ঢাকা, বুধবার 18 April 2018, ৫ বৈশাখ ১৪২৫, ১ শাবান ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

চাতাল শ্রমিকরা দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতিতে ভুমিকা পালন করছে -অধ্যাপক হারুন অর রশিদ খান

বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক হারুন অর রশীদ খাঁন বলেছেন, বাংলাদেশের চাতাল শ্রমিকরা দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতিতে ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে। অথচ এই শ্রমিকরা নানা ভাবে অবহেলিত। চাতাল শ্রমিকরা ন্যায্য মজুরী পায়না। শ্রমিকদের চাকরির নিশ্চয়তা নেই, কর্মস্থলে নিরাপত্তা নেই, ওভার টাইম নেই। সর্বোপরি চাতাল শ্রমিকরা এক অসহায় জীবন যাপন করছে।
গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর একটি হলরুমে সারাদেশে চাতাল শ্রমিক নেতাদের সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। ফেডারেশনের অফিস সম্পাদক আবুল হাশেমের পরিচালনায়  অনুষ্ঠিত বৈঠকে বিশেষ অতিথি ছিলেন ঢাকা মহানগরীর শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন উত্তরের সভাপতি লস্কর মোঃ তসলিম, ফেডারেশন ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সভাপতি আব্দুস সালাম।
প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে বলেন, চাতাল শ্রম আইনের অন্তর্ভুক্ত একটি শিল্প। কিন্তু এ খাতে শ্রম আইনের একটি ধারাও মানা হয় না। চাতালের শ্রমিকেরা শ্রমিক হিসেবেই স্বীকৃত নন। এ খাতে সরকারেরও কোনো নজরদারি নেই। তিনি সরকারকে এই খাতে নজরদারি বাড়ানোর আহবান জানান।
তিনি দুঃখ করে বলেন, ২০০৬ সালের বাংলাদেশ শ্রম আইন এবং পরে সংশোধিত আইনটিতেও চাতালশিল্পের কথা গুরুত্বের সঙ্গে উল্লেখ করা হয়েছে। ১৯৮৪ সালে চাতালশ্রমিকদের জন্য ন্যূনতম মজুরি ঘোষণা করা হয় ৪৯৫ টাকা। এর পর আর মজুরি পুনঃনির্রধারণ করা হয়নি।
তিনি একটি পরিসংখ্যান তুলে ধরে বলেন, গত বছর এ খাতে বয়লার বিস্ফোরণসহ বিভিন্ন দুর্ঘটনায় মারা গেছেন ৭ জন পুরুষ শ্রমিক। আহত হন ২০ জন। এর মধ্যে একজন নারী। চাতালে ধান প্রক্রিয়াকরণের ধারা বহু বছরের। বেসরকারি হিসাবে, দেশে চাতাল আছে প্রায় ৪০ হাজার। এতে প্রায় পাঁচ লাখ শ্রমিক কাজ করছেন। এর মধ্যে ৬৫ শতাংশই নারী শ্রমিক। তবে সরকারি হিসাবে চাতালের সংখ্যা ১৬ হাজারের কিছু বেশি।
তিনি আরো বলেন,বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০০৬ অনুযায়ী, প্রাপ্তবয়স্ক শ্রমিক দৈনিক আট ঘণ্টার বেশি সময় কাজ করতে পারবেন না বা তাঁকে দিয়ে কাজ করানো যাবে না। ক্ষেত্রবিশেষে ১০ ঘণ্টা পর্যন্ত শ্রমিক কাজ করতে পারবেন। তবে চাতালের শ্রমিকদের কাজের নির্দিষ্ট কোনো সময় নেই। আইনে নারী শ্রমিকদের রাত ১০টা থেকে ভোর ছয়টা পর্যন্ত কাজ করানো নিষেধ থাকলেও চাতাল-কন্যাদের বেলায় তা মানা হচ্ছে না। নিয়োগপত্র না থাকায় চাতালের মালিক ইচ্ছা করলেই শ্রমিকদের কাজ থেকে বাদ দিতে পারেন।
তিনি মালিকদেরকে উদ্দেশ্য করে বলেন, চাতাল শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরী, চাকরির নিশ্চয়তা, নিরাপত্তা নিশ্চিত করাসহ এই খাতকে এগিয়ে নিতে ভুমিকা পালন করুন। প্রেস বিজ্ঞপ্তি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ