নয়।

এনএলডির সংসদ সদস্য ইউ ন্যা মিও তুন বলেন, ‘ধৈর্য এবং প্রভাব বিবেচনায় অবশ্যই তিনি (সুচি) দেশের প্রধান থাকবেন। তার (বয়স এবং কাজের চাপ বিবেচনায়) প্রতি আমাদের সহানুভূতি নেই; বিষয়টি তেমন নয়। তিনি যতদিন বেঁচে থাকবেন ততদিন দেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন। আমি বিশ্বাস করি, তিনি এতে দ্বিমত করবেন না।’

দলটির এই সংসদ সদস্য বলেন, ‘তিনি বলেছেন তার বয়স বেড়েছে। কর্মীদের কঠোর পরিশ্রমে উৎসাহ দিতেই তিনি অবসরে যেতে চান বলে জানিয়েছেন।’

গত সপ্তাহে অস্ট্রেলিয়া সফর করেন মায়ানমারের এ নেত্রী। সেখানে একটি অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেয়ার সময় পরিশ্রান্ত-ক্লান্ত দেখা যায় ৭৩ বছর বয়সী সু চিকে।

এনএলডির কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য ইউ উইন হতেইন সু চির সঙ্গে অস্ট্রেলিয়া সফর করেছেন। ইউ উইন হতেইন বলেন, অস্ট্রেলিয়ায় অধিকাংশ সময়ই বিছানায় কাটিয়েছেন সু চি।

এনএলডির কার্যনির্বাহী কমিটির এ সদস্য বলেন, দীর্ঘ বিমান ভ্রমণের কারণে অসুস্থ হয়ে পড়েন সু চি। এসময় তার সঙ্গে কথা বলা থেকেও বিরত থাকা হয়। অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তার সাক্ষাৎ ও একটি বৈঠকে বক্তৃতা দেয়ার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত তা বাতিল করা হয়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ