ঢাকা, বুধবার 18 April 2018, ৫ বৈশাখ ১৪২৫, ১ শাবান ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

ঝিনাইগাতীতে বোরো ধান ব্লাস্ট রোগে আক্রান্ত উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশংকা

ঝিনাইগাতীতে ব্লাস্ট রোগে আক্রান্ত একটি বোরো ধান ক্ষেতের ছবি

ঝিনাইগাতী (শেরপুর) সংবাদদাতা: চলতি বোরো মওসুমে ঝিনাইগাতী উপজেলার অধিকাংশ এলাকাতেই ব্লাস্ট রোগে প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। এতে ধানের উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশাংকা দেখা দিয়েছে ।মহামারী আকার ধারণ না করলেও অসংখ্য চাষির মাথায় হাত উঠেছে।
উল্লেখ্য যে গত মওসুমে  আমন ধানের বন্যায় ব্যাপক ক্ষতি হওয়ায় কৃষকরা বোরো মওসুমে তার ক্ষতি পুষিয়ে নিতে ব্যাপক হারে বোরো ধান রোপন করেছে। আবাদ হয়েছে ভাল কিন্তু থোর ধানে ব্লাস্টার রোগ দেখা দেওয়ায় এখন কৃষকরা হতাশ হয়ে পড়েছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে মাঠের পর মাঠ ধান গাছে পাতা শীষ মরে গেছে। বনগাঁও গ্রামের কৃষক মোঃ শাহ জাহান মিয়া জানান,তাঁর ২৫ শতাংশ জমির ধান একেবারেই মরে গেছে।
এছাড়া অন্যান্য কৃষকদের সাথে আলাপ করে জানা গেছে,দিন দিন ধানে ব্লাস্ট রোগ বৃদ্ধি পাচ্ছে,কীট নাশক দিয়েও কোন কাজ হচ্ছে না । উপজেলা কৃষি অফিস সুত্রে জানা গেছে এ মওসুমে বোরো ধানের লক্ষ্য মাত্রা নির্ধারন করা হয়েছে ১৪৭২৮ হেক্টর জমি ।
এতে কৃষকরা বিভিন্ন জাতের বোরো ধানের চাষ করেছে ।
সেখানে এক লক্ষাধিক মেট্রিকটন ধান উৎপাদন হওয়ার কথা কিন্তু ফলনের মুখে ব্লাস্ট রোগে আক্রমনে অসংখ্য ধান ক্ষেতে কাচা ধানের শীষ ও পাতা শুকিয়ে মরে যাচ্ছে । ফলে কৃষকরা বিপুল পরিমাণ টাকা ও শ্রম দিয়ে যে ধান চাষ করছে তা থেকে প্রত্যাশিত ফলন পাবেনা।
আরো জানা গেছে ,কৃষকরা দীর্ঘদিন ব্রি-২৬ ও ২৮ জাতের ধান চাষ করে আসছিল । গত বছর এ ধানে ব্লাস্ট রোগ দেখা দিলে চাষিরা মারাত্মক ক্ষতির শিকার হন । আর সে কারনেই চাষিরা চলতি মওসুমে ব্রি-২৬ ও ব্রি-২৮ জাতের পরিবর্তে বিভিন্ন জাতের হাইব্রিড ধান বেশি চাষ করেছে ।আর যারা ব্রি-২৬ ও ব্রি-২৮ ধান চাষ করেছে তাদের অধিকাংশ ধানেই ব্লাস্ট আক্রান্ত হয়েছে।
তাছাড়া অন্যান্য জাতের কিছু কিছু ধানেও এ রোগে আক্রান্ত হয়েছে । ঝিনাইগাতী উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা জ্বনাব আব্দুল আউয়াল জানান, সমগ্র উপজেলার বিভিন্ন নামা ও বিলের ধানে অল্প অল্প ব্লাস্ট রোগে আক্রান্ত হতে দেখা যাচ্ছে । তাঁর মধ্য উপজেলার ৪নং গৌরীপুর,মালিঝিকান্দা,হাতিবান্দা ইউনিয়নে ব্লাস্ট রোগে আক্রান্ত বেশি ।তবে অন্যান্য ইউনিয়নগুলিতেও কিছু কিছু আক্রান্ত হতে দেখা যাচ্ছে। ঝিনাইগাতী কৃষি অফিস থেকে আক্রান্ত জমির মালিকদের বিভিন্ন রকমের ছত্রাকনাশক ব্যাবহারে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরো  বলেন যারা আমাদের পরামর্শ গ্রহন করেছেন তাদের জমির ব্লাস্ট রোগে আক্রমনের হাত থেকে নিয়ন্ত্রনে আনা সম্ভব হয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ