ঢাকা, বুধবার 18 April 2018, ৫ বৈশাখ ১৪২৫, ১ শাবান ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

বজ্রপাত নিয়ে দেশে গবেষণা নেই

জাফর ইকবাল : গত বেশ কয়েকবছর ধরেই দেশে বজ্রপাতে বহু মানুষ হতাহত হচ্ছে। একইসাথে প্রাণীও মারা যাচ্ছে। ঘটনার পর সরকারের পক্ষ থেকে নানা উদ্যোগের কথা বলা হয় থাকে। কিন্তু পরে বজ্রপাত মোকাবেলা ও পরবর্তী করণীয় নিয়ে আর কোনো আলোচনা হয় না। পৃথিবীর যেসব দেশ বজ্রপাতের ঘটনা ঘটছে তারা এ নিয় গবেষণা করছে। কেন এটা বৃদ্ধি পাচ্ছে, কিভাবে এই বিষয়ে জনসচেতনতা বাড়ানো যায় তা নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে। কিন্তু বজ্রপাত বেড়ে যাবার কারণ কী সেটি নিয়ে বাংলাদেশে বিস্তারিত কোন গবেষণা নেই। এতে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন বিশেষজ্ঞসহ দেশের সাধারণ মানুষ।
বজ্রপাতজনিত কারণে মৃত্যুর সংখ্যাও বাড়ছে প্রতিদিন। কিন্তু সেভাবে গবেষণা করা হচ্ছে না। গেল বছরও শতাধিক মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। আহত হয়েছেন অসংখ্য। চলতি বছরে প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। এপ্রিল থেকে জুন মাস পর্যন্ত সরকারের তরফ থেকে কিছু বার্তা দেয়া হয়। অথচ এর থেকে পরিত্রাণ বা কেন এগুলো হচ্ছে এনিয়ে ব্যাপক গবেষণার উদ্যোগ নেই। সম্প্রতি খবরে প্রকাশিত হয়েছে, সীমাহীন দুর্নীতি আর দুর্নীতির কারণে বাংলাদেশে সার্কের আবহাওয়া গবেষণা কেন্দ্রটিও (এসএমআরসি) চলছে জোড়াতালি দিয়ে। বছর দুয়েক আগেও সংস্থাটির পরিচালকের বিরুদ্ধে সীমাহীন দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়ায় পতিষ্ঠানটির কার্যক্রম বন্ধের পরিপত্র জারি করে সার্ক সচিবালয়।
কেন বাড়ছে বজ্রপাত? কেন বাড়ছে মৃত্যু? এ প্রশ্নে আবহাওয়াবিদরা বলছেন, বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি আর জলবায়ু পরিবর্তনের কারণেই বাড়ছে বজ্রপাত। তাপমাত্রা যত বাড়বে বজ্রপাত তত বাড়বে। তবে একটু সচেতন হলেই বজ্রপাত থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব। আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ শামীম হাসান ভূঁইয়া বলেন, প্রাকৃতিক কারণেই বজ্রপাত হয়। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে গত ৪০ বছরে বাংলাদেশের তাপমাত্রা শূন্য দশমিক ৭ ডিগ্রি বৃদ্ধি পেয়েছে। তাপমাত্রা এক ডিগ্রি সেলসিয়াস বৃদ্ধি পেলে ২০ শতাংশ বজ্রপাত বৃদ্ধি পায়। এ হিসাবে বজ্রপাত প্রায় ১৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। আবহাওয়াবিদ আবদুল মান্নান জানিয়েছেন, রেকর্ড অনুযায়ী ১৯৮১ সাল থেকে দেশে বজ্রপাতের সংখ্যা বাড়ছে। তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণেই এটা হচ্ছে। প্রতি বছরের এপ্রিল ও মে মাসের তাপমাত্রা স্বাভাবিক গড় তাপমাত্রার চেয়ে বেশি। এ কারণে এবার বজ্রপাতের সংখ্যাও বেশি।
শামীম হাসান ভূঁইয়া জানান, উচ্চ তাপমাত্রার কারণে বায়ুম-ল উত্তপ্ত হয়ে আছে। এ কারণে জলীয়বাষ্প যখন এর সংস্পর্শে আসছে বজ্রপাতও আগের তুলনায় বেশি হচ্ছে। তিনি জানান, বজ্রমেঘ বা সিভি ক্লাউডের কারণে বজ্রপাত হয়। যখন জলীয়বাষ্পসহ গরম বাতাস উপরের দিকে ওঠে, জড়তার ভ্রামকের কারণে এ মেঘ অনেক উপরে উঠে সুপারকুল ওয়াটার ড্রপলেস কণায় পরিণত হয়। মাধ্যাকর্ষণ শক্তির কারণে তা নিচে নামে। গরম বাতাসের সংস্পর্শে আবার জলীয়বাষ্পে পরিণত হয়ে উপরে উঠে যায়। এভাবে কয়েক দফায় ওঠানামা করে কণাগুলো। এতে কণাগুলো বৈদ্যুতিক চার্জসম্পন্ন আয়ন কণায় পরিণত হয়ে বিপুল শক্তির বিদ্যুৎ উৎপন্নম্ন করে। পরিভ্রমণকারী কণাগুলো নিষ্ক্রিয় (নিউট্রাল) হওয়ার চেষ্টা করে। ভূপৃষ্ঠের বিপুল পরিমাণ আয়ন ধারণের ক্ষমতা রয়েছে। তাই ভূপৃষ্ঠ কণাগুলোকে আকর্ষণ করে। এতে কণাগুলো আকাশ থেকে মাটির দিকে ধাবিত হয়। একেই বজ্রপাত বলে।
আবহাওয়াবিদরা জানান, বজ্র সরাসরি মাটিতে পড়ে না। বিদ্যুৎ পরিবাহীর ওপর পড়ে। এরপর পরিবহন পদ্ধতির মাধ্যমে বজ্রের বিদ্যুৎ মাটিতে চলে গিয়ে নিউট্রাল হয়ে যায়। উঁচু গাছ, ভবন, পাহাড়ের শীর্ষে বজ্র পতিত হয়। বাসাবাড়িতে লাগানো বজ্ররোধী তারের ওপর পড়ে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইলেক্ট্রিক্যাল অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চেয়ারম্যান ড. এইচ এম আসাদুল হক বলেন, মানুষের শরীর বিদ্যুৎ পরিবাহী। এ কারণে মানুষের ওপর বজ্র পড়ে। যদি কোনো খোলা স্থানে বজ্র পড়ার মতো কোনো বিদ্যুৎ পরিবাহী পদার্থ না থাকে আর সেখানে যদি মানুষ থাকে যার উচ্চতা অন্য বিদ্যুৎ পরিবাহীর চেয়ে বেশি তাহলে বজ্র মানুষের ওপর পড়বে। মোবাইল ফোন ব্যবহার বজ্রপাতের কারণ এমন একটি গুজব সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লেও ড. আসাদুল হক জানান, এর কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। তিনি বলেন, ধাতব বা বিদ্যুৎ পরিবাহীর ওপরই বজ্রপাত হয়। কিন্তু মোবাইল ধাতব পদার্থ দিয়ে বানানো হয় না। এর অভ্যন্তরে যেসব বিদ্যুৎ পরিবাহী তার থাকে সেগুলো বিদ্যুৎ কুপরিবাহী পদার্থ দিয়ে ঢাকা থাকে। তারপরও মোবাইলে যতটা ধাতব পদার্থ থাকে তাতে বজ্রপাতের কোনো কারণ নেই। বরং মোবাইল ফোনের টাওয়ারের কারণে বজ্রপাতে ক্ষয়ক্ষতির ঝুঁকি কমেছে। ড. আসাদুল হক বলেন, খোলা মাঠে মোবাইল ফোনের টাওয়ার থাকলে বজ্র সরাসরি টাওয়ারের ওপর পড়ে। টাওয়ারে বজ্রনিরোধক ব্যবস্থা থাকায় বিদ্যুৎ মাটিতে চলে যায়, ক্ষয়ক্ষতি না ঘটিয়ে। বজ্রপাতে নিহতদের অধিকাংশ আক্রান্ত হওয়ার সময় খোলা মাঠে ছিলেন কিংবা ক্ষেতে কাজ করছিলেন। এর কারণ সম্পর্কে আসাদুল হক বলেন, খোলা মাঠে কেউ যদি ধাতব কোনো বস্তু যেমন শাবল, কাস্তে বা ধান মাড়াইয়ে কলে কাজ করেন তাহলে বজ্রস্পৃষ্ট হতে পারেন।
বজ্রপাত থেকে বাঁচতে সতর্কতার বিকল্প নেই। শামীম হাসান বলেন, বজ্রপাত থেকে বাঁচতে হলে মে মাসে যখন আকাশে বিজলি চমকাবে তখন খোলা আকাশের নিচে থাকা যাবে না। বজ্রপাতের সময় বড় গাছের নিচে দাঁড়ানো উচিত নয়। ভেজা কাঠ বিদ্যুৎ পরিবাহী। বড় গাছ এড়িয়ে বৃত্তাকারে এর ৪০ ডিগ্রি দূরে দাঁড়ানো উচিত। ফাঁকা স্থানে থাকলে বজ্রপাতের সময় উবু হয়ে বসে যেতে হবে। নৌকায় বা পানিতে থাকলে শুকনো স্থানে চলে যেতে যাবে। গাড়ির চাকা বিদ্যুৎ কুপরিবাহী রাবারের তৈরি। সে কারণে গাড়ি নিরাপদ। বাসাবাড়িতে বজ্রনিরোধক তার সংযুক্ত করতে হবে নিরাপত্তার জন্য।
গত কয়েক বছরে সামান্য বৃষ্টিপাত বা ঝড়ো বাতাসেও ঘটছে বজ্রপাতের ঘটনা। বাতাসে সালফার ও নাইট্রোজেনের মাত্রা বৃদ্ধি পাওয়ায় বাড়ছে বজ্রপাতের ঘটনা। সেই সঙ্গে বাড়ছে মানুষ মৃত্যুর সংখ্যা। আগের যে কোনো সময়ের তুলনায় এ মৃত্যুর সংখ্যা অনেক বেশি। বাংলাদেশের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর বলছে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে  দেশটিতে বজ্রপাতে মানুষ মারা যাবার সংখ্যা আগের তুলনায় বেড়েছে। বজ্রপাতে মানুষ মারা যাবার সংখ্যা যেমন বাড়ছে তেমনি বজ্রপাতের প্রবণতাও বেড়েছে। বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ রুবাইয়াত কবির জানিয়েছেন দেশের কিছু জায়গা বজ্রপাত-প্রবণ। এর মধ্যে উত্তরাঞ্চল এবং উত্তর পশ্চিমাঞ্চল অন্যতম। গ্রীষ্মকালে এ অঞ্চলে তাপমাত্রা বেশি থাকায় এ পরিস্থিতির তৈরি হয় বলে জানান মি. কবির। তিনি বলেন, যেসব এলাকায় গ্রীষ্মকালে তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি থাকে সেসব এলাকায় যে মেঘের সৃষ্টি হয়, সেখান থেকেই বজ্রপাতের সম্ভাবনা থাকে।
আকাশে কালো মেঘের পরিমাণ বেড়ে যাওয়াকে দায়ী করছেন বিশেষজ্ঞরা। কালো মেঘ সৃষ্টির পেছনে বাতাসে নাইট্রোজেন ও সালফার গোত্রের গ্যাসের পরিমাণ বৃদ্ধিকে দায়ী করছেন তারা। একই সঙ্গে বিভিন্ন মোবাইল ফোন অপারেটর কোম্পানির টাওয়ারও বজ্রপাতের অস্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য দায়ী বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
পরিবেশ অধিদফতরের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, স্বাভাবিক বায়ুতে ৭৮ দশমিক শূন্য ৯ ভাগ নাইট্রোজেন, ২০ দশমিক ৯৫ ভাগ অক্সিজেন, দশমিক ৯৩ ভাগ আর্গন ও দশমিক শূন্য ৩৯ ভাগ কার্বন ডাই-অক্সাইড এবং সালফারসহ সামান্য পরিমাণ অন্যান্য গ্যাস থাকে।
বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) সর্বশেষ গবেষণা প্রতিবেদনে দেখা যায়, ঢাকার প্রতি ঘনমিটার বায়ুতে ৬৪-১৪৩ মাইক্রোগ্রাম সালফার ডাই অক্সাইড বিদ্যমান। আর প্রতি ঘন মিটার বায়ুতে নাইট্রোজেন ডাই অক্সাইড রয়েছে ২৫-৩২ মাইক্রোগ্রাম। যা স্বাভাবিকের তুলনায় কয়েকগুণ বেশি। এদিকে, মে-জুন মাস কালবৈশাখী ঝড়ের মৌসুম হলেও বড় কোনো ঝড় বা বৃষ্টিপাত ছাড়াই সামান্য ঝড়ো বাতাসের সঙ্গেই ঘটছে বজ্রপাতের ঘটনা। আর এতে করে মারা যাচ্ছে বহু মানুষ। কালো মেঘ সৃষ্টির পেছনে বাতাসে নাইট্রোজেন ও সালফার গোত্রের গ্যাসের পরিমাণ বেড়েছে ঝড়ো বাতাসের প্রভাবে দ্রুতগতির কালো মেঘের মধ্যে ঘর্ষণ ও সংঘর্ষের ফলে সৃষ্টি হওয়া ইলেকট্রনের প্রবাহ থেকেই বজ্রপাতের সৃষ্টি হয়। ইলেকট্রনের প্রবাহকেই বিজ্ঞানের ভাষায় বিদ্যুৎ বলা হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সাদা মেঘের উপাদানের অধিকাংশই জলীয়বাষ্প বা পানির কণা হয়। ফলে সাদা মেঘে ঘর্ষণের বা সংঘর্ষের ফলে যথেষ্ট ইলেকট্রন সৃষ্টি হয় না। কিন্তু কালো মেঘে নাইট্রোজেন ও সালফার গোত্রের গ্যাসের পরিমাণ বেশি থাকায় দ্রুত গতির কারণে এ সব যৌগিক গ্যাসের মধ্যে সংঘর্ষে প্রচুর পরিমাণ ইলেকট্রনের সৃষ্টি হয়। আর এ সব ইলেকট্রন বাতাসের জলীয়বাষ্পের মাধ্যমে ভূমিতে চলে আসে এবং সৃষ্টি হয় বজ্রপাতের। বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি, শিল্পায়ন ও নগরায়নের ফলে অতিমাত্রায় নাইট্রোজেন, সালফার ও কার্বন গ্যাসের নিঃসরণের পরিমাণ বেড়ে গেছে। এ সব গ্যাস মেঘের জলীয় কণার সঙ্গে মিশে যায়। মে-জুন মাসে ঋতু পরিবর্তনের কারণে বাতাসে প্রচুর জলীয়বাষ্প সৃষ্টি হয়। ফলে স্বাভাবিক বায়ুপ্রবাহের কারণে এ সব জলীয়বাষ্প উপরের দিকে উঠতে থাকে। এতে কালো মেঘের মধ্যকার ঘর্ষণে তৈরি হওয়া ইলেকট্রন বা বিদ্যুৎ এ সব জলীয় কণাকে মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করে ভূমিতে চলে আসে। কালো মেঘে থাকা যৌগিক গ্যাসগুলো রোদের তাপে এবং বাতাসের দ্রুতগতির কারণে প্লাজমা (বিক্রিয়ার অনুকূল) অবস্থায় থাকে। এতে সামান্য ঘর্ষণ বা সংঘর্ষে এ সব যৌগ গ্যাস পরস্পরের মধ্যে বিক্রিয়া ঘটায়। ফলে সৃষ্টি হয় প্রচুর পরিমাণ ইলেক্ট্রনের। মেঘের জলীয় কণায় এসব গ্যাসের পরিমাণ যত বাড়বে ইলেকট্রন বা বিদ্যুৎ সৃষ্টির পরিমাণও ততটা বাড়বে।
বজ্রপাতের কারণ হিসেবে নওগাঁ সরকারি কলেজের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ শরিফুল ইসলাম খান বলেন, তাপমাত্রা উঠানামার কারণ এবং নিয়ম না মেনে মোবাইলের টাওয়ার বসানোর কারণে বজ্রপাত হয়ে থাকে। বিশেষজ্ঞদের মতে, আকাশে যে মেঘ তৈরি হয় তার ২৫ থেকে ৭৫ হাজার ফুটের মধ্যে বজ্রপাতের ঘটনা ঘটে বেশি। এ এলাকায় তড়িৎ প্রবাহের মধ্যে সবচেয়ে বেশি সংঘর্ষ ঘটে। এখানে খাড়াভাবে যে বজ্রপাতের সৃষ্টি হয় তার তাপমাত্রা ৩০ হাজার থেকে ৫০ হাজার ডিগ্রি ফারেনহাইট। বজ্রপাতের গতিও প্রতি সেকেন্ডে ৬০ হাজার মিটার বেগে নিচে বা উপরের দিকে চলে যায়। ফলে এ পরিমাণ তাপসহ বজ্রপাত মানুষের দেহের ওপর পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই মৃত্যৃ হওয়া স্বাভাবিক। সাধারণত আকাশের ৪ মাইল সীমার মধ্যে মেঘের সৃষ্টি হয়। এ সীমার উপরে পানি, বাতাস থাকলেও তা ঠান্ডা এবং হাল্কা পরিমাণে থাকে। আকাশের এ সীমার মধ্যে বিভিন্ন ধরনের মেঘের সৃষ্টি হয়। এর মধ্যে কালো বা ঘন কালো মেঘ থেকে বেশি বজ্রপাতের ঘটনা ঘটে।
বজ্রপাতের কারণ ও প্রকৃতি সম্পর্কে বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের তড়িৎ কৌশল বিভাগের সাবেক প্রধান ও বর্তমান সিন্ডিকেট সদস্য অধ্যাপক মোঃ আবদুল মতিন বলেন, ‘প্রাকৃতিক ঘটনা হলেও জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণে বজ্রপাতের পরিমাণ অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। কার্বন, নাইট্রোজেন ও সালফার গ্যাসের পরিমাণ যত বাড়বে বজ্রপাতের পরিমাণও ততটা বাড়তে থাকবে। আর ভূমিতে বজ্রপাত ঘটার পেছনে অপরিকল্পিত মোবাইল নেটওয়ার্কের টাওয়ারও দায়ী।’
আবদুল মতিন বলেন, ‘মোবাইল টাওয়ারগুলো উচ্চতার কারণে বজ্রপাতের প্রথম শিকার হওয়ার কথা। কিন্তু আর্থ কানেকশন (ভূ-সংযোগ) ব্যবস্থা উন্নত হওয়ায় এবং বজ্রপাতের বিদ্যুতের প্রবাহকে অন্যদিকে সরিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা বা প্রযুক্তি এ সব টাওয়ারে রয়েছে। একই সঙ্গে এ সব টাওয়ার অত্যধিক ইলেক্ট্রো-ম্যাগনেটিক ফিল্ড (তড়িৎ চৌম্বকক্ষেত্র) সৃষ্টি করায় বজ্রপাতে তৈরি হওয়া ইলেকট্রনও টাওয়ারগুলোর দিকে আকৃষ্ট হয়। আর উচ্চপ্রযুক্তির কারণে বজ্রপাতের বিদ্যুৎ এ সব টাওয়ার কিছুটা ভূ-সংযোগের মাধ্যমে কমিয়ে ফেলে বাকিটা অন্যদিকে সরিয়ে দেয়। ফলে যত্রতত্র বজ্রপাতের ঘটনা ঘটছে।’
আবদুল মতিন আরও বলেন, ‘একেকটি বজ্রপাতের সময় প্রায় ৬০০ মেগা ভোল্ট বিদ্যুৎ প্রবাহিত হয়। বাসাবাড়িতে আমরা যে বিদ্যুৎ ব্যবহার করছি তার ক্ষমতা মাত্র ২২০ ভোল্ট। শিল্পকারখানায় ১২০০ ভোল্টের বিদ্যুৎ ব্যবহার হয়। আর জাতীয় গ্রিডে ১১ হাজার ভোল্টের বিদ্যুৎ প্রবাহিত হয়। একজন মানুষের মৃত্যুর জন্য মাত্র ১১০ ভোল্ট বিদ্যুতই যথেষ্ট।’ (উল্লেখ্য, ১ মেগা ভোল্ট=১০ লাখ ভোল্ট, এই হিসাবে একেকটি বজ্রপাতের সময় প্রায় ৬০ কোটি ভোল্ট বিদ্যুৎ উৎপন্ন হয়)।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ