ঢাকা, বুধবার 18 April 2018, ৫ বৈশাখ ১৪২৫, ১ শাবান ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

খুলনায় স্কুল ব্যাংকিংয়ে জমা ৯৪ কোটি টাকা

খুলনা অফিস : স্কুলের কোমলমতি শিক্ষার্থীদের সঞ্চয়ে আগ্রহী করতে স্কুল ব্যাংকিং কার্যক্রম শুরু করা হয়। বর্তমানে খুলনায় স্কুল ব্যাংকিং হিসেবে শিক্ষার্থীদের ৯৩ কোটি ৯৫ লাখ ২ হাজার টাকা জমা রয়েছে। এ পরিমাণ টাকা জমার বিপরীতে হিসাব রয়েছে এক লাখ চুয়ান্ন হাজার চারশ’ সত্তরটি। তবে বর্তমানে এই হিসাবের প্রতি শিক্ষার্থীদের অনীহা প্রকাশ পাচ্ছে।
জানা গেছে, স্কুল পর্যায়ের কোমলমতি শিক্ষার্থীদের সঞ্চয়ের প্রতি আগ্রহ বৃদ্ধি করতে চালু করা হয় স্কুল ব্যাংকিং। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশে সকল সরকারি ও বাণিজ্যিক ব্যাংকে এই হিসাব খোলা হয়। ২০১০ সালে এক আড়ম্বরপূর্ণ পরিবেশে এই হিসাবের যাত্রা শুরু করা হয়। প্রথম দিকে ব্যাংকগুলো এই হিসাবে শিক্ষার্থীদের আগ্রহ বৃদ্ধি করার জন্য প্রচারণা চালাতো। একই সাথে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যেয়ে স্কুল ব্যাংকিংবিষয়ক ক্যাম্পেইন পরিচালনা করতো। কিন্তু বর্তমানে সে ধরনের প্রচারণা না থাকায় এই হিসাবে শিক্ষার্থীদের আগ্রহ বৃদ্ধি পাচ্ছে না বরং অনীহা প্রকাশ পাচ্ছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক খুলনা শাখা সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ ব্যাংক খুলনা শাখার আওতাধীন ব্যাংকগুলোতে স্কুল ব্যাংকিং হিসাবে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ৯৩ কোটি ৯৫ লাখ ২২ হাজার টাকা জমা রয়েছে। স্কুল ব্যাংকিং কার্যক্রম শুরু অর্থাৎ ২০১০ সাল থেকে ২০১৭ সালের ৩১ ডিসেম্বর সময় পর্যন্ত এই টাকা জমা হয়। ব্যাংকগুলো থেকে ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে স্কুল ব্যাংকিং এর রিপোর্ট প্রদান করায় চলতি সময় পর্যন্ত এই হিসেবে তথ্য সরবরাহ করতে পারেনি বাংলাদেশ ব্যাংক খুলনা শাখা। এদিকে শুরু থেকে ২০১৭ সালের শেষ দিন পর্যন্ত স্কুল ব্যাংকিং হিসাবে শিক্ষার্থীরা হিসাব খুলেছে এক লাখ ৫৪ হাজার ৪৭০টি। প্রতি মাসে গড়ে শিক্ষার্থীদের এই হিসাবে ১০০টি হিসাব খোলা হয়।
খুলনা জিলা স্কুলের প্রধান শিক্ষক মো. আরিফুল ইসলাম বলেন, স্কুল ব্যাংকিং হিসাবের প্রথম দিকে ব্যাংকগুলো প্রতিষ্ঠানে এসে বিভিন্ন ধরনের ক্যাম্পেইন পরিচালনা করতেন। বর্তমানে সেগুলো করেন না। এ কারণে শিক্ষার্থীদের আগ্রহ কমে যাচ্ছে। আর যারা করে তাদের অভিভাবক নিজ উদ্যোগে করেন।
সরকারি করোনেশন মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. ইদ্রিস আলী আযিযী বলেন, শিক্ষার্থীদের মধ্যে এই হিসাবের প্রতি তেমন কোন আগ্রহ দেখা যায় না। আর কোন শিক্ষার্থী তাদের কাছে এসে এ বিষয়ে কিছু বলেও না।
খুলনা সিটি গার্লস্ স্কুলের প্রধান শিক্ষক শাহ মো. জিয়াউর রহমান স্বাধীন বলেন, সঞ্চয়ের আগ্রহ বৃদ্ধি করতে শিক্ষার্থীদের প্রেরণা ও উদ্বুদ্ধ করা প্রয়োজন। শুরুর দিকে ব্যাংকগুলো এগুলো করতেন। কিন্তু বর্তমানে এ ধরনের কোন প্রচারণা করা হয় না। এ কারণে শিক্ষার্থীদের স্কুল ব্যাংকিং হিসাবের প্রতি অনীহা সৃষ্টি হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক খুলনা শাখার উপ-পরিচালক ও দায়িত্বপ্রাপ্ত তথ্য প্রদানকারী কর্মকর্তা মো. তানভীর আহমেদ সিদ্দিকী বলেন, স্কুল ব্যাংকিং হিসাবে শিক্ষার্থীদের পর্যাপ্ত আগ্রহ রয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ