ঢাকা, বুধবার 18 April 2018, ৫ বৈশাখ ১৪২৫, ১ শাবান ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

রোহিঙ্গাদের জন্য নতুন হাসপাতাল খুলেছে ডক্টরস উইদাউট বর্ডার

সংগ্রাম ডেস্ক : কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের চিকিৎসার জন্য এ সপ্তাহে একটি হাসপাতাল চালু করেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ও চিকিৎসাসেবা সংস্থা ডক্টরস উইদাউট বর্ডার (এমএসএফ)। কুতুপালং ও বালুখালি রোহিঙ্গা ক্যাম্পের মধ্যবর্তী একটি পাহাড়েরও পরে স্থাপিত হাসপাতালটি ইতোমধ্যে ‘পাহাড়ী হাসপাতাল’ নামে পরিচিতি পেয়েছে। পাহাড়ের ওপরে হওয়ায় স্থানীয় সব স্থান থেকেই হাসপাতালটি সবাই খুঁজে বের করতে পারছে। সংস্থাটির ওয়েবসাইটে প্রকাশিত নিবন্ধ থেকে এসব তথ্য জানা যায়। বাংলা ট্রিবিউন।
গত ফেব্রুয়ারি মাসের শুরুতে হাসপাতালটির নির্মাণ কাজ শুরু হয়। দুই মাসের মধ্যে তা শেষ হয়। রোহিঙ্গাদের জন্য জরুরিভিত্তিতে সেবা দেওয়ার জন্য হাসপাতালটি স্থাপন করা হয়েছে।
২৫ সেপ্টেম্বর রাখাইনে সহিংসতার পর রোহিঙ্গাদের ওপর নিধনযজ্ঞ শুরু করে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। হত্যা ও ধর্ষণ থেকে বাঁচতে বাংলাদেশে পালিয়ে আসে ছয় লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা। জাতিসংঘ এই ঘটনাকে জাতিগত নিধনযজ্ঞের ‘পাঠ্যপুস্তকীয় উদাহরণ’ বলে উল্লেখ করেছে।বাংলাদেশে আগে থাকা কয়েক লাখ রোহিঙ্গা সঙ্গে যোগ দেয়।
বর্ষাকাল শুরু হলে রোহিঙ্গা শিবিরগুলোতে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা খুবই কঠিন হয়ে পড়বে। তাই এমএসএফ সেখানে অর্ধ-স্থায়ী অবকাঠামো নির্মাণের উদ্যোগ নেয়। এজন্য সিমেন্টের ভিতের ওপর ধাতব কাঠামোর ভবন নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেয়।
একশ রোগীর ধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন হাসপাতালটিতে একটি জরুরি কক্ষ, একটি আইসিইউ, একটি মেডিক্যাল ল্যাবরেটরি, শিশু ও বয়স্ক রোগীদের শয্যার ব্যবস্থা, নবজাতকদের চিকিৎসা সুবিধাসহ একটি মাতৃত্ব বিভাগ, সংক্রমক রোগীদের জন্য আলাদা ইউনিট ও ব্যাপক অপুষ্টির শিকার শিশুদের ভেষজ খাবারের জন্য আলাদা বিভাগ রয়েছে।
ডক্টরস উইদাউট বর্ডারের চিকিৎসকরা হাসপাতালটিতে রোহিঙ্গাদের মধ্যে অধিকমাত্রায় দেখা দেওয়া শ্বাসকষ্টজনিত ও ডায়রিয়াজনিত রোগের চিকিৎসা দেবেন। এছাড়া যৌন সহিংসতা ও ক্ষতজনিত আঘাতের শিকার ভুক্তভোগীদের জরুরিভিত্তিতে চিকিৎসা দিতে পারবে হাসপাতালটি। অপারেশনের প্রয়োজন এমন রোগীদের প্রথমে স্থিতিশীল অবস্থায় নিয়ে আসা হবে এবং পরে অপারেশনের সুবিধা সম্বলিত হাসপাতালে স্থানান্তর করা হবে। নতুন হাসপাতালটি পরিবার পরিকল্পনা ও পরামর্শ প্রদানসহ ব্যাপক পরিসরে সেবা প্রদান করবে।
কক্সবাজারে এমএসএফ’র সমন্বয়ক ফ্রান্সিসকো সেগোনি বলেন, আমরা ডায়বেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, দীর্ঘস্থাযী প্রতিরোধকারী পালমোনারি রোগসহ বিভিন্ন দূরারোগ্য রোগেরও চিকিৎসা করতে পারবো। দূরারোগ্য রোগে আক্রান্ত রোগীদের আনুষাঙ্গিক স্বাস্থ্য সুরক্ষা দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। তবে দরকার হলে তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হবে।
হাসপাতাল নির্মাণ ও চিকিৎসা দেওয়ার পাশাপাশি এমএসএফ দল কক্সবাজারের পানি ও স্যানিটেশন ব্যবস্থার উন্নয়নে কাজ করছে। তারা আরও টেকসই ল্যাট্রিন নির্মাণ ও নলকূপ স্থাপনের কাজ করে যাচ্ছে। এমনকি নতুন হাসপাতালে পানি সরবরাহের জন্য পাহাড়ের ওপর নলকূপ স্থাপনের জন্য তারা বোরহোল খনন করছে। প্রতিটি বোরহোলে ১৫০ মিটারের মতো খনন করে পরিষ্কার পানি উত্তোলনের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ