ঢাকা, বুধবার 18 April 2018, ৫ বৈশাখ ১৪২৫, ১ শাবান ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

জম্মু কাশ্মীরে আসিফা হত্যা মামলায় মুফতি সরকারের অবস্থান জানতে চেয়েছে আদালত

১৭ এপ্রিল, আনন্দবাজার : জম্মু কাশ্মীরের কাঠুয়ায় ধর্ষণ ও খুনের মামলা স্থানান্তরিত করার আবেদন নিয়ে মেহবুবা মুফতি সরকারের অবস্থান ২৭ এপ্রিলের মধ্যে জানতে চেয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। অন্যদিকে নাবালিকা ধর্ষণের মামলায় দ্রুত বিচার চেয়ে বিশেষ ফাস্ট ট্র্যাক আদালত গড়ার দাবিতে সরব হয়েছেন রাহুল গান্ধী। নরেন্দ্র মোদির উদ্দেশে রাহুল বার্তা দিয়েছেন, ‘প্রধানমন্ত্রী যদি আন্তরিক হন, তাহলে নাবালিকাদের ধর্ষণের মামলাগুলির দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য বিশেষ আদালত গঠন করুন।’

কাঠুয়া ও উন্নাওয়ের ধর্ষণের ঘটনার প্রতিবাদে রাহুল গান্ধীর মিছিলের পরে মুখ খুলতে বাধ্য হন নরেন্দ্র মোদি। মিছিলের পরের দিনই মোদি জানান, দেশের মেয়েরা বিচার পাবেই। তবে বিজেপির একটি অংশ যেভাবে অভিযুক্তদের পাশে দাঁড়াতে শুরু করেছে তাতে নিরপেক্ষ বিচার নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে বিভিন্ন শিবিরে। এই পরিস্থিতিতে রাহুল একটি টুইট করে বলেন, ‘২০১৬ সালে ১৯,৬৭৫ জন নাবালিকা ধর্ষণের শিকার হয়েছে। খুবই লজ্জাজনক ঘটনা। যদি আমাদের মেয়েদের সুবিচার দেওয়ার প্রশ্নে প্রধানমন্ত্রী আন্তরিক হন তাহলে নাবালিকা ধর্ষণ সংক্রান্ত মামলাগুলির জন্য ফাস্ট ট্র্যাক আদালত গঠন করে দ্রুত নিষ্পত্তি করুক সরকার।’

এই টানাপড়েনের মধ্যেই কাঠুয়া মামলা জম্মুর বাইরে চন্ডীগড়ে সরানো নিয়ে নির্যাতিতার বাবার আবেদন শুনানি হয়েছে সুপ্রিম কোর্টে। আইনজীবী ইন্দিরা জয়সিংহ জানান, রাজ্যে ওই ঘটনার প্রেক্ষিতে সাম্প্রদায়িক মেরুকরণ হয়েছে। তাই সবদিক বিচার করেই ওই মামলা সরানোর আবেদন জানানো হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে ২৭ এপ্রিলের মধ্যে জম্মু-কাশ্মীর সরকারের বক্তব্য জানতে চেয়েছে প্রধান বিচারপতি দীপক মিশ্রের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ। তবে এই মুহূর্তে তদন্ত সিবিআই করবে না রাজ্য পুলিশ তা নিয়ে কোনও নির্দেশ দিতে রাজি হয়নি শীর্ষ আদালত। বরং নির্যাতিতার পরিবার ও তাঁদের আইনজীবী দীপিকা রাজাবতের সুরক্ষার ব্যবস্থা করতে নির্দেশ দিয়েছে শীর্ষ আদালত।

বকরওয়াল জনজাতির আট বছরের ওই মেয়েটির ধর্ষণের মামলাটির বিচার আজ শুরু হয় কাঠুয়া আদালতে। কড়া নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেছিল মেহবুবা মুফতির সরকার। শুনানিতে আট অভিযুক্তের আইনজীবী অনুকা শর্মা জানান, তাঁর মক্কেলরা লাই-ডিটেক্টর টেস্টের জন্য তৈরি। বিচারক জানান, মামলার পরবর্তী শুনানি হবে ২৮ এপ্রিল।

অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে চার্জশিট পেশ করায় বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল জম্মুর আইনজীবীদের একাংশের বিরুদ্ধে। পরে একাধিক দাবিতে ধর্মঘট শুরু করেন কাঠুয়া ও জম্মুর বার অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যেরা। আজ অবশ্য বার কাউন্সিল অব ইন্ডিয়ার অনুরোধে কাজ শুরু করেন তাঁরা। এরই মধ্যে প্রায় নিঃশব্দে কাশ্মীর উপত্যকার দিকে রওনা দিয়েছে নির্যাতিতার পরিবার। পেশায় মেষপালক বকরওয়াল জনজাতির মানুষ গ্রীষ্মে থাকেন সেখানেই।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ